🪔 ব্রত-উৎসব

🌙 মাসিক শিবরাত্রি 2026

✍️ জ্যোতিষাচার্য আদিত্য ধর দ্বিবেদী · 🔎 শেষ পর্যালোচনা: · 🧮 গণনা-পদ্ধতি

পরের মাসিক শিবরাত্রি কবে — প্রতি মাসে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীর রাতে (নিশীথকালে) শিবপূজা, চার প্রহরের অভিষেক, রাত্রি-জাগরণ; ফাল্গুনের মহাশিবরাত্রি এর মহারূপ; কুমারী ও সধবাদের ব্রত; উপরে নিশীথকাল ও আসন্ন তিথি।

পরবর্তী মাসিক শিবরাত্রি
শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
কার্তিক মাসিক শিবরাত্রি
কার্তিক · কৃষ্ণ পক্ষ · চতুর্দশী (বিক্রম সংবত 2083)
🌌 নিশীথ কাল11:38 PM – 12:31 AM
🪔 প্রদোষ কাল5:32 PM – 7:56 PM
🌇 সূর্যাস্ত5:32 PM
📿 তিথি-কালচতুর্দশী 7 নভেম্বর, 10:48 AM → 8 নভেম্বর, 11:28 AM
⛔ রাহু কাল (এড়িয়ে চলুন)09:20 AM – 10:42 AM
আসন্ন তিথিগুলি
  • কার্তিক মাসিক শিবরাত্রি — শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
  • মার্গশীর্ষ মাসিক শিবরাত্রি — সোমবার, 7 ডিসেম্বর 2026
  • পৌষ মাসিক শিবরাত্রি — মংগলবার, 5 জানুয়ারি 2027
  • মাঘ মাসিক শিবরাত্রি — গুরুবার, 4 ফেব্রুয়ারি 2027
  • মহা শিবরাত্রি (ফাল্গুন) — শনিবার, 6 মার্চ 2027
  • চৈত্র মাসিক শিবরাত্রি — সোমবার, 5 এপ্রিল 2027
  • বৈশাখ মাসিক শিবরাত্রি — মংগলবার, 4 মে 2027
  • জ্যেষ্ঠ মাসিক শিবরাত্রি — গুরুবার, 3 জুন 2027
  • আষাঢ় মাসিক শিবরাত্রি — শুক্রবার, 2 জুলাই 2027
  • শ্রাবণ মাসিক শিবরাত্রি — শনিবার, 31 জুলাই 2027
  • ভাদ্রপদ মাসিক শিবরাত্রি — সোমবার, 30 আগস্ট 2027
  • আশ্বিন মাসিক শিবরাত্রি — মংগলবার, 28 সেপ্টেম্বর 2027
সময় দিল্লি (আই. এস. টি) কে, সুইস এপিহেমেরিস-গণনা, উদীয়মান-তারিখের নিয়ম। চন্দ্রোদয়/সূর্যোদয় প্রতিটি শহরে পরিবর্তিত হয় -

মাসিক শিবরাত্রি প্রতি চান্দ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে — অমাবস্যার এক দিন আগে, যখন চাঁদ প্রায় মিলিয়ে যায়; এই তিথি নিশীথকালে (মাঝরাতে) থাকা চাই — সেই রাতই শিবরাত্রি। পূজা রাতে — নিশীথকালে (উপরে সময়) ও চার প্রহরে অভিষেক; ব্রত সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয় পর্যন্ত, পারণ চতুর্দশী শেষ হলে।

ফাল্গুন কৃষ্ণা চতুর্দশীর **মহাশিবরাত্রি** এর বার্ষিক মহারূপ (আলাদা পাতা); শ্রাবণের মাসিক শিবরাত্রি দ্বিতীয় বড়। শাস্ত্রকথা আছে, শিবরাত্রির রাতে শিব লিঙ্গরূপে প্রকট হন/শিব-পার্বতীর বিয়ে — তাই কুমারীরা মনের মতো বরের জন্য আর সধবারা সৌভাগ্যের জন্য রাখেন। উপরে পরের মাসিক শিবরাত্রির তারিখ, নিশীথ-প্রদোষের সময় (দিল্লি) ও আসন্ন 12টি তিথি মাসের নাম-সহ; নিচে বিধি, চার প্রহরের পূজা, উপকরণ, কথা, আহার ও নানা অঞ্চলের রীতি।

গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন

শিবপুরাণ/স্কন্দপুরাণ: কৃষ্ণা চতুর্দশীর রাত শিবের প্রিয় — এই রাতেই অগ্নিস্তম্ভ (লিঙ্গোদ্ভব) প্রকট হয়েছিল, যা ব্রহ্মা-বিষ্ণু মাপতে পারেননি; এই রাতের জাগরণ-অভিষেক সারা বছরের পাপ হরণ করে; টানা 12/14 বছর মাসিক শিবরাত্রির ব্রত রাখলে বিবাহ-সন্তান-মোক্ষ (লোকবিশ্বাস); চতুর্দশী নিশীথ-ব্যাপিনী — যে রাতের মাঝখানে চতুর্দশী থাকে সেটিই ব্রতের দিন (উপরের তালিকা এই নিয়মেই — কখনও ত্রয়োদশীর সন্ধ্যা থেকে শুরু)।

চার প্রহরের পূজা: প্রথম প্রহর (সন্ধ্যা — দুধে অভিষেক), দ্বিতীয় (রাত — দই), তৃতীয় (মধ্যরাত — ঘি), চতুর্থ (ভোর — মধু/চিনি); প্রতি প্রহরে «ওঁ নমঃ শিবায়», বেলপাতা, আরতি; গৃহস্থেরা অন্তত নিশীথকালে (মাঝরাত ± 24 মিনিট — উপরে) একবার পূজা করুন।

মহাশিবরাত্রি ও শ্রাবণ-শিবরাত্রিতে কাঁওয়ারিয়াদের জলাভিষেক; মাসিক শিবরাত্রিতে শিবমন্দিরে রাত্রি-আরতি; কুণ্ডলীতে চন্দ্র-দোষ/মঙ্গল/শনির পীড়া, বিয়েতে দেরি হলে মাসিক শিবরাত্রির ব্রত লোকপ্রসিদ্ধ প্রতিকার; প্রদোষ (ত্রয়োদশী) + শিবরাত্রি (চতুর্দশী) পরপর দুদিন শিবের — «প্রদোষ-শিবরাত্রি যুগল»।

পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)

এটি মাসিক শিবরাত্রির ঘরোয়া বিধি — দিনের উপবাস, রাতে নিশীথকালে শিবপূজা (সম্ভব হলে চার প্রহর), জাগরণ, পরদিন সকালে পারণ।

  1. সকাল: স্নান, শিব-স্মরণ, সংকল্প — «মাসিক শিবরাত্রি ব্রত, (কামনা)-র জন্য, রাত্রি-পূজা ও জাগরণ, কাল সূর্যোদয়ের পর পারণ»; দিনে ফলাহার/নির্জলা (সামর্থ্য অনুযায়ী); শিবমন্দির-দর্শন, জল-বেলপাতা।
  2. সন্ধ্যা (প্রদোষ — উপরে সময়): পূজার জায়গায় শিবলিঙ্গ (পার্থিব — মাটি দিয়ে বানিয়েও) বা শিব-পার্বতীর ছবি, উত্তর-পূর্বে; কলস, প্রদীপ; প্রথম প্রহর — দুধে অভিষেক, বেলপাতা, «ওঁ নমঃ শিবায়» 108 বার, শিব-চালিসা।
  3. রাত (দ্বিতীয় প্রহর): দইয়ে অভিষেক, ধুতরো-আকন্দ-শমী-ভাং, চন্দন-ভস্ম; রুদ্রাষ্টক/শিব-তাণ্ডব-স্তোত্র; শিবরাত্রির কথা (নিচে — শিকারি/লিঙ্গোদ্ভব) শোনা।
  4. নিশীথকাল (উপরে সময় — তৃতীয় প্রহর): ঘি/পঞ্চামৃতে অভিষেক, গঙ্গাজল, 108টি বেলপাতা (সম্ভব হলে — প্রতিটি পাতায় «ওঁ নমঃ শিবায়»), পৈতে, সাদা ফুল, আতর; পার্বতীকে সধবার সাজ-সামগ্রী; মহামৃত্যুঞ্জয় 108/11 বার; আরতি «ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা», কর্পূর; এই পূজা অবশ্যকর্তব্য — বাকি প্রহর সামর্থ্য অনুযায়ী।
  5. ভোর (চতুর্থ প্রহর): মধু/চিনি/আখের রসে অভিষেক, তারপর জল; শেষ আরতি; জাগরণ — সারারাত ভজন-কীর্তন/শিবনাম (না পারলে নিশীথ-পূজার পর ঘুমোন, ভোরে উঠে চতুর্থ প্রহর)।
  6. পারণ: পরদিন সূর্যোদয়ের পর, চতুর্দশী শেষ হলে (অমাবস্যা লাগার পর — উপরে তিথি-সময়সীমা); আগে শিবের প্রসাদ (ফল-পঞ্চামৃত), তারপর সাত্ত্বিক আহার; ব্রাহ্মণ/দরিদ্রকে দান।
  7. পার্থিব শিবলিঙ্গ (অনেক বাড়িতে): ভেজা মাটি (নদীর/শুদ্ধ) দিয়ে বুড়ো আঙুলের মাপের শিবলিঙ্গ গড়ে পূজা, পরদিন সকালে জলে বিসর্জন — শ্রাবণ-শিবরাত্রি ও মহাশিবরাত্রিতে বিশেষ।
  8. মেয়েদের রীতি: কুমারীরা মনের মতো বরের জন্য (পার্বতী-পূজা, 108টি বেলপাতা), সধবারা সৌভাগ্য রক্ষার জন্য; 12/14টি মাসিক শিবরাত্রির সংকল্প → মহাশিবরাত্রিতে উদ্যাপন (শিব-হোম, দম্পতি-ভোজন); ঋতুকালে পূজা নয় — স্মরণ-জপ; গর্ভবতীরা ফলাহার, জাগরণ নয়।

📿 কিভাবে একটি সাধারণ যৌনসঙ্গম করতে হয়-বিস্তারিত পদ্ধতি, উপাদানের চেকলিস্ট এবং নিয়ম

পূজা-সামগ্রীর তালিকা

চার প্রহরের অভিষেক-দ্রব্য, 108টি বেলপাতা, পার্থিবের মাটি, জাগরণের কথার বই — মাসিক শিবরাত্রির তালিকা।

  • শিবলিঙ্গ (পারদ/নর্মদেশ্বর/স্ফটিক) বা পার্থিব (শুদ্ধ মাটি) বা শিব-পার্বতীর ছবি, চৌকি, সাদা কাপড়, কলস
  • চার প্রহরের অভিষেক: দুধ, দই, ঘি, মধু, চিনি, আখের রস, গঙ্গাজল, ডাবের জল, পঞ্চামৃত
  • 108টি বেলপাতা (3 পাতার, আস্ত), ধুতরোর ফল-ফুল, আকন্দ (মাদার), শমী, ভাং, দূর্বা, সাদা ফুল (জুঁই-করবী), নীলপদ্ম (সম্ভব হলে)
  • চন্দন, ভস্ম, অক্ষত, পৈতে, মৌলি (লাল সুতো), রোলি-হলুদ-কুমকুম, আতর (কেওড়া-চন্দন), পান-সুপারি-লবঙ্গ-এলাচ
  • পার্বতী: সধবার সাজ-সামগ্রী (চুড়ি-টিপ-সিঁদুর-ওড়না), লাল ফুল
  • প্রদীপ (ঘি — সম্ভব হলে সারারাত অখণ্ড), ধূপ, কর্পূর, আরতির থালা, ঘণ্টা-ডমরু
  • নৈবেদ্য: ফল (কুল-কলা-আপেল — মহাশিবরাত্রিতে কুল), পঞ্চমেওয়া, পায়েস, হালুয়া, ঠান্ডাই/ভাং-দুধ, মিছরি
  • কথা/স্তোত্র: শিবরাত্রির কথা, রুদ্রাষ্টক, শিব-তাণ্ডব, মহামৃত্যুঞ্জয়, শিব-চালিসা; রুদ্রাক্ষের মালা; ভজন
  • ফলাহার: ফল, দুধ, সাবু, কুট্টু (বাকহুইট), সৈন্ধব লবণ; পারণ: সাত্ত্বিক আহার, দানের সামগ্রী

🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন

📅 আপনার শহরের পঞ্জিকা

সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।

পঞ্জিকা দেখুন →

ব্রত-কথা

শিকারির কথা (শিবপুরাণ): এক শিকারি শিকার না পেয়ে রাতে একটি বেলগাছে বসেছিল, যার নিচে ছিল শিবলিঙ্গ; জেগে থাকতে ও নিচে দেখতে সে পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে ফেলতে থাকল — অজান্তে 108টি বেলপাতা শিবলিঙ্গে পড়ল; সারারাত না খেয়ে না জল পান করে (অজান্তে ব্রত-জাগরণ); চারবার হরিণ-পরিবার এল, প্রতিবার দয়া করে ছেড়ে দিল (চার প্রহর); ভোরে শিব প্রকট হলেন — «অজান্তে করা শিবরাত্রি-পূজায় তোর পাপ কেটে গেল»; শিকারির মোক্ষ, হরিণ-পরিবার হল তারা (মৃগশিরা)। শিক্ষা — শিবরাত্রির রাতে বেলপাতা-জাগরণ-দয়ার ফল অজান্তেও অনন্ত।

📖 পবিত্র নবরাত্রির পুরো উপবাসের গল্পটি পড়ুন

ফল-পঞ্চামৃত-ঠান্ডাই, কুল, কুট্টু — শিবরাত্রির ফলাহার ও পারণ

শিবরাত্রিতে দিন-রাত উপবাস — ফলাহার (ফল-দুধ-সাবু-কুট্টু-সৈন্ধব লবণ) বা নির্জলা; শিবকে ফল (কুল-কলা), পঞ্চমেওয়া, পায়েস, ঠান্ডাই/ভাং-দুধ (কিছু রীতিতে), ধুতরো-ভাং (শিবের প্রিয়, খাওয়ার জন্য নয়); পরদিন সকালে সাত্ত্বিক পারণ — খিচুড়ি/ডাল-ভাত-তরকারি, হালুয়া; রাতে অন্ন নয়।

  • ফলাহার: ফল (আপেল-কলা-পেয়ারা-কুল), দুধ-দই-ঘোল, মাখানা, সাবুর খিচুড়ি/পায়েস, কুট্টু/পানিফলের আটার পুরি-পকোড়া, আলু-রাঙাআলু, সৈন্ধব লবণ; নির্জলা যাঁরা — কিছুই নয়
  • শিবের নৈবেদ্য: পঞ্চামৃত, ফল, পঞ্চমেওয়া, পায়েস (চাল/মাখানা), হালুয়া, মিছরি, ঠান্ডাই (বাদাম-মৌরি-গোলমরিচ-গোলাপ — ভাং ঐচ্ছিক, কেবল রীতি অনুযায়ী)
  • চার প্রহর: প্রথমে দুধ, দ্বিতীয়ে দই, তৃতীয়ে ঘি, চতুর্থে মধু/চিনি — অভিষেকের দ্রব্যই প্রসাদ-রূপে (পঞ্চামৃত)
  • পারণ (পরদিন সকাল): খিচুড়ি (মুগ-চাল) / ডাল-ভাত-তরকারি, হালুয়া-পুরি, দই; আগে ব্রাহ্মণ/দরিদ্রকে অন্নদান
  • আঞ্চলিক: মহারাষ্ট্র (শিবরাত্র) — সাবুদানা-খিচড়ি, রতালে (রাঙাআলু), ভগর (শ্যামা চাল); দক্ষিণ (মাসিক শিবরাত্রি/শিবরাত্রি) — ফল-দুধ, পরদিন সকালে পোঙ্গল-পায়সম; বাংলা (শিব-চতুর্দশী) — ফল-দুধ-মিছরি, পারণে খিচুড়ি; গুজরাট (শিবরাত্রি) — ফরাল, সোমনাথের পালকি

বিভিন্ন এলাকার রীতি

কাশী-উজ্জয়িনীর রাত্রি-আরতি, দক্ষিণের চার প্রহরের পূজা, বাংলার শিব-চতুর্দশী, কাঁওয়ারের শ্রাবণ-শিবরাত্রি — প্রতি মাসের শিবের রাত।

উত্তরপ্রদেশ-বিহার-মধ্যপ্রদেশ-রাজস্থান: মাসিক শিবরাত্রিতে শিবমন্দিরে রাত্রি-আরতি (কাশী-বিশ্বনাথের সপ্তর্ষি/শয়ন-আরতি, উজ্জয়িনী-মহাকালের ভস্ম-আরতি পরদিন ভোরে), মহাশিবরাত্রিতে চার প্রহর ও শিবের বরযাত্রা; শ্রাবণ-শিবরাত্রিতে কাঁওয়ারিয়াদের জলাভিষেক (কাশী-হরিদ্বার-বৈজনাথ); মেয়েরা 12/14টি মাসিক শিবরাত্রির সংকল্প নেন; রাজস্থানে একলিঙ্গজি (উদয়পুর)-পরশুরাম-মহাদেব, বিহারে দেওঘর-গুপ্তেশ্বর।
তামিলনাড়ু-কর্ণাটক-অন্ধ্র-কেরল: «মাসিক শিবরাত্রি/মাস শিবরাত্রি» দক্ষিণে প্রাণবন্ত — মন্দিরে সারারাত চার যামের (প্রহরের) পূজা-অভিষেক (চিদম্বরম-তিরুভান্নামালাই-শ্রীশৈলম-গোকর্ণ), «শিবরাত্রি ব্রতম্» উপবাস-জাগরণ, পরদিন সকালে পারণ; তামিলে কার্তিগাই-সোমবার ও মাসিক শিবরাত্রি একসঙ্গে; কর্ণাটকে «মাস-শিবরাত্রি» ধর্মস্থল-মুরুদেশ্বর; কেরলে বৈক্কম-এট্টুমানুরের শিবরাত্রি, আলুভা-শিবরাত্রি (পেরিয়ারের তীরে, সঙ্গে পিতৃ-বলি)।
মহারাষ্ট্র-গুজরাট-গোয়া: মহারাষ্ট্রে «শিবরাত্র» — জ্যোতির্লিঙ্গে (ত্র্যম্বক-ভীমাশঙ্কর-ঘৃষ্ণেশ্বর) রাত্রি-পূজা, সাবুদানার উপবাস, মহাশিবরাত্রিতে মেলা; গুজরাটে সোমনাথের মহাশিবরাত্রি (পালকি-যাত্রা), জুনাগড়ের ভবনাথ-মেলা (নাগা সাধু), মাসিক শিবরাত্রিতে উপবাস; গোয়ায় মঙ্গেশী-শান্তাদুর্গার শিবরাত্রি।
বাংলা-ওড়িশা-অসম: বাংলায় «শিব-চতুর্দশী» — মহাশিবরাত্রিতে কুমারী মেয়েদের চার প্রহরের ব্রত (চারবার দুধ-দই-ঘি-মধুতে শিবের স্নান, বেলপাতা), তারকেশ্বর; মাসিকে কম, তবে শ্রাবণ-চতুর্দশী; ওড়িশায় লিঙ্গরাজের «শিবরাত্রি/জাগর» — রাতে মহাদীপ (শিখর-দীপ), মাসিকে «শিবরাত্রি-ওষা»; অসমে শিবসাগরের শিবদৌল।
পাঞ্জাব-হরিয়ানা-দিল্লি-হিমাচল-উত্তরাখণ্ড: দিল্লি-হরিয়ানার শিবমন্দিরে মাসিক শিবরাত্রির রাত্রি-আরতি, মহাশিবরাত্রিতে সাজানো ঝাঁকি ও শিবের বরযাত্রা; হিমাচলে মান্ডির শিবরাত্রি (আন্তর্জাতিক মেলা — দেবতা-মিলন), বৈজনাথ; উত্তরাখণ্ডে কেদারনাথ-তুঙ্গনাথ-জাগেশ্বর, নীলকণ্ঠ (ঋষিকেশ); পাঞ্জাবে শিবমন্দিরে চতুর্দশী-পূজা।
নেপাল ও অন্যত্র: পশুপতিনাথ (কাঠমান্ডু) — মহাশিবরাত্রিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ (ভারত-নেপালের সাধুরা), মাসিক শিবরাত্রিতে রাত্রি-আরতি; নেপালে «শিবরাত্রি» জাতীয় পার্বণ; প্রবাসী পরিবার বাড়িতে পার্থিব শিবলিঙ্গ ও নিশীথ-পূজা করেন — উপরের নিশীথ-সময় নিজের শহরের সূর্যাস্ত-সূর্যোদয় অনুযায়ী মাঝরাতের ±24 মিনিট বলে ধরুন।
🙏 আপনার বাড়ির রীতিনীতি এর থেকে আলাদা? এখানে লিখুন

দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।

প্রতিটি পোস্ট করা রীতিনীতি আগে পড়া হয়-অশ্লীল/বিজ্ঞাপন/ভুল যোগ করা হয় না।

কী করবেন, কী করবেন না

✅ কী করবেন

  • পূজা রাতে — নিশীথকাল (উপরে সময়) অবশ্যই; সম্ভব হলে চার প্রহর; জাগরণ
  • বেলপাতা (108টি — আস্ত, উল্টো করে), দুধ-দই-ঘি-মধু ক্রমে অভিষেক; «ওঁ নমঃ শিবায়»/মহামৃত্যুঞ্জয়
  • পারণ পরদিন সকালে চতুর্দশী শেষ হলে (তিথি-সময়সীমা); আগে দান
  • কুমারীরা পার্বতী-পূজা (বরের জন্য), 12/14টি শিবরাত্রির সংকল্প → মহাশিবরাত্রিতে উদ্যাপন
  • অসুস্থ/গর্ভবতীরা ফলাহার ও কেবল নিশীথ-পূজা; জাগরণ নয়

❌ কী করবেন না

  • শিবলিঙ্গে তুলসী, কেতকী, হলুদ, সিঁদুর, শাঁখের জল; ভাঙা বেলপাতা; কুমকুম (শিবের উপর — পার্বতীর উপর চলে)
  • ব্রতের রাতে ঘুম (জাগরণের নিয়ম — তবে স্বাস্থ্য আগে), অন্নভোজন, তামসিক, নেশা (ভাং-মদ — শিবের প্রসাদের নামে নেশা নয়)
  • দিনে পূজা সেরে রাত বাদ দেওয়া (শিবরাত্রি রাত্রি-ব্রত)
  • কালো পোশাক, রাগ, মিথ্যা, ঝগড়া; অমাবস্যা লাগার পরেও অভিষেক-পূজা চালিয়ে যাওয়া (পারণের সময়)
  • পার্থিব শিবলিঙ্গ নর্দমা/আবর্জনায় — জলে বা গাছের গোড়ায় বিসর্জন দিন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পরের মাসিক শিবরাত্রি কবে? 2026-এর তিথিগুলি?

উপরে পরের মাসিক শিবরাত্রির তারিখ, নিশীথকাল ও প্রদোষ-সময় (দিল্লি) আর আসন্ন 12টি শিবরাত্রি মাসের নাম-সহ (ফাল্গুনের মহাশিবরাত্রি আলাদা করে লেখা) দেওয়া আছে — নিশীথ-ব্যাপিনী চতুর্দশীর নিয়মে; কখনও সূর্যোদয়ের তিথি ত্রয়োদশী থাকে আর রাতে চতুর্দশী — ব্রত সেই রাতেই; নিজের শহরের পঞ্জিকা মিলিয়ে নিন।

মাসিক আর মহাশিবরাত্রিতে তফাত কী?

মাসিক শিবরাত্রি প্রতি কৃষ্ণা চতুর্দশীতে (12 বার); মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন কৃষ্ণা চতুর্দশীতে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) — শিব-পার্বতীর বিয়ে/লিঙ্গোদ্ভবের রাত, চার প্রহর ও জাগরণ সবচেয়ে বড়, কাঁওয়ার, মেলা; বিধি একই, মহাশিবরাত্রিতে ফল বহুগুণ; শ্রাবণের মাসিক শিবরাত্রি দ্বিতীয় বড় (কাঁওয়ারের জলাভিষেক)।

নিশীথকাল কী আর পূজা রাতেই কেন?

রাতের মধ্যবিন্দু (সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয়ের অর্ধেক) ± এক দণ্ড (24 মিনিট) — মোটামুটি 11:40-12:30; শিবরাত্রি «রাত্রি-ব্রত» — লিঙ্গোদ্ভব ও শিবের বিয়ে মধ্যরাতে, তাই মুখ্য পূজা নিশীথে; চার প্রহর = সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয়ের চার ভাগ; উপরে নিশীথ ও প্রদোষ দুই সময়ই আছে।

চার প্রহরের পূজা বাড়িতে কীভাবে করবেন?

প্রথম প্রহর (সূর্যাস্ত ~6-9) দুধে অভিষেক, দ্বিতীয় (9-12) দই, তৃতীয় (12-3 — নিশীথ) ঘি/পঞ্চামৃত, চতুর্থ (3-6 ভোর) মধু-চিনি; প্রতিবার বেলপাতা-«ওঁ নমঃ শিবায়»-আরতি; না পারলে নিশীথের একটি পূজাই যথেষ্ট; অ্যালার্ম দিয়ে উঠুন; স্বাস্থ্য অনুমতি দিলে জাগরণ।

কুমারী মেয়েরা মাসিক শিবরাত্রি কেন রাখেন?

শিবরাত্রি শিব-পার্বতীর বিয়ের রাত — পার্বতী ব্রত করে শিবকে পেয়েছিলেন; কুমারীরা মনের মতো বর ও তাড়াতাড়ি বিয়ের জন্য 12/14টি মাসিক শিবরাত্রি (বা শুধু মহাশিবরাত্রি + শ্রাবণের) রাখেন, পার্বতীকে সধবার সাজ-সামগ্রী, 108টি বেলপাতা; বিয়েতে দেরি হলে লোকপ্রসিদ্ধ — সঙ্গে কুণ্ডলী-বিচার।

পারণ কখন আর কী দিয়ে?

পরদিন সকালে সূর্যোদয়ের পর, যখন চতুর্দশী শেষ হয়ে অমাবস্যা লাগে (উপরে তিথি-সময়সীমা); চতুর্দশী সূর্যোদয়ের পরও অনেকক্ষণ থাকলে সেটি শেষ হলে; আগে শিবের প্রসাদ ও দান, তারপর সাত্ত্বিক আহার (খিচুড়ি-ডাল-ভাত); রাতে অন্ন নয়।

🔔 মনে করিয়ে দিন — প্রতি ব্রতের একদিন আগে

আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।

বার্তা Nakshtra Tak-এর তরফ থেকে আসবে; নম্বর অন্য কাউকে দেওয়া হয় না।

📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান

🌎 বিদেশে মাসিক শিবরাত্রি 2026: আমেরিকা · কানাডা · যুক্তরাজ্য · অস্ট্রেলিয়া · সংযুক্ত আরব আমিরাত · কাতার · সৌদি আরব · কুয়েত · ওমান · বাহরাইন · সিঙ্গাপুর · মালয়েশিয়া · নিউজিল্যান্ড · দক্ষিণ আফ্রিকা · মরিশাস · ফিজি · নেদারল্যান্ডস · জার্মানি · আয়ারল্যান্ড

আরও পড়ুন: মহা শিবরাত্রি (ফাল্গুন) · প্রদোষ ব্রত (এক দিন আগে) · সোমবার / শ্রাবণ-সোমবার · অমাবস্যা (পরের দিন)

⚠️ এই বিবরণ প্রথাগত বিধি ও লোকবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে; নিজের কুল-পরিবার ও অঞ্চলের রীতিই সর্বোপরি। নিশীথ-সময় দিল্লির — নিজের শহরের পঞ্জিকা দেখুন; জাগরণ/নির্জলা স্বাস্থ্য অনুযায়ী; ভাং ইত্যাদি নেশা নয়।

🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার