🪔 ব্রত-উৎসব

🎨 হোলি (হোলিকা দহন ও ধুলণ্ডী) 2027

✍️ জ্যোতিষাচার্য আদিত্য ধর দ্বিবেদী · 🔎 শেষ পর্যালোচনা: · 🧮 গণনা-পদ্ধতি

ফাল্গুন পূর্ণিমার রাতে হোলিকা দহন, পরদিন রঙের হোলি — ভদ্রাহীন প্রদোষে দহনের মুহূর্ত, নতুন ফসলের শিষ, গুজিয়া আর আবির।

হোলি (হোলিকা দহন ও ধুলণ্ডী) 2027-এর তিথি
রবিবার, 21 মার্চ 2027
ফাল্গুন · শুক্ল পক্ষ · পূর্ণিমা (বিক্রম সংবত 2084)
⚠️ ভদ্রা-কাল (এড়িয়ে চলুন)6:22 PM – 5:15 AM (+1)
🪔 প্রদোষ কাল6:33 PM – 8:57 PM
🌇 সূর্যাস্ত6:33 PM
📿 তিথি-কালপূর্ণিমা 21 মার্চ, 6:22 PM → 22 মার্চ, 4:13 PM
🌙 চাঁদের উদয়5:34 PM
⭐ অভিজিৎ মুহূর্ত12:05 PM – 12:53 PM
⛔ রাহু কাল (এড়িয়ে চলুন)05:02 PM – 06:33 PM
  • হোলিকা দহন (ফাল্গুন পূর্ণিমা, প্রদোষ) রবিবার, 21 মার্চ 2027
  • হোলি/ধুলান্ডি/রঙওয়ালি হোলি (দাহের পরের দিন) - সোমবার, 22 মার্চ 2027
সময় দিল্লি (আই. এস. টি) কে, সুইস এপিহেমেরিস-গণনা, উদীয়মান-তারিখের নিয়ম। চন্দ্রোদয়/সূর্যোদয় প্রতিটি শহরে পরিবর্তিত হয় -

হোলি দু-দিনের উৎসব — ফাল্গুন পূর্ণিমার সন্ধ্যায় হোলিকা দহন (ছোটি হোলি) আর পরদিন চৈত্র কৃষ্ণ প্রতিপদে রঙের হোলি (ধুলণ্ডী/ধুলেণ্ডী)। বসন্ত পঞ্চমী থেকে শুরু হওয়া 40 দিনের ফাগ এখানেই শেষ হয়; এটি অধর্মের ওপর ভক্তির জয় (প্রহ্লাদ-হোলিকা) আর নতুন ফসলের (গম-যবের শিষ পোড়ানো) উৎসব।

বাড়ির মেয়েরা হোলিকা দহনের দিন হোলির পূজা করেন — গোবরের বড়কুল্লে/গুলরির মালা, কাঁচা সুতো, নতুন শিষ, গুজিয়ার ভোগ — আর দহনের আগুন প্রদক্ষিণ করেন; পরদিন রং, গুজিয়া-কাঞ্জি-ঠান্ডাই আর ঘরে ঘরে দেখা-সাক্ষাৎ। নিচে এ বছরের দুটি তিথি, ভদ্রাহীন দহন-মুহূর্ত, বিধি, উপকরণ, ব্রতকথা, পদ আর বিভিন্ন অঞ্চলের রীতি দেওয়া হল।

গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন

হোলিকা দহনের নিয়ম: প্রদোষকালে, পূর্ণিমা তিথিতে আর **ভদ্রাহীন** সময়ে — ভদ্রায় (বিষ্টি করণ) দহন নিষিদ্ধ; ভদ্রা থাকলে তার পরে (বা ভদ্রা-পুচ্ছে)। তাই প্রতি বছর মুহূর্ত আলাদা — ওপরে প্রদোষের সময় দেওয়া আছে; ভদ্রার সময় নিজের শহরের পঞ্জিকা-পাতায় দেখুন।

হোলাষ্টক: হোলির আট দিন আগে থেকে (ফাল্গুন শুক্ল অষ্টমী থেকে পূর্ণিমা) মাঙ্গলিক কাজ নিষিদ্ধ — বিয়ে, গৃহপ্রবেশ নয়; হোলির পরে চৈত্র নবরাত্রি পর্যন্ত আবার মুহূর্ত খোলে।

নতুন ফসল: দহনের আগুনে গম-যব-ছোলার কাঁচা শিষ পুড়িয়ে (হোলা) প্রসাদ হিসেবে খাওয়া আর বাড়িতে আনা — «হোলি» নামের এটি একটি উৎস; দহনের ছাই/আগুন বাড়িতে এনে উনুন জ্বালানো শুভ। অশুভ (হোলিকা) পুড়ল, ভক্তি (প্রহ্লাদ) বাঁচল — এটাই মূল ভাব।

পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)

এটি ঘরোয়া বিধি — দিনে হোলির পূজা-ভোগ, প্রদোষে ভদ্রা দেখে দহন ও প্রদক্ষিণ; পরদিন রং।

  1. হোলিকা দহনের দিন সকালে: গোবর দিয়ে বড়কুল্লে/গুলরি (মাঝখানে ফুটো করা ছোট চাকতি) বানিয়ে শুকিয়ে মালায় গাঁথুন — 4-5টি মালা (পিতৃপুরুষ, হনুমান, শীতলা আর ঘর-পরিবারের নামে); পাড়ার হোলিতে (কাঠ-ঘুঁটের স্তূপ, মাঝখানে হোলিকা-প্রহ্লাদের দণ্ড) গিয়ে, বা বাড়ির উঠোনে ছোট হোলি সাজান।
  2. দিনে/সন্ধ্যার আগে হোলির পূজা: হোলির দণ্ডে/স্তূপে রোলি-আতপ চাল-ফুল, কাঁচা সুতো (মৌলি) 3 বা 7 বার জড়াতে জড়াতে প্রদক্ষিণ, ঘটি ভরা জল নিবেদন, বড়কুল্লের মালা, গম-যবের কাঁচা শিষ, নারকেল, গুজিয়া-মিষ্টি, আবির; «ওঁ হোলিকায়ৈ নমঃ», প্রহ্লাদ-নৃসিংহের স্মরণ — «অসৃক্পাভয়সন্ত্রস্তৈঃ কৃতা ত্বং হোলি বালিশৈঃ…»।
  3. দহন (প্রদোষকালে, ভদ্রাহীন — প্রদোষের সময় ওপরে; ভদ্রা পঞ্জিকা-পাতায়): পাড়ার বয়োজ্যেষ্ঠ/পণ্ডিত আগুন দেবেন; পরিবার নিয়ে 3/5/7 বার প্রদক্ষিণ, জলের ধারা, বড়কুল্লে-শিষ-নারকেল আগুনে আহুতি; আগুনে গম-যব-ছোলার শিষ পুড়িয়ে (হোলা) বিলিয়ে দিন।
  4. বাড়ি ফিরে দহনের একটু আগুন/ছাই নিয়ে আসুন — নতুন উনুন/প্রদীপ জ্বালাতে শুভ; ছাইয়ের তিলক (কুনজর থেকে রক্ষা); রাতে হোলির গান-ফাগ, ঠান্ডাই।
  5. ধুলণ্ডী (পরদিন): সকালে বাড়ির বড়দের কপালে আবিরের টিকা দিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম, তারপর রং খেলা; গুজিয়া-কাঞ্জি-দইবড়া; ঠাকুরজি/বাঁকেবিহারীকে আবির; দুপুরের পরে রং ধুয়ে নতুন জামাকাপড়, সন্ধ্যায় দেখা-সাক্ষাৎ (হোলি-মিলন)।
  6. মেয়েরা: দহনের পরদিন সকালে হোলির ছাই দিয়ে বাড়ির দরজায় ছিটে (শুদ্ধি), শীতলা মাকে ঠান্ডা ভোগ (অনেক অঞ্চলে হোলির পরে শীতলা অষ্টমী/বাসোড়া); ব্রজে লাঠমার আর ফুলের হোলি এর আগের সপ্তাহে।
  7. পিতৃপুরুষের নামে বড়কুল্লের মালা আর দান: হোলিকা দহনের দিন অন্ন-বস্ত্র দান, নতুন ফসলের প্রথম অংশ দেবতা-পিতৃপুরুষ-গরুকে।
  8. পরদিন থেকে চৈত্র — কোথাও কোথাও হোলির 5 দিন পরে রংপঞ্চমী (মহারাষ্ট্র-মধ্যপ্রদেশ) আর 8 দিন পরে শীতলা অষ্টমী।

📿 কিভাবে হোলি (হোলিকা ধোন ও ধুলান্দি) করতে হয়-বিস্তারিত পদ্ধতি, উপাদানের চেকলিস্ট এবং নিয়ম

পূজা-সামগ্রীর তালিকা

গোবরের বড়কুল্লে আর গম-যবের কাঁচা শিষ দহনের দিনের বিশেষ জিনিস; রং-গুজিয়া পরদিন।

  • গোবর (বড়কুল্লে/গুলরির মালা), কাঁচা সুতো/মৌলি
  • রোলি, আতপ চাল, হলুদ, ফুল, আবির, জলভরা ঘটি
  • গম-যব-ছোলার কাঁচা শিষ (হোলা), নারকেল, সুপারি
  • গুজিয়া/মিষ্টি (ভোগ), গুড়, কাঁচা চাল
  • কাঠ-ঘুঁটে (পাড়ার হোলি), হোলিকা-প্রহ্লাদের দণ্ড/পতাকা
  • ধুলণ্ডী: ভেষজ আবির-রং, পিচকারি, পুরোনো জামাকাপড়; ঠান্ডাই, গুজিয়া, কাঞ্জি-বড়া, দইবড়া, পাঁপড়
  • ঠাকুরজির জন্য আবির, নতুন বস্ত্র; বড়দের জন্য আবিরের থালা
  • ছাই রাখার ছোট পাত্র (বাড়িতে আনার জন্য)

🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন

📅 আপনার শহরের পঞ্জিকা

সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।

পঞ্জিকা দেখুন →

ব্রত-কথা

দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর বর ছিল — তাকে মানুষ মারতে পারবে না, পশুও না; দিনে নয়, রাতে নয়; ঘরের ভেতরে নয়, বাইরে নয়; অস্ত্রে নয়, শস্ত্রেও নয়। অহংকারে সে নিজেরই পূজার হুকুম দিল, কিন্তু তার ছেলে প্রহ্লাদ ছিল বিষ্ণুভক্ত। বাবা প্রহ্লাদকে পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়াল, হাতির পায়ের তলায় পিষতে দিল, বিষ খাওয়াল — ভক্ত প্রতিবারই বেঁচে গেল।

📖 হোলি (হোলিকা দিন ও ধুলান্দি)-র পুরো উপবাস পড়ুন

গুজিয়া, কাঞ্জি, ঠান্ডাই — হোলির হেঁশেল

হোলির গুজিয়া (খোয়া ক্ষীর আর শুকনো ফলের পুর, ঘিয়ে ভাজা) এক সপ্তাহ আগে থেকেই তৈরি হয়; কাঞ্জি-বড়া (রাই-সর্ষের জলে ভেজানো বিউলি ডালের বড়া, 3-4 দিন আগে), দইবড়া, পাঁপড়, নোনতা, ঠান্ডাই — দহনের সন্ধ্যায় ভোগ, ধুলণ্ডীতে অতিথিদের জন্য।

  • গুজিয়া (20টি): 2 কাপ ময়দা + 4 চামচ ঘিয়ের ময়ান; পুর — 200 গ্রাম খোয়া ক্ষীর ভেজে, 100 গ্রাম গুঁড়ো চিনি, শুকনো ফল-নারকেল-এলাচ; ছাঁচে ভরে ঘিয়ে কম আঁচে সোনালি করে ভাজুন
  • কাঞ্জি-বড়া: জলে বাটা রাই-সর্ষে, বিট নুন, হলুদ, হিং — 3-4 দিন রোদে; তাতে বিউলি ডালের ছোট বড়া দিয়ে 1 দিন
  • ঠান্ডাই (বাদাম-মৌরি-পোস্ত-গোলমরিচ-গোলাপ-দুধ), দইবড়া, আলুর চিপস, নিমকি, শক্করপারা, মালপোয়া
  • হোলা: দহনের আগুনে পোড়ানো গম-যব-ছোলার শিষ — প্রথম প্রসাদ; বিহার-পূর্বাঞ্চলে পুয়া-পুরি-কড়ি, মালপোয়া; পাঞ্জাবে কাঞ্জি-গুজিয়া-পিন্নি; মহারাষ্ট্রে পুরণপোলি-কটাচি আমটি; গুজরাতে ধানি (ভাজা শস্য)-খেজুর-গুজিয়া; বাংলায় দোলযাত্রার মালপোয়া-পায়েস
  • শীতলার ভোগ (হোলির 7-8 দিন পরে বাসোড়া): আগের দিন রান্না করা ঠান্ডা খাবার — মিষ্টি ভাত, পুরি, দই, গুলগুলে

বিভিন্ন এলাকার রীতি

ব্রজের লাঠমার থেকে বাংলার দোলযাত্রা পর্যন্ত — এক পূর্ণিমা, শত রং।

ব্রজ (মথুরা-বৃন্দাবন-বরসানা-নন্দগাঁও): হোলির এক সপ্তাহ আগে বরসানা-নন্দগাঁওয়ের লাঠমার হোলি, বৃন্দাবনের ফুলের হোলি, বাঁকেবিহারীতে আবির-রং, দাউজির হুরঙ্গা (ধুলণ্ডীর পরদিন); 40 দিনের ফাগ-গান («রসিয়া»), সমাজ-গায়ন।
উত্তরপ্রদেশ-বিহার-ঝাড়খণ্ড: পাড়ার হোলিতে বড়কুল্লে-শিষ, দহনের পরে হোলা; ধুলণ্ডীর সকালে রং, দুপুরের পরে জামাকাপড় বদলে হোলি-মিলন; বিহারে «ফগুয়া»-র গান (জোগীরা সা রা রা রা), কুর্তা-ফাড়, পুয়া-কড়ি; কোথাও কোথাও হোলির পরদিন বুড়ওয়া-মঙ্গল/ভাই-ভাইপোদের হোলি।
পাঞ্জাব-হরিয়ানা-দিল্লি: হোলিকা দহনের পরে কাঞ্জি-গুজিয়া; পাঞ্জাবে আনন্দপুর সাহিবের হোলা মহল্লা (শিখদের শৌর্য-প্রদর্শন); হরিয়ানায় «ধুলণ্ডী»-তে বউদি-দেওরের কোড়ামার হোলি; দিল্লিতে রঙের দুপুর।
রাজস্থান-গুজরাত-মধ্যপ্রদেশ: রাজস্থানে রাজকীয় হোলি (জয়পুর-উদয়পুর), গের (ভিলওয়াড়া), মারওয়াড়ের ডোলচি; গুজরাতে হোলিকা দহনের পরে ধানি-খেজুর, আদিবাসী অঞ্চলের (ডাং) হোলি; মধ্যপ্রদেশে রংপঞ্চমীতে (হোলির 5ম দিনে) ইন্দোর-উজ্জয়িনীর গের — রং খেলার সবচেয়ে বড় দিন।
মহারাষ্ট্র-গোয়া: «হোলী পৌর্ণিমা/শিমগা» — হোলিকা দহন, পুরণপোলি; রং খেলা পাঁচ দিন পরে «রংপঞ্চমী»-তে (মুম্বই-পুনে); কোঙ্কণ-গোয়ায় শিমগোৎসবের শোভাযাত্রা-পালকি; আদিবাসী অঞ্চলের কাঠি-হোলি।
বাংলা-ওড়িশা-অসম: «দোলযাত্রা/দোল পূর্ণিমা» — রাধা-কৃষ্ণের দোলায় চড়ে যাত্রা, আবির-গুলাল, শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসব (রবীন্দ্র-পরম্পরা), শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি; ওড়িশায় «দোল পূর্ণিমা/দোল যাত্রা» আর ফগু দশমী; অসমে «ফাকুৱা/দৌল উৎসব» (বরপেটা)।
দক্ষিণ ভারত: উত্তরের তুলনায় ছোট — কর্ণাটকে «কামনা হব্বা» (কামদেব-দহন), অন্ধ্র-তেলঙ্গানায় «কাম-পূর্ণিমা/হোলি», তামিলনাড়ুতে «পঙ্গুনি উত্তিরম» ও কামন-পণ্ডিগৈ (কামদেব-রতির কাহিনি); শহরে রং-খেলার হোলি।
🙏 আপনার বাড়ির রীতিনীতি এর থেকে আলাদা? এখানে লিখুন

দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।

প্রতিটি পোস্ট করা রীতিনীতি আগে পড়া হয়-অশ্লীল/বিজ্ঞাপন/ভুল যোগ করা হয় না।

কী করবেন, কী করবেন না

✅ কী করবেন

  • দহন প্রদোষকালে, ভদ্রা এড়িয়ে — ভদ্রার সময় নিজের শহরের পঞ্জিকা-পাতায় দেখুন
  • হোলির পূজায় কাঁচা সুতো, বড়কুল্লে, নতুন শিষ, নারকেল; প্রদক্ষিণ পরিবার নিয়ে
  • আগে বড়দের আবিরের টিকা দিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম; ভেষজ/প্রাকৃতিক রং
  • দহনের শিষ (হোলা) আর ছাই বাড়িতে আনুন — শুভ
  • হোলাষ্টকে মাঙ্গলিক কাজ এড়িয়ে চলুন; হোলির পরে মুহূর্ত

❌ কী করবেন না

  • ভদ্রায় হোলিকা দহন — নিষিদ্ধ; প্রদোষ পেরিয়ে অনেক রাতেও দহন নয়
  • রাসায়নিক/পাকা রং, বেলুন, জোর করে রং মাখানো — নয়; চোখে-মুখে রং নয়
  • ভাং-মদের বাড়াবাড়ি, নেশা করে গাড়ি চালানো — হোলির সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনার কারণ
  • দহনে প্লাস্টিক-টায়ার-রবার পোড়াবেন না; শিশুদের আগুন থেকে দূরে রাখুন
  • পশুদের (কুকুর-গরু) গায়ে রং নয়

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

2027 সালে হোলি কবে — দহন আর রং?

ওপরে দুটি তিথিই দেওয়া আছে — ফাল্গুন পূর্ণিমার সন্ধ্যায় হোলিকা দহন (প্রদোষকাল, সময় ওপরে) আর পরদিন রঙের হোলি/ধুলণ্ডী; পঞ্জিকা-গণনা অনুযায়ী।

হোলিকা দহনের সঠিক মুহূর্ত কীভাবে ঠিক হয়?

পূর্ণিমা তিথি + প্রদোষকাল (সূর্যাস্ত থেকে ~2 ঘণ্টা 24 মিনিট) + ভদ্রাহীন সময় — তিনটিই একসঙ্গে চাই। প্রদোষে ভদ্রা থাকলে তা শেষ হওয়ার পরে (বা ভদ্রা-পুচ্ছে); পরদিন প্রদোষ পর্যন্ত পূর্ণিমা না থাকলে সেই রাতেই। ভদ্রার সঠিক সময় পঞ্জিকা-পাতায় (নিজের শহরের)।

হোলাষ্টক কী?

হোলির আগের আট দিন (ফাল্গুন শুক্ল অষ্টমী থেকে পূর্ণিমা) — এই সময়ে বিয়ে, গৃহপ্রবেশ, মুণ্ডনের মতো মাঙ্গলিক কাজ করা হয় না; হোলির পরে আবার শুরু।

বড়কুল্লে/গুলরি কী?

গোবরের তৈরি মাঝখানে ফুটো করা ছোট চাকতি (শুকনো), যা সুতোয় গেঁথে মালা বানানো হয় — পিতৃপুরুষ, হনুমানজি, শীতলা মা, বাড়ির নামে — এবং হোলিকা দহনে আহুতি দেওয়া হয়; উত্তর ভারতের মেয়েদের রীতি।

রংপঞ্চমী কী?

হোলির পঞ্চম দিনে (চৈত্র কৃষ্ণ পঞ্চমী) মহারাষ্ট্র-মধ্যপ্রদেশে রং খেলার প্রধান দিন — ইন্দোর-উজ্জয়িনীর «গের», মুম্বই-পুনের রংপঞ্চমী; ব্রজে এই দিন পর্যন্ত ফাগ চলে।

হোলির পরে শীতলা অষ্টমী/বাসোড়া কী?

হোলির 7-8 দিন পরে চৈত্র কৃষ্ণ অষ্টমী (বা সপ্তমী) — শীতলা মাকে আগের দিন রান্না করা ঠান্ডা খাবার নিবেদন, সেদিন উনুন না জ্বালানো; শিশুদের বসন্ত রোগ থেকে রক্ষার ব্রত (এর আলাদা পাতা আছে)।

🔔 মনে করিয়ে দিন — প্রতি ব্রতের একদিন আগে

আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।

বার্তা Nakshtra Tak-এর তরফ থেকে আসবে; নম্বর অন্য কাউকে দেওয়া হয় না।

📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান

🌎 বিদেশে হোলি (হোলিকা দহন ও ধুলণ্ডী) 2027: আমেরিকা · কানাডা · যুক্তরাজ্য · অস্ট্রেলিয়া · সংযুক্ত আরব আমিরাত · কাতার · সৌদি আরব · কুয়েত · ওমান · বাহরাইন · সিঙ্গাপুর · মালয়েশিয়া · নিউজিল্যান্ড · দক্ষিণ আফ্রিকা · মরিশাস · ফিজি · নেদারল্যান্ডস · জার্মানি · আয়ারল্যান্ড

আরও পড়ুন: মহাশিবরাত্রি (15 দিন আগে) · শীতলা অষ্টমী/বাসৌদা (হোলির পর) · চৈত্র নবরাত্রি/গুডি পাড়ওয়া · ভদ্রা-এর সময় (আপনার শহরের পঞ্জিকা)

⚠️ এই বিবরণ প্রথাগত বিধি ও লোকবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা; নিজের কুল-পরিবার ও পাড়ার রীতিই সবার ওপরে। দহনের সঠিক মুহূর্ত ভদ্রা দেখে ঠিক করুন; রং আর আগুনে নিরাপত্তাই সবার আগে।

🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার