🏹 বিজয়া দশমী (দশেরা) 2027
আশ্বিন শুক্ল দশমী — রাবণ-দহন, অস্ত্র-পূজা, শমী-পূজন, নীলকণ্ঠ-দর্শন এবং নবরাত্রির পারণ-বিসর্জন।
বিজয়াদশমী বা দশেরা আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমীতে উদযাপিত হয় — নবরাত্রির ঠিক পরেই। এটি অধর্মের ওপর ধর্মের বিজয়ের দিন: শ্রীরাম এই দিনেই রাবণকে বধ করেছিলেন এবং মা দুর্গা মহিষাসুরকে। সন্ধ্যায় রাবণ-কুম্ভকর্ণ-মেঘনাদের পুতুল দহন করা হয়।
এই দিনে ঘরে অস্ত্র/সরঞ্জাম-বাহন পূজা, শমী (খেজড়ি) বৃক্ষ পূজা, নবরাত্রির কলশ-জবারা (যব বা অঙ্কুরিত শস্য) বিসর্জন এবং নতুন সূচনা — বিদ্যাারম্ভ, নতুন কাজ, যাত্রা — শুভ বলে মনে করা হয়। এই দিনে বিজয় মুহূর্তে (দুপুরে) করা যেকোনো শুভ কাজ মুহূর্ত না দেখেই সফল হয়, এমনই বিশ্বাস।
গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন
বিজয়াদশমী সাড়ে তিনটে অবুঝ মুহূর্তের অন্যতম — অর্থাৎ এই দিনটির পুরো সময়টা (বিশেষ করে অপরাহ্নের বিজয়-কাল) নতুন কাজ, গৃহপ্রবেশ, বাহন ক্রয়, বিদ্যারম্ভ, নামকরণের জন্য শুভ বলে বিবেচিত হয়েছে।
এই উৎসব দুটি কাহিনীকে যুক্ত করে — রামায়ণের রাবণ-বধ এবং দেবীপুরাণের মহিষাসুর-বধ। তাই উত্তর ভারতে রামলীলা-রাবণ-দহন এবং বাংলা-দক্ষিণে দুর্গা-বিসর্জন/আয়ুধ-পূজা — দুটি রূপই একই দিনে হয়।
নারীদের জন্য এটি নবরাত্রির ব্রত উদযাপনের দিন — জবারা বিতরণ করা, কলশের জল ঘরে ছিটানো, গুরুজনদের পা ছুঁয়ে প্রণাম করা এবং শিশু-ভাইদের জবারা ও দই-ছাঁচিযুক্ত চালের তিলক দেওয়া।
পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)
এটি পারিবারিক বিধি — সকালে নবরাত্রির সমাপ্তি, দুপুরে (বিজয় মুহূর্তে) অস্ত্র/শমী-পূজন, সন্ধ্যায় রাবণ-দহন দর্শন।
- সকালে স্নান করে মা দুর্গার অন্তিম পূজা করুন — দীপ, ফুল, ভোগ, আরতি; যে পরিবারগুলিতে দশমীতে নবরাত্রির পারণ (ব্রত ভঙ্গ) হয়, তারা কন্যা ভোজন করিয়ে ব্রত ভঙ্গ করুন।
- কলশের জল পুরো ঘরে ছিটান; জবারা কেটে দেবীকে অর্পণ করুন, তারপর পরিবারের পুরুষদের টুপি/কানের পেছনে এবং বোন-কন্যাদের খোঁপায় গুঁজে দিন — এটি মায়ের আশীর্বাদ।
- দুপুর বিজয় মুহূর্তে (ওপরে উল্লেখিত সময়ে) অস্ত্র/উপকরণ পূজা: ঘরের যন্ত্রপাতি, বাহন, বই-কলম, দোকানের দাঁড়িপাল্লা-খাতা পরিষ্কার করে রোঁলী-অক্ষত-ফুল অর্পণ করুন, প্রদীপ দেখান। এটি «আয়ুধ-পূজা» — যে সাধনের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ হয়, তার সম্মান।
- শমী-পূজন: ঘরের কাছের শমী (খেজড়ি) বা অপরাজিতা গাছকে জল, রোঁলী, অক্ষত, ফুল অর্পণ করুন; প্রার্থনা করুন — «শমী শময়তে পাপং শমী শত্রুবিনাশিনী»। শমীর একটি পাতা ধন-স্থানে (সিন্দুকে) রাখুন।
- অপরাজিতা-পূজা: ঘরের ঈশান (উত্তর-পূর্ব) কোণে বা খোলা জায়গায় চৌকো আকৃতি তৈরি করে অপরাজিতা দেবী (জয়া-বিজয়া সহ) পূজা — বিজয়ের দেবী।
- এই দিনে নীলকণ্ঠ পাখির দর্শন শুভ বলে মনে করা হয় — গ্রামে সকালে এটি দেখার প্রচলন রয়েছে।
- সন্ধ্যায় রামলীলা-মাঠে রাবণ-দহন দেখুন; ফিরে এসে ঘরের গুরুজনদের পা ছুঁয়ে প্রণাম করুন এবং দই-চাল-জবারার তিলক নিন — বড়রা ছোটদের «বিজয়ার» আশীর্বাদ ও নজর-তিলক দেন।
- কলশ, জবারা এবং প্রতিমা বিসর্জন দশমীতে সূর্যাস্তের আগে বা পরিবারের রীতি অনুযায়ী — নদী-পুকুরে কিংবা ঘরের টবে/গাছে। নারকেল ফাটিয়ে প্রসাদ বিতরণ করুন।
- এই দিনে কোনো নতুন কাজ, শিক্ষা (বিদ্যারম্ভ), নতুন ক্রয় — বিজয় মুহূর্তে শুরু করা উত্তম।
📿 বিজয়া দশমী (দশেরা) কীভাবে পালন করবেন — বিস্তারিত বিধি, সামগ্রী checklist ও নিয়ম →
পূজা-সামগ্রীর তালিকা
নবরাত্রির সামগ্রী আগে থেকেই ঘরে থাকবে; দশেরার জন্য এই জিনিসগুলো আলাদা করে দেখে নিন।
- রোঁলী, অক্ষত, কুংকুম, হলুদ, মওলী
- ফুল, ফুলের মালা (গাঁদা)
- প্রদীপ, ঘি, ধূপ, কর্পূর
- শমী (খেজড়ি) বা অপরাজিতার পাতা/গাছ
- দই ও চাল (তিলকের জন্য) — জবারা আগে থেকেই রোপণ করা
- নারকেল, মিষ্টি (জিলিপি-ফাফড়া বা ঘরের মিষ্টি), পান
- অস্ত্র/সরঞ্জাম/বাহন/বই — পরিষ্কার করে পূজা-স্থানে
- গঙ্গাজল, তামার ঘটি
- নতুন বস্ত্র (ঐতিহ্য অনুযায়ী এই দিনে নতুন পরা শুভ)
- শিশুদের জন্য তির-ধনুক/রাবণ-পুতুল সংক্রান্ত বাজার-সামগ্রী (যদি রীতি থাকে)
🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন
সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।
পঞ্জিকা দেখুন →ব্রত-কথা
শ্রীরাম বনবাসে সীতা-হরণের পর লঙ্কার দিকে অগ্রসর হন। যুদ্ধের আগে তিনি নয় দিন শক্তির আরাধনা করেন এবং দশম দিন অহংকারী রাবণকে বধ করেন — সেই কারণেই এই দিনে রাবণ, তার ভাই কুম্ভকর্ণ এবং পুত্র মেঘনাদের পুতুল পোড়ানো হয়। পুতুলের পোড়া আমাদের ভেতরের অহংকার, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, ঈর্ষা, আলস্য, হিংসা, ছল এবং অধর্ম — রাবণের দশটি মাথা — দগ্ধ করার প্রতীক।
📖 বিজয়া দশমী (দশেরা)-র সম্পূর্ণ ব্রত-কথা পড়ুন →
দশরার খাবার এবং প্রসাদ
দশরার দিন নবরাত্রি-ব্রত ভাঙা হয়, তাই বাড়িতে এই দিন প্রচুর খাবার তৈরি হয় — যাঁরা ব্রত ভাঙছেন তাঁরা প্রথমে হালকা খাবার খান।
- জিলিপি এবং ফাফড়া (গুজরাট-মহারাষ্ট্র-রাজস্থানে দশরার পরিচিতি), পান
- উত্তরপ্রদেশ-বিহার: লুচি-কচুরি, কুমড়ো/আলুর তরকারি, পায়েস, দই-বড়া; অনেক পরিবারে দশরায় আমিষ খাবারও (ক্ষত্রিয় ঐতিহ্য) — নিজেদের বাড়ির রীতিনীতি অনুযায়ী
- বাংলা: দশমীতে মিষ্টি, নারকেলের নাড়ু, ঘুঘনি; বিসর্জনের পর «বিজয়া»র শুভেচ্ছা এবং মিষ্টি আদান-প্রদান
- দক্ষিণ: পাযসম, বড়া, পুলিহোরা — আয়ুধ-পূজার প্রসাদ
- যে নারীরা ব্রত ভাঙছেন তাঁরা প্রথমে ফল-দই, তারপর ধীরে ধীরে ভারী খাবার খান
বিভিন্ন এলাকার রীতি
দশরা প্রতিটি প্রদেশে আলাদা রূপে পালিত হয় — রাবণ-দহন, দুর্গা-বিসর্জন, আয়ুধ-পূজা, সোনা বিতরণ।
দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।
✅ মিল গিলি-রিডিং 1-2 দিনে একই পৃষ্ঠায় যোগ করবে। ধন্যবাদ!কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ পাঠানো হচ্ছেকী করবেন, কী করবেন না
✅ কী করবেন
- বিজয় মুহূর্তে (দুপুরবেলা) নতুন কাজ, কেনাকাটা, বিদ্যারম্ভ শুরু করুন — এটি অত্যন্ত শুভ মুহূর্ত
- অস্ত্র-উপকরণ-যানবাহন-বইয়ের পূজা করুন — জীবিকার উপায়ের সম্মান করুন
- শমীর পাতা সিন্দুকে রাখুন, জওয়ারা বড় ও ছোটদের মধ্যে বিতরণ করুন
- বড়দের পা ছুঁয়ে «বিজয়া»র আশীর্বাদ নিন
- নবরাত্রির প্রতিমা-কলশ শ্রদ্ধার সাথে বিসর্জন দিন, কোনো নোংরা নর্দমায় নয় — বাড়ির টবেও করা যেতে পারে
❌ কী করবেন না
- রাবণ-দহনের সময় পটকা ও ভিড়ের মধ্যে শিশুদের একা ছাড়বেন না
- অস্ত্র-পূজার নামে অস্ত্র নিয়ে খেলাধুলা বা ফাঁকা গুলি ছোঁড়া — একেবারেই নয়
- জওয়ারা বা পূজার সামগ্রী ময়লা ফেলবেন না
- ব্রত ভাঙামাত্রই ভারী বা ভাজা খাবার খাবেন না
- নবরাত্রির অখণ্ড প্রদীপ দশমীর পূজার আগে নেভাবেন না
🔱 নবরাত্রি ও দশেরা
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
দশরা 2027 সালে কবে?
ওপরে দেওয়া তিথিটি এই বছরের বিজয়াাদশমী — আশ্বিন শুক্ল দশমী, পঞ্জিকা গণনা অনুযায়ী; অপরাহ্নের বিজয় মুহূর্তও ওপরে দেওয়া আছে।
বিজয় মুহূর্ত কী এবং কেন বিশেষ?
দশমীর অপরাহ্নে (দুপুরের পর) সেই সময় যখন শ্রীরাম যুদ্ধযাত্রার জন্য রওনা হন — প্রায় ৪৮ মিনিটের সময়সীমা, ওপরে দিল্লির জন্য দেওয়া হয়েছে। নতুন কাজ, বাহন, গৃহপ্রবেশ, বিদ্যারম্ভ এর মধ্যে আলাদা কোনো শুভ মুহূর্ত ছাড়াই করা যায়।
দশরা কি নবরাত্রির ব্রত ভাঙা হয়?
অনেক পরিবার নবমীতে হোম-কন্যা পূজার পরে এবং অনেকে দশমীর সকালে পূজা করে পারণ করেন — দুটিই গ্রহণযোগ্য। আপনার পরিবারের রীতিনীতি মেনে চলুন।
শমীর পূজা কেন করা হয়?
মহাভারতে পাণ্ডবরা তাঁদের অস্ত্র শমী গাছে লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং বিজয়াাদশমীতে তা নামিয়ে বিজয় লাভ করেছিলেন; শমীকে শনি এবং অগ্নির গাছও মনে করা হয় — এর পাতা সিন্দুকে রাখলে ধনসম্পদ স্থির থাকে বলে বিশ্বাস।
দশরায় কি নতুন জিনিস কেনা যায়?
হ্যাঁ, এটি আড়াই বা সাড়ে তিনটে শুভ মুহূর্তের মধ্যে একটি — বাহন, সোনা, বাড়ি, ইলেকট্রনিক্স, নতুন বই-কলম, সবকিছুর জন্যই শুভ। বিজয় মুহূর্তে হলে আরও ভালো।
আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।
✅ নথিভুক্ত হয়েছে — পরের ব্রতের একদিন আগে বার্তা আসবে।কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ নথিভুক্ত হচ্ছে…📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান
🌎 বিদেশে বিজয়া দশমী (দশেরা) 2027: আমেরিকা · কানাডা · যুক্তরাজ্য · অস্ট্রেলিয়া · সংযুক্ত আরব আমিরাত · কাতার · সৌদি আরব · কুয়েত · ওমান · বাহরাইন · সিঙ্গাপুর · মালয়েশিয়া · নিউজিল্যান্ড · দক্ষিণ আফ্রিকা · মরিশাস · ফিজি · নেদারল্যান্ডস · জার্মানি · আয়ারল্যান্ড
আরও পড়ুন: শারদীয়া নবরাত্রি — নয় দিন · শরদ পূর্ণিমা (দশেরার 5 দিন পর) · করওয়া চৌথ · শুভ মুহূর্ত
⚠️ এই বিবরণ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ও লোকবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি; আপনার বংশ ও পরিবারের রীতিনীতিই সর্বেসর্বা।
🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার
