🏹 বিজয়াদশমী (দশেরা) 2026
আশ্বিন শুক্ল দশমী — রাবণ-দহন, অস্ত্র-পূজা, শমী-পূজন, নীলকণ্ঠ-দর্শন এবং নবরাত্রির পারণ-বিসর্জন।
বিজয়া দশমী বা দশেরা আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষ-এর দশমী-তে পালিত হয় — নবরাত্রির ঠিক পরে। এটি অধর্মের ওপর ধর্মের বিজয-এর দিন: শ্রীরাম এই দিনেই রাবণকে বধ করেছিলেন এবং মা দুর্গা মহিষাসুরকে। সন্ধ্যায় রাবণ-কুম্ভকর্ণ-মেঘনাদের কুশপুত্তলিকা দহন হয়।
বাড়িতে এই দিন অস্ত্র/সরঞ্জাম-যানবাহনের পূজা, শমী (খেজড়ি) বৃক্ষের পূজা, নবরাত্রির কলস-জওয়ারার বিসর্জন এবং নতুন শুরু — বিদ্যারম্ভ, নতুন কাজ, যাত্রা — শুভ বলে গণ্য হয়। এই দিন বিজয মুহূর্ত (অপরাহ্ণ) -এ করা যেকোনো শুভ কাজ কোনো মুহূর্ত না দেখেই সফল হয়, এমনটাই বিশ্বাস।
গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন
বিজয়া দশমী সাড়ে তিন অশুভ মুহূর্তের মধ্যে একটি — অর্থাৎ এই দিনের পুরো সময় (বিশেষ করে অপরাহ্নের বিজয-কাল) নতুন কাজ, গৃহপ্রবেশ, যানবাহন ক্রয়, বিদ্যারম্ভ, নামকরণ-এর জন্য শুভ বলে মনে করা হয়।
এই উৎসব দুটি কাহিনীকে যুক্ত করে — রামায়ণের রাবণ-বধ এবং দেবী-পুরাণের মহিষাসুর-বধ। তাই উত্তর ভারতে রামলীলা-রাবণ-দহন এবং বাংলা-দক্ষিণে দুর্গা-বিসর্জন/আয়ুধ-পূজা — উভয় রূপই একই দিনে হয়।
নারীদের জন্য এটি নবরাত্রির ব্রত সমাপ্তির দিন — জওয়ারা বিতরণ করা, কলসের জল বাড়িতে ছিটিয়ে দেওয়া, বড়দের পা ছুঁয়ে প্রণাম করা এবং শিশুদের ও ভাইদের জওয়ারা ও দই-চিঁড়ের টিকা দেওয়া।
পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)
এটি ঘরোয়া পদ্ধতি — সকালে নবরাত্রির সমাপ্তি, দুপুরে (বিজয মুহূর্ত) অস্ত্র/শমী-পুজো, সন্ধ্যায় রাবণ-দহন দেখা।
- সকালে স্নান করে মা দুর্গার শেষ পূজা করুন — প্রদীপ, ফুল, ভোগ, আরতি; নবরাত্রির পারণ (উপবাস ভাঙা) যেসব বাড়িতে দশমী-এ হয়, তারা কন্যা-ভোজন করিয়ে উপবাস ভাঙুন।
- কলসের জল পুরো বাড়িতে ছিটিয়ে দিন; জওয়ারা কেটে দেবীকে অর্পণ করুন, তারপর পরিবারের পুরুষদের টুপির নিচে/কানের পেছনে এবং বোন-মেয়েদের চুলে লাগিয়ে দিন — এটি মায়ের আশীর্বাদ।
- দুপুর বিজয মুহূর্ত (উপরের সময়) -এ অস্ত্র/সরঞ্জাম-পূজা: বাড়ির যন্ত্রপাতি, যানবাহন, বই-কলম, দোকানের দাঁড়িপাল্লা-খাতা পরিষ্কার করে রোলি-অক্ষত-ফুল অর্পণ করুন, প্রদীপ দেখান। এটি হলো «আয়ুধ-পূজা» — যে উপায়ে জীবিকা চলে, তার প্রতি সম্মান।
- শমী-পূজন: বাড়ির কাছে শমী (খেজড়ি) বা অপরাজিতা গাছে জল, রোলি, অক্ষত, ফুল অর্পণ করুন; প্রার্থনা করুন — «শমী শময়তে পাপং শমী শত্রুবিনাশিনী»। শমীর একটি পাতা ধন-স্থানে (সিন্দুকে) রাখুন।
- অপরাজিতা-পূজা: বাড়ির ঈশান (উত্তর-পূর্ব) কোণে বা খোলা জায়গায় চৌকো আকৃতি তৈরি করে অপরাজিতা দেবীর (জয়া-বিজয়া সহ) পূজা — বিজয-এর দেবী।
- নীলকণ্ঠ পাখির দর্শন এই দিনে শুভ বলে মনে করা হয় — গ্রামগুলোতে সকালে এটি দেখার রীতি রয়েছে।
- সন্ধ্যায় রামলীলা-ময়দানে রাবণ-দহন দেখুন; ফিরে এসে বাড়ির বড়দের পা ছুঁয়ে প্রণাম করুন এবং দই-চিঁড়ে-জওয়ারার টিকা নিন — বড়রা ছোটদের «বিজয়া»-র আশীর্বাদ ও নজর-টিকা দেন।
- কলস, জওয়ারা এবং প্রতিমা বিসর্জন দশমী-এ সূর্যাস্ত-এর আগে বা পারিবারিক রীতি অনুযায়ী — নদী-পুকুরে বা বাড়ির টব/গাছে। নারকেল ফাটিয়ে প্রসাদ বিতরণ করুন।
- এই দিন কোনো নতুন কাজ, শিক্ষা (বিদ্যারম্ভ), নতুন কেনাকাটা — বিজয মুহূর্ত-এ শুরু করা উত্তম।
পূজা-সামগ্রীর তালিকা
নবরাত্রির সামগ্রী আগে থেকেই বাড়িতে থাকবে; দশেরার জন্য এই জিনিসগুলো আলাদা করে দেখে নিন।
- রোলি, অক্ষত, কুমকুম, হলুদ, মৌলি
- ফুল, ফুলের মালা (গাঁদা)
- প্রদীপ, ঘি, ধূপ, কর্পূর
- শমী (খেজড়ি) বা অপরাজিতা পাতা/গাছ
- দই এবং চিঁড়ে (টিকার জন্য) — জওয়ারা আগে থেকেই বোনা
- নারকেল, মিষ্টি (জিলেপি-ফাফড়া বা বাড়ির তৈরি মিষ্টি), পান
- অস্ত্র/সরঞ্জাম/যানবাহন/বই — পরিষ্কার করে পূজা -স্থানে
- গঙ্গাজল, তামার ঘটি
- নতুন পোশাক (পরম্পরা অনুযায়ী এই দিনে নতুন কিছু পরা শুভ)
- শিশুদের জন্য তীর-ধনুক/রাবণ-পুত্তলিকা সম্বলিত বাজারের জিনিস (যদি রীতি থাকে)
🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন
সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।
পঞ্জিকা দেখুন →ব্রত-কথা
শ্রীরাম বনবাসে সীতা-হরণের পর লঙ্কার ওপর চড়াও হয়েছিলেন। যুদ্ধের আগে তিনি নয় দিন শক্তির আরাধনা করেছিলেন এবং দশম দিনে অহংকারী রাবণকে বধ করেছিলেন — তাই এই দিন রাবণ, তার ভাই কুম্ভকর্ণ এবং পুত্র মেঘনাদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। পুত্তলিকা পোড়ানো আমাদের ভেতরের অহংকার, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, ঈর্ষা, আলস্য, হিংসা, ছল এবং অধর্ম — রাবণের দশটি মাথার — দহনের প্রতীক।
দ্বিতীয় কাহিনী মা দুর্গা ও মহিষাসুরের — নয় দিনের যুদ্ধের পর দশমী-এ মা মহিষাসুরকে বধ করেন, তাই এটি বিজয়া-দশমী। বাংলায় এই দিনেই মায়ের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় — মা বাপের বাড়ি (পৃথিবী) থেকে শ্বশুরবাড়ি (কৈলাশ) ফিরে যান, তাই বিদায়ের অশ্রু ও সিঁদুর খেলা।
শমী-পূজা-এর কাহিনী মহাভারত থেকে নেওয়া — অজ্ঞাতবাসে পাণ্ডবরা তাদের অস্ত্র শমী গাছে লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং বছর পূর্ণ হওয়ার পর বিজয়া দশমীর দিনই তা নামিয়ে পূজা করেছিলেন, তারপর কৌরবদের ওপর বিজয পেয়েছিলেন। রঘু-কৌৎসের কাহিনীতে এই দিনই শমী গাছ থেকে স্বর্ণমুদ্রা বর্ষিত হয়েছিল — তাই মহারাষ্ট্রে আপটা/শমী পাতা «সোনা» বলে বিতরণ করা হয়।
দশেরার খাবার ও প্রসাদ
দশেরার দিন নবরাত্রি-ব্রত ভঙ্গ হয়, তাই বাড়িতে এই দিন প্রচুর খাবার তৈরি হয় — যারা ব্রত ভঙ্গ করছেন তারা প্রথমে হালকা খাবার খান।
- জিলেপি এবং ফাফড়া (গুজরাট-মহারাষ্ট্র-রাজস্থানে দশেরার পরিচয়), পান
- উত্তর প্রদেশ-বিহার: পুরি-কচুরি, কুমড়ো/আলুর সবজি, ক্ষীর, দই-বড়া; অনেক বাড়িতে দশেরার দিন আমিষ খাবারও (ক্ষত্রিয় ঐতিহ্য) — নিজের বাড়ির রীতি অনুযায়ী
- বাংলা: দশমী-এ মিষ্টি-মিষ্টি, নারকেলের নাড়ু, ঘুগনি; বিসর্জনের পর «বিজয়া»র শুভেচ্ছা এবং মিষ্টি বিনিময়
- দক্ষিণ: পায়েসম, বড়া, পুলিহোরা — আয়ুধ-পূজা -এর প্রসাদ
- ব্রত ভঙ্গকারী নারীরা প্রথমে ফল-দই, তারপর ধীরে ধীরে ভারী খাবার গ্রহণ করুন
বিভিন্ন এলাকার রীতি
দশেরা প্রতিটি রাজ্যে ভিন্ন রূপে পালিত হয় — রাবণ-দহন, দুর্গা-বিসর্জন, আয়ুধ-পূজা, সোনা বিতরণ।
দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।
✅ মিল গিলি-রিডিং 1-2 দিনে একই পৃষ্ঠায় যোগ করবে। ধন্যবাদ!কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ পাঠানো হচ্ছেকী করবেন, কী করবেন না
✅ কী করবেন
- বিজয মুহূর্ত (অপরাহ্ন)-এ নতুন কাজ, কেনাকাটা, বিদ্যারম্ভ শুরু করুন — এটি একটি অশুভ মুহূর্ত
- অস্ত্র-সরঞ্জাম-যানবাহন-বইয়ের পূজা করুন — জীবিকার উপায়ের প্রতি সম্মান
- শমী গাছের পাতা সিন্দুকে রাখুন, জওয়ারা বড়-ছোটদের মধ্যে বিতরণ করুন
- বড়দের পা ছুঁয়ে «বিজয়া»-র আশীর্বাদ নিন
- নবরাত্রির প্রতিমা-কলস বিসর্জন সম্মানের সাথে, নোংরা নর্দমায় নয় — বাড়ির টবেও করা যেতে পারে
❌ কী করবেন না
- রাবণ-দহনের সময় বাজি ও ভিড়ের মধ্যে শিশুদের একা ছাড়বেন না
- শস্ত্র-পূজা-এর নামে অস্ত্র নিয়ে খেলাধুলা/ফাঁকা গুলি চালানো — একেবারেই নয়।
- জওয়ারা বা পূজা -সামগ্রী আবর্জনায় ফেলবেন না
- উপবাস ভাঙার পর ভারী-ভাজা খাবার খাবেন না
- নবরাত্রির অখণ্ড জ্যোতি দশমী-এর পূজা-এর আগে নেভাবেন না
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
দশেরা 2026 -এ কবে?
উপরে দেওয়া তারিখটি এই বছরের বিজয়া দশমী — আশ্বিন শুক্ল দশমী, পঞ্জিকা-গণনা অনুযায়ী; অপরাহ্নের বিজয মুহূর্ত-ও উপরে দেওয়া আছে।
বিজয মুহূর্ত কী এবং কেন বিশেষ?
দশমী -এর অপরাহ্ণ (দুপুরের পর) -এর সেই সময় যখন শ্রীরাম যুদ্ধ-যাত্রা করেছিলেন — প্রায় 48 মিনিটের উইন্ডো, উপরে দিল্লির জন্য দেওয়া হয়েছে। নতুন কাজ, যানবাহন, গৃহপ্রবেশ, বিদ্যারম্ভ এতে কোনো আলাদা মুহূর্ত ছাড়াই শুভ হয়।
দশেরার দিন কি নবরাত্রির উপবাস ভাঙা হয়?
অনেক পরিবার নবমী-এ হবন-কন্যা-পুজোর পরে এবং অনেকে দশমী-এর সকালে পূজা করে পারণ করেন — উভয়ই মান্য। আপনার বাড়ির রীতি মেনে চলুন।
শমী গাছের পূজা কেন করা হয়?
মহাভারতে পাণ্ডবরা তাদের অস্ত্র শমী গাছে লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং বিজয়া দশমীতে তা নামিয়ে বিজয পেয়েছিলেন; শমীকে শনি এবং অগ্নির গাছও মনে করা হয় — এর পাতা সিন্দুকে রাখলে ধন-স্থিরতা বজায় থাকে বলে বিশ্বাস।
দশেরার দিন কি নতুন জিনিস কেনা যায়?
হ্যাঁ, এটি সাড়ে তিনটে অশুভ মুহূর্তের মধ্যে একটি — যানবাহন, সোনা, বাড়ি, ইলেকট্রনিক্স, নতুন বই-কলম, সবকিছুর জন্যই শুভ। বিজয যদি মুহূর্ত-এ হয় তবে আরও উত্তম।
আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।
✅ নথিভুক্ত হয়েছে — পরের ব্রতের একদিন আগে বার্তা আসবে।কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ নথিভুক্ত হচ্ছে…📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান
আরও পড়ুন: শারদীয়া নবরাত্রি — নয় দিন · শরদ পূর্ণিমা (দশেরার 5 দিন পর) · করওয়া চৌথ · শুভ মুহূর্ত
⚠️ এই বিবরণটি প্রচলিত পদ্ধতি ও লোক-মান্যতার উপর ভিত্তি করে; আপনার কুল-পরিবারের রীতিই সর্বোপারি।
🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার