Nakshtra Takকুণ্ডলীরাশিফলপঞ্জিকামিলানজ্ঞানগ্রহ-ফলজ্যোতিষীStore
🪔 ব্রত-উৎসব

🌗 একাদশী ব্রত 2026

✍️ জ্যোতিষাচার্য আদিত্য ধর দ্বিবেদী · 🔎 শেষ পর্যালোচনা: · 🧮 গণনা-পদ্ধতি

পরের একাদশী কবে — প্রতি মাসে দুটি একাদশী — কৃষ্ণ ও শুক্লপক্ষের একাদশ তিথি; বিষ্ণুর ব্রত, ভাত-শস্য নিষিদ্ধ, পরদিন দ্বাদশীতে পারণ; 24টি একাদশীর নাম ও ফল, উপরে আসন্ন 12টি তিথি।

পরবর্তী একাদশী ব্রত
বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
পাপঙ্কুশা একাদশী
আশ্বিন · শুক্ল পক্ষ · একাদশী (বিক্রম সংবত 2083)
🌅 সূর্যোদয়6:26 AM
📿 তিথি-কালএকাদশী 21 অক্টোবর, 2:12 PM → 22 অক্টোবর, 2:48 PM
⭐ অভিজিৎ মুহূর্ত11:41 AM – 12:29 PM
🪔 প্রদোষ কাল5:45 PM – 8:09 PM
⛔ রাহুকাল (এড়িয়ে চলুন)01:30 PM – 02:55 PM
আসন্ন তিথিগুলি
  • পাপঙ্কুশা একাদশী — গুরুবার, 22 অক্টোবর 2026
  • রমা একাদশী — গুরুবার, 5 নভেম্বর 2026
  • দেউঠনী (প্রবোধিনী) একাদশী — শুক্রবার, 20 নভেম্বর 2026
  • ফলন একাদশী শুক্রবার, 4 ডিসেম্বর 2026
  • মোক্ষ একাদশী রবিবার, 20 ডিসেম্বর 2026
  • সফলা একাদশী — রবিবার, 3 জানুয়ারি 2027
  • পৌষ পুত্রদা একাদশী — মংগলবার, 19 জানুয়ারি 2027
  • ষটতিলা একাদশী — মংগলবার, 2 ফেব্রুয়ারি 2027
  • জয়া একাদশী — বুধবার, 17 ফেব্রুয়ারি 2027
  • বিজয় একাদশী বুধবার, 3 মার্চ 2027
  • আমালাকি একাদশী গুরুবার, 18 মার্চ 2027
  • পাপমোচনী একাদশী — শুক্রবার, 2 এপ্রিল 2027
সময় দিল্লি (আই. এস. টি) কে, সুইস এপিহেমেরিস-গণনা, উদীয়মান-তারিখের নিয়ম। চন্দ্রোদয়/সূর্যোদয় প্রতিটি শহরে পরিবর্তিত হয় -

একাদশী প্রতিটি চান্দ্রমাসে দুবার আসে — কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষের একাদশ তিথি; বছরে 24টি (অধিক মাস থাকলে 26টি)। এটি ভগবান বিষ্ণুর সবচেয়ে বড় ব্রত — পদ্মপুরাণে একে «ব্রতের জননী» বলা হয়েছে; এদিন ভাত ও শস্য খাওয়া হয় না, ফলাহার বা নির্জলা থেকে বিষ্ণুপূজা, রাত্রি-জাগরণ, আর পরদিন দ্বাদশীতে পারণ করা হয়।

প্রতিটি একাদশীর নিজস্ব নাম ও কথা আছে — নির্জলা, দেবশয়নী, কামিকা, দেবউঠনী, মোক্ষদা, ষটতিলা, আমলকী… উপরে এই মাসের ও আসন্ন 12টি একাদশীর তিথি নামসহ দেওয়া আছে (দিল্লির সূর্যোদয়-তিথি অনুযায়ী); বাড়ির মেয়েরা সাধারণত দুটি একাদশীই, বা শুধু শুক্লপক্ষের একাদশী পালন করেন। নিচে ব্রতের বিধি, কী খাবেন-কী খাবেন না, পারণের নিয়ম, 24টি একাদশীর তালিকা, ব্রতকথা আর বিভিন্ন অঞ্চলের রীতি।

গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন

পদ্মপুরাণ: একাদশীর দিনে অন্নে (বিশেষত ভাতে) পাপের বাস; ব্রতে পাপনাশ, বিষ্ণুলোক লাভ, মনোবাঞ্ছা পূরণ; নির্জলা একাদশী (জ্যৈষ্ঠ শুক্ল) একাই 24টির ফল দেয়; দেবশয়নী থেকে দেবউঠনী পর্যন্ত চাতুর্মাস্যের একাদশীগুলি বিশেষ; মোক্ষদা (গীতা জয়ন্তী), পুত্রদা (সন্তান), জয়া-বিজয়া (সাফল্য), আমলকী (আমলকী ফল), পাপমোচনী।

ব্রতের সময়-নিয়ম: উদয়া-তিথির (সূর্যোদয়ের সময় একাদশী) দিনটিই ব্রতের দিন; একাদশী দুটি সূর্যোদয় ছুঁলে (তিথি-বৃদ্ধি) স্মার্তরা প্রথম দিন, বৈষ্ণবরা দ্বিতীয় দিন; দশমী-বিদ্ধা হলে (সূর্যোদয়ের আগে দশমীর অংশ থাকলে) বৈষ্ণবরা পরের দিন ব্রত করেন — তাই কখনও পঞ্জিকায় «স্মার্ত/বৈষ্ণব একাদশী» আলাদা লেখা থাকে; উপরের তিথিগুলি স্মার্ত (গৃহস্থ) নিয়মে।

পারণ দ্বাদশীতে সূর্যোদয়ের পরে, হরিবাসর (দ্বাদশীর প্রথম চতুর্থাংশ) পেরিয়ে গেলে, দ্বাদশী শেষ হওয়ার আগে — দ্বাদশী ছেড়ে ত্রয়োদশীতে পারণ দোষ বলে ধরা হয়; পারণে ভাত শুভ। আয়ুর্বেদের দৃষ্টিতে: পক্ষে একদিন লঘু আহার — হজমের বিশ্রাম, চন্দ্রের প্রভাব (একাদশীতে চন্দ্রের বল মনের উপর তীব্র — সংযমের দিন)।

পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)

এটি গৃহস্থের সহজ একাদশী-বিধি — দশমীর সন্ধ্যা থেকে দ্বাদশীর পারণ পর্যন্ত; যে-কোনও একাদশীতে একই, নামকরা একাদশীগুলির নিজস্ব বিশেষ রীতি তাদের পাতায়।

  1. দশমীর সন্ধ্যা: সাত্ত্বিক আহার (ভাত-মুসুর-রসুন-পেঁয়াজ নয় — অনেক বাড়িতে), সূর্যাস্তের পর কিছু নয়; ব্রহ্মচর্য; তুলসীপাতা আজই তুলে রাখুন (একাদশীতে তুলসী তোলা নিষেধ)।
  2. একাদশীর সকাল: ব্রাহ্মমুহূর্তে/সূর্যোদয়ে স্নান, হলুদ বস্ত্র; সংকল্প — «(নাম) একাদশীর ব্রত, নির্জলা/ফলাহার, দ্বাদশীতে পারণ»; বিষ্ণু/লক্ষ্মী-নারায়ণ/শালগ্রামের পূজা — পঞ্চামৃত, হলুদ চন্দন, তুলসীপাতা (অবশ্যই), হলুদ ফুল, ধূপ-দীপ, নৈবেদ্য (ফল-পঞ্জিরি-মাখনা-পায়েস), «ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়» 108 বার, বিষ্ণুসহস্রনাম/সেই একাদশীর ব্রতকথা।
  3. দিনে: নির্জলা (সামর্থ্য থাকলে) বা ফলাহার — ফল, দুধ, শুকনো ফল, সাবু, কুট্টু-পানিফল, আলু, সৈন্ধব লবণ; ভাত-গম-ডাল-বেগুন-মুসুর-তেল-মশলা নয়; দিনে ঘুম নয়, মিথ্যা-ঝগড়া-রাগ নয়; গীতা/ভাগবত পাঠ, বিষ্ণুনাম জপ।
  4. সন্ধ্যা (প্রদোষ): বিষ্ণুর আরতি, তুলসীতলায় প্রদীপ, «ওঁ জয় জগদীশ হরে»; রাত্রি-জাগরণ — ভজন-কীর্তন/বিষ্ণুসহস্রনাম (সম্ভব হলে; না হলে তাড়াতাড়ি শুয়ে ভোরে উঠুন)।
  5. দান: একাদশীতে অন্ন-বস্ত্র-জল-ছাতা (ঋতু অনুযায়ী), হলুদ জিনিস, গরুর খাবার; দ্বাদশীতে ব্রাহ্মণ/গরিবকে খাইয়ে তবে নিজে পারণ।
  6. দ্বাদশী — পারণ (উপরে তিথির সময়সীমা দেখুন): সূর্যোদয়ের পরে, হরিবাসর এড়িয়ে, দ্বাদশী থাকতে থাকতে; প্রথমে তুলসী-জল/চরণামৃত, তারপর ভাতসহ সাত্ত্বিক আহার (ভাত-ডাল-তরকারি-পায়েস); দ্বাদশী দুপুরের আগে শেষ হলে ভোর-ভোর পারণ — সঠিক সময় পঞ্জিকায়।
  7. মেয়েদের রীতি: ঋতুকালে পূজা নয়, তবে ব্রতের ফলাহার-রূপটি রাখা যায় (অনেক পরম্পরায়); গর্ভাবস্থায়/স্তন্যদানের সময় ফলাহার-দুধ; স্বামী-স্ত্রী দুজনেই রাখলে পারণ একসঙ্গে।
  8. উদ্যাপন: টানা সারা বছর/চাতুর্মাস্যের একাদশীগুলি পালন করে দেবউঠনী বা উৎপন্না একাদশীতে উদ্যাপন — বিষ্ণুপূজা, হোম, 12 জন ব্রাহ্মণ-ভোজন, দান; তারপরও ব্রত চলতে থাকুক।

পূজা-সামগ্রীর তালিকা

বিষ্ণুপূজার সামগ্রী + ফলাহারের জিনিস — প্রতিটি একাদশীর তালিকা।

  • বিষ্ণু/লক্ষ্মী-নারায়ণের ছবি বা শালগ্রাম, হলুদ কাপড়, চৌকি, কলস, আমপাতা, নারকেল
  • তুলসীপাতা (দশমীতে তোলা), পঞ্চামৃত, গঙ্গাজল, হলুদ চন্দন, অক্ষত (তিল/যব — চাল নয়), হলুদ ফুল-মালা
  • ধূপ, ঘিয়ের প্রদীপ, কর্পূর, আরতির থালা, মৌলি (লাল সুতো), পান-সুপারি, দক্ষিণা
  • নৈবেদ্য: ফল (কলা-আপেল-ডালিম), পঞ্জিরি, মাখনার পায়েস, প্যাঁড়া, মিছরি, কেশর-দুধ
  • ফলাহার: সাবু, কুট্টু/পানিফলের আটা, আলু-রাঙা আলু, সামা (বরই) চাল, চিনেবাদাম, সৈন্ধব লবণ, দই, ফল, শুকনো ফল
  • পাঠ: বিষ্ণুসহস্রনাম, গীতা, সেই একাদশীর ব্রতকথা (একাদশী-মাহাত্ম্য বই)
  • দান: অন্ন, বস্ত্র, জলপাত্র, ছাতা/কম্বল (ঋতু অনুযায়ী), হলুদ বস্ত্র-ছোলা
  • পারণ: ভাত-ডাল-তরকারি-পায়েস, তুলসী-জল

🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন

📅 আপনার শহরের পঞ্জিকা

সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।

পঞ্জিকা দেখুন →

ব্রত-কথা

একাদশী-দেবীর উৎপত্তি (উৎপন্না একাদশী — মার্গশীর্ষ কৃষ্ণ): মুর নামে এক দৈত্য দেবতাদের হারিয়ে স্বর্গ জয় করে নিল; বিষ্ণু তার সঙ্গে যুদ্ধ করে ক্লান্ত হয়ে বদরিকাশ্রমের গুহায় যোগনিদ্রায় গেলেন; ঘুমন্ত বিষ্ণুকে মুর আঘাত করতে চাইলে বিষ্ণুর শরীর থেকে এক তেজস্বিনী কন্যা প্রকট হয়ে মুরকে বধ করলেন — বিষ্ণু তাঁকে «একাদশী» নাম ও বর দিলেন: «যে তোমার তিথিতে ব্রত করবে, তার পাপ নষ্ট হবে, সে আমার প্রিয় হবে»। এই থেকেই একাদশী বিষ্ণুপ্রিয়া, আর অন্নত্যাগ (মুরের বাস অন্নে — লোকবিশ্বাস)।

অম্বরীষ-দুর্বাসা: রাজা অম্বরীষ দ্বাদশীর পারণের সময় দুর্বাসা ঋষির ফেরার অপেক্ষায় থেকে (পারণের মর্যাদা রাখতে) জল খেয়ে পারণ করলেন; ক্রুদ্ধ দুর্বাসা কৃত্যা পাঠালেন, বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র ঋষির পিছু নিল — শেষে অম্বরীষের ক্ষমায় তিনি রক্ষা পেলেন; শিক্ষা — পারণ দ্বাদশীতেই, জল দিয়েও পারণ মান্য, ভক্তকে বিষ্ণু রক্ষা করেন।

রুক্মাঙ্গদ-মোহিনী (নারদপুরাণ): রাজা রুক্মাঙ্গদ সারা রাজ্যে একাদশী-ব্রত বাধ্যতামূলক করলেন — যমলোক খালি হয়ে গেল; ব্রহ্মা মোহিনীকে পাঠালেন, সে রাজার কাছে চাইল — হয় একাদশী ভাঙো, নয়তো পুত্র ধর্মাঙ্গদের মাথা দাও — রাজা ব্রত ভাঙলেন না, বিষ্ণু প্রকট হলেন, পুত্র-রাজা সবাই বৈকুণ্ঠ পেলেন। প্রতিটি একাদশীর নিজস্ব কথা (পদ্ম/ভবিষ্য/স্কন্দপুরাণ) ব্রতের দিনে পড়া হয় — নামকরা একাদশীগুলির পাতায়।

ফলাহার — সাবু, কুট্টু, সামা, ফল, দুধ; পারণ ভাত দিয়ে

একাদশীতে অন্ন নিষিদ্ধ — বিশেষত ভাত, গম, ডাল, বেগুন, মুসুর, পেঁয়াজ-রসুন; ফলাহারে সাবু-কুট্টু-পানিফল-সামা-আলু-ফল-দুধ-শুকনো ফল, সৈন্ধব লবণ; বিষ্ণুর ভোগ তুলসীসহ; দ্বাদশীর পারণ ভাত-ডাল দিয়ে; অঞ্চলভেদে ফরাল (মহারাষ্ট্র-গুজরাট), উপবাস-সদ্য (দক্ষিণ), নির্জলা (বিহার-উত্তরপ্রদেশের কঠোর রীতি)।

  • সাবুর খিচুড়ি/বড়া/পায়েস (চিনেবাদাম-আলু-সৈন্ধব লবণ), সামা (বরই/ভগর) চালের ভাত-পায়েস, রাজগিরার লাড্ডু/পরোটা
  • কুট্টু/পানিফলের আটার পুরি-পকোড়া-চিলা, জিরে-আলু, রাঙা আলু, কচু, লাউ-কুমড়োর তরকারি, দই-রায়তা (সৈন্ধব লবণ)
  • ফল (কলা-আপেল-পেঁপে-ডালিম-আঙুর), ডাবের জল, দুধ, ঘোল, মাখনা, শুকনো ফল, খেজুর; নির্জলা যাঁরা — কিছুই নয়
  • বিষ্ণুর ভোগ: পঞ্জিরি, মাখনার পায়েস, কেশর-দুধ, ফল, প্যাঁড়া — তুলসীপাতা ছাড়া ভোগ অসম্পূর্ণ
  • মহারাষ্ট্র/গুজরাটের ফরাল: সাবুদানা-বড়া, মোরৈয়ো-খিচুড়ি, রতালে-কিস, ফরালি চেবড়া; দক্ষিণ: বরগু-অরিসি (সামা) পোঙ্গল, ফল; বাংলা-ওড়িশা: ফল-দুধ-লুচি (কিছু বাড়িতে), ওড়িশার বাড়িতে উপবাস ভাত ছাড়া, তবে পুরীর শ্রীমন্দিরে একাদশীতেও মহাপ্রসাদ («অভড়া») গ্রহণ করা হয়
  • পারণ (দ্বাদশী): ভাত-ডাল-তরকারি-পায়েস, আগে তুলসী-জল; অনেক রীতিতে কুমড়ো/ঝিঙে; ব্রাহ্মণ/গরিবকে খাইয়ে

বিভিন্ন এলাকার রীতি

পান্ধারপুরের একাদশী, গুজরাটের অগিয়ারস, দক্ষিণের উপবাস-দ্বাদশী পারণ, ওড়িশার জগন্নাথ-একাদশী — এক তিথি, নানা রূপ।

উত্তরপ্রদেশ-বিহার-মধ্যপ্রদেশ-রাজস্থান: «একাদশী/গিয়ারস» — সাধারণত মেয়েরা দুটি একাদশীই, অনেক বাড়িতে শুধু শুক্ল/বা নির্জলা-দেবশয়নী-দেবউঠনীর মতো বড়গুলি; নির্জলায় (জ্যৈষ্ঠ) জলের কলস-পাখা দান, দেবউঠনীতে তুলসী-বিবাহ, মোক্ষদায় গীতাপাঠ; বিহারে «একাদশী»-তে ভাত-ত্যাগ কঠোর, বয়স্কা মহিলারা 24টির 24টিই; মধ্যপ্রদেশ-রাজস্থানে «গিয়ারস» — মন্দিরে জাগরণ, মালওয়ায় «কার্তিক-গিয়ারস»-এর মেলা।
মহারাষ্ট্র-গোয়া (আষাঢ়ী-কার্তিকী): আষাঢ়ী (দেবশয়নী) ও কার্তিকী (দেবউঠনী) একাদশী সবচেয়ে বড় — পান্ধারপুর বারী, লক্ষ লক্ষ বারকরী; প্রতি একাদশীতে উপবাস (সাবুদানা-খিচুড়ি, বরী), বিঠোবার ভজন; «একাদশী দুপ্পট খাশী» (প্রবাদ — ফরালে বেশি খাবেন না); স্মার্ত ও ভাগবত (বৈষ্ণব) একাদশী আলাদা আলাদা পঞ্জিকায় লেখা থাকে; গোয়ায় «একাদশী»-তে মন্দিরে ভজন।
গুজরাট-সৌরাষ্ট্র: «অগিয়ারস» — দেবপোঢ়ী (দেবশয়নী) ও দেবউঠী (প্রবোধিনী) অগিয়ারস প্রধান, চাতুর্মাস্যের সব অগিয়ারস মেয়েরা রাখেন; ফরাল (মোরৈয়ো, সাবুদানা-বড়া, ফরালি চেবড়া, সিঙ্গোড়া-লোট); স্বামীনারায়ণ ও বল্লভ সম্প্রদায়ে নির্জলা একাদশী কঠোর (জলও নয়); ডাকোর-দ্বারকায় একাদশী-দর্শন।
তামিলনাড়ু-কর্ণাটক-অন্ধ্র-কেরল: «একাদশী উপবাস» — শ্রীবৈষ্ণব (আয়েঙ্গার) ও মাধ্ব পরম্পরায় প্রতি একাদশী বাধ্যতামূলক নির্জলা/ফলাহার, পরদিন সকালে দ্বাদশী-পারণের «ভোজনম্» নির্দিষ্ট সময়ে (অগত্তি-কীরৈ, সুণ্ডক্কাই ও নেল্লিক্কায়/আমলকী — পারণের তিনটি পদ, তামিল); বৈকুণ্ঠ একাদশী (মার্গশীর্ষ শুক্ল — শ্রীরঙ্গম-তিরুপতির স্বর্গদ্বার) সবচেয়ে বড়; কর্ণাটক-উডুপিতে «একাদশী»-তে মাধ্ব মঠগুলির উপবাস; কেরলে গুরুবায়ুর একাদশী (বৃশ্চিক/মার্গশীর্ষ)।
বাংলা-ওড়িশা-অসম: বাংলায় «একাদশী» — বৈষ্ণব ও বিধবা মহিলাদের পরম্পরায় নির্জলা (আজ কম), গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের (ইসকন-মায়াপুর) মধ্যে প্রতি একাদশীতে শস্য-ত্যাগ ও নামকীর্তন, «ভীমা একাদশী» (নির্জলা); ওড়িশায় জগন্নাথ-পরম্পরা — «একাদশী-ওষা», দেবশয়নী-প্রবোধিনী একাদশী; অসমের সত্রগুলিতে একাদশী-ভাওনা।
পাঞ্জাব-হরিয়ানা-দিল্লি-হিমাচল: «একাদশী» — বৈষ্ণব মন্দিরে জাগরণ, নির্জলা ও দেবউঠনীতে বড় ভিড়; পাঞ্জাবে «নির্জলা গিয়ারস»-এ ছবিল (মিষ্টি জল) — শিখ-হিন্দু দুই সম্প্রদায়ই; দিল্লিতে ইসকন ও বিড়লা মন্দিরের একাদশী-অনুষ্ঠান; হিমাচলে «একাদশী»-তে দেবমন্দিরে উপবাস, কুল্লুতে «গুরু-একাদশী»।
🙏 আপনার বাড়ির রীতিনীতি এর থেকে আলাদা? এখানে লিখুন

দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।

প্রতিটি পোস্ট করা রীতিনীতি আগে পড়া হয়-অশ্লীল/বিজ্ঞাপন/ভুল যোগ করা হয় না।

কী করবেন, কী করবেন না

✅ কী করবেন

  • উদয়া-তিথিতে (উপরের তালিকা) ব্রত; পারণ দ্বাদশীতে হরিবাসর এড়িয়ে — সঠিক সময় পঞ্জিকা থেকে
  • বিষ্ণুপূজায় তুলসীপাতা অবশ্যই (দশমীতে তোলা); হলুদ বস্ত্র-ফুল
  • ভাত-শস্য ত্যাগ, ফলাহার সাত্ত্বিক; দিনে ঘুমোবেন না, নামজপ/পাঠ
  • দান — অন্ন-জল-বস্ত্র; দ্বাদশীতে ব্রাহ্মণ/গরিবকে ভোজন
  • গর্ভবতী/অসুস্থ/বয়স্করা ফলাহার-দুধ; স্বাস্থ্য আগে

❌ কী করবেন না

  • ভাত ও চাল দিয়ে তৈরি জিনিস, গম-ডাল-বেগুন-মুসুর-পেঁয়াজ-রসুন, বাসি/বাইরের খাবার
  • একাদশীতে তুলসী তোলা, চুল-নখ কাটা, তেল মালিশ (কিছু রীতিতে), দিনে ঘুম
  • পারণ ত্রয়োদশী পর্যন্ত টেনে নেওয়া, হরিবাসরে পারণ, বা দ্বাদশীতে পারণ না করা
  • মিথ্যা, পরনিন্দা, রাগ, ঝগড়া, তামসিক বিনোদন — ব্রতের সার সংযম
  • জোর করে নির্জলা — দুর্বলতা/মাথা ঘুরলে জল-ফল নিন; শিশুদের উপর ব্রত নয়

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পরের একাদশী কবে? 2026-এর একাদশী-তিথিগুলি?

উপরে হিরো অংশে পরের একাদশীর তারিখ ও তিথির সময়সীমা (দিল্লি), আর নিচে আসন্ন 12টি একাদশী নামসহ দেওয়া আছে — স্মার্ত (গৃহস্থ) উদয়া-তিথি নিয়মে; নিজের শহর ও বৈষ্ণব সম্প্রদায় অনুযায়ী কখনও একদিনের তফাত হতে পারে — পঞ্জিকা/মন্দিরের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

স্মার্ত আর বৈষ্ণব একাদশীর তফাত কী?

একাদশী দশমী-বিদ্ধা হলে (সূর্যোদয়ের ঠিক আগে দশমীর অংশ থাকলে) বা দুটি সূর্যোদয় ছুঁলে বৈষ্ণবরা (ইসকন, শ্রীবৈষ্ণব, মাধ্ব) পরের দিন (শুদ্ধ একাদশী) ব্রত রাখেন, স্মার্ত-গৃহস্থরা প্রথম দিন; পঞ্জিকায় দুটোই লেখা থাকে; নিজের সম্প্রদায়েরটা মানুন — উপরের তালিকা স্মার্ত।

পারণের সঠিক সময় কখন?

দ্বাদশী তিথিতে, সূর্যোদয়ের পরে, হরিবাসর (দ্বাদশীর প্রথম চতুর্থাংশ) পেরোলে, আর দ্বাদশী শেষ হওয়ার আগে — সাধারণত সকাল 6:30-9-এর মধ্যে; দ্বাদশী দুপুরের আগে শেষ হলে সূর্যোদয়ের ঠিক পরে; উপরে তিথির সময়সীমা থেকে দ্বাদশী কখন শেষ দেখুন, সঠিক পারণ-সময় পঞ্জিকায়।

মেয়েরা কি প্রতিটি একাদশী রাখতে পারেন? ঋতুকালে?

হ্যাঁ — বহু মহিলা দুটি একাদশীই রাখেন; ঋতুকালে পূজা বা ঠাকুর ছোঁয়া নয়, তবে ফলাহারের নিয়ম রাখা যায় (পরম্পরাভেদে); গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় ফলাহার-দুধ-ফল; নির্জলা শুধু সুস্থ মানুষের জন্য; ব্রতের সার সংযম ও স্মরণ, কষ্ট নয়।

24টি একাদশীর নাম কী কী?

চৈত্র: পাপমোচনী (কৃ), কামদা (শু); বৈশাখ: বরূথিনী, মোহিনী; জ্যৈষ্ঠ: অপরা, নির্জলা; আষাঢ়: যোগিনী, দেবশয়নী; শ্রাবণ: কামিকা, পুত্রদা; ভাদ্রপদ: অজা, পরিবর্তিনী; আশ্বিন: ইন্দিরা, পাপাঙ্কুশা; কার্তিক: রমা, দেবউঠনী; মার্গশীর্ষ: উৎপন্না, মোক্ষদা; পৌষ: সফলা, পুত্রদা; মাঘ: ষটতিলা, জয়া; ফাল্গুন: বিজয়া, আমলকী; অধিক মাস: পরমা (কৃ), পদ্মিনী (শু) — পূর্ণিমান্ত মাস-গণনা অনুযায়ী (অমান্ত গণনায় প্রতিটি কৃষ্ণপক্ষের একাদশী আগের মাসে ধরা হয়); উপরের তালিকায় প্রতিটি তিথির নাম আছে।

একাদশীতে ভাত খাওয়া হয় না কেন?

পদ্মপুরাণে একাদশীতে অন্নে (ভাতে) পাপের বাস; লোককথায় মহর্ষি মেধার অংশ/মুর দৈত্যের বাস চালে; আয়ুর্বেদে পক্ষে একদিন লঘু আহারে হজমের বিশ্রাম ও চন্দ্রের প্রভাবে সংযম; দ্বাদশীতে ভাত দিয়ে পারণ শুভ — তাই নিষেধ শুধু একদিনের।

🔔 মনে করিয়ে দিন — প্রতি ব্রতের একদিন আগে

আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।

বার্তা Nakshtra Tak-এর তরফ থেকে আসবে; নম্বর অন্য কাউকে দেওয়া হয় না।

📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান

🌎 বিদেশে একাদশী ব্রত 2026: আমেরিকা · কানাডা · যুক্তরাজ্য · অস্ট্রেলিয়া · সংযুক্ত আরব আমিরাত · কাতার · সৌদি আরব · কুয়েত · ওমান · বাহরাইন · সিঙ্গাপুর · মালয়েশিয়া · নিউজিল্যান্ড · দক্ষিণ আফ্রিকা · মরিশাস · ফিজি · নেদারল্যান্ডস · জার্মানি · আয়ারল্যান্ড

আরও পড়ুন: দেবশয়নী একাদশী · দেবত্ব একাদশী · মোক্ষদা একাদশী · প্রদোষ ব্রত (ত্রযোদশী)

⚠️ এই বিবরণ প্রথাগত বিধি ও লোকবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে; নিজের কুল-পরিবার ও সম্প্রদায়ের (স্মার্ত/বৈষ্ণব) রীতিই সবার উপরে। তিথি দিল্লির সূর্যোদয়-তিথি অনুযায়ী — নিজের শহরের পঞ্জিকা ও পারণ-সময় মিলিয়ে নিন; শারীরিক অসুস্থতায় নির্জলা রাখবেন না।

🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার