🌙 করবা চৌথ 2026
সধবা নারীর নিরালা ব্রত — সূর্যোদয় থেকে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত, স্বামীর দীর্ঘ জীবন ও গৃহের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য।
করওয়া চৌথ কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থীতে পালিত সধবা নারীর শ্রেষ্ঠ ব্রত। এই দিন বিবাহিত মহিলারা সূর্যোদয়ের আগে সরগী (প্রাতঃরাশ) খেয়ে সারাদিন জল ও অন্ন গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন এবং রাতে চন্দ্রকে অর্ঘ্য নিবেদন করে, ছাঁকনি দিয়ে চাঁদ ও স্বামীর মুখ দেখে ব্রত ভঙ্গ করেন।
এই ব্রত উত্তর ভারতে — পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, হিমাচল — সর্বাধিক প্রচলিত, তবে বর্তমানে সারা দেশেই পালিত হয়। কুমারী কন্যারাও উত্তম বরের কামনায় এই ব্রত পালন করেন। নিচে এই বছরের সঠিক তিথি, চন্দ্রোদয়ের সময়, পূজাবিধি, সামগ্রী, কাহিনি, সরগী-ফলাহার এবং বিভিন্ন অঞ্চলের রীতিনীতি দেওয়া হল।
গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন
করওয়া শব্দের অর্থ হল মাটির ছোট কলস (নলযুক্ত পাত্র) এবং চৌথ অর্থাৎ চতুর্থী তিথি। এই দিন গণেশ, শিব-পার্বতী, কার্তিকেয় ও চন্দ্রের পূজা করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, যে নারী ভক্তি সহকারে এই ব্রত পালন করেন, তাঁর স্বামীর আয়ু দীর্ঘ হয় এবং দাম্পত্য জীবনে প্রেম বজায় থাকে।
ব্রত পালনের সময় সূর্যোদয় থেকে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত — তাই এই পাতায় দিল্লির চন্দ্রোদয়ের সময় দেওয়া হয়েছে। চাঁদ মেঘে ঢাকা থাকলে চন্দ্রোদয়ের সময়ের পর নির্দিষ্ট দিকে মুখ করে অর্ঘ্য নিবেদন করুন; অনেক পরিবারে এই অবস্থায় শিবের জটায় থাকা চন্দ্রকে স্মরণ করে ব্রত ভঙ্গ করা হয়।
পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)
এটি সাধারণ উত্তর-ভারতীয় পদ্ধতি; আপনার পরিবার ও গৃহের রীতিনীতিই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ — যা শাশুড়ি-মা বলেন, তাই করুন।
- সূর্যোদয়ের আগে (ব্রহ্ম মুহূর্তে) স্নান করে শাশুড়ির দেওয়া সরগী — ফেনী, মিষ্টান্ন, ফল, বাদাম, মাঠরি (এক প্রকার নোনতা বিস্কুট) — গ্রহণ করুন এবং জল পান করুন। সরগীর পর সারাদিন অন্ন-জল গ্রহণ করা হয় না।
- সংকল্প নিন: «আমি আমার স্বামীর দীর্ঘায়ু ও সৌভাগ্যের জন্য করওয়া চৌথের নিরালা ব্রত পালন করছি।»
- দিনের বেলায় ষোলো শৃঙ্গার করুন — লাল/গোলাপী শাড়ি বা লেহেঙ্গা, মেহেন্দি, চুড়ি, বিন্দি, সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র, পায়েল, বিছেয়া।
- সন্ধ্যায় পূজার স্থানে দেওয়ালে বা পটে করওয়া চৌথের ক্যালেন্ডার/চিত্র (গৌরী, গণেশ, চাঁদ, করওয়া) স্থাপন করুন। মাটির বা তামার কলস জল দিয়ে ভরে তার ঢাকনায় চাল-চিনি রাখুন; কলসে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকুন, মৌলি (পবিত্র সুতো) বাঁধুন।
- থালা সাজান — প্রদীপ, রোলি (রঙিন গুঁড়ো), অক্ষত (চাল), ফুল, মিষ্টান্ন, ফল, সধবার সামগ্রী, শলাকা (কলসে দেওয়ার জন্য), ছাঁকনি।
- সূর্যাস্তের পর, প্রদোষ কালে, পাড়া-প্রতিবেশীর সধবা নারীরা একসাথে বসে করওয়া চৌথের কাহিনি শোনেন এবং থালা ঘোরান (ফেরী) — প্রতি ফেরীতে «ভীরো কুড়িয়ে করওয়া…» বা «করওয়া চৌথ মাতা কি জয়» গান গাওয়া হয়।
- গণেশ, শিব-পার্বতী ও চন্দ্রের পূজা করুন; কলসের জল চন্দ্রকে অর্পণ করার জন্য আলাদা রাখুন।
- চন্দ্রোদয় হলে (উপরে দেওয়া সময়) ছাদে বা আঙিনায় ছাঁকনি দিয়ে চাঁদ দেখুন, তারপর সেই ছাঁকনি দিয়ে স্বামীর মুখ দেখুন। তামার/মাটির কলস থেকে চন্দ্রকে অর্ঘ্য নিবেদন করুন এবং প্রদীপ দেখান।
- স্বামীর হাত থেকে জল পান করে এবং মিষ্টান্ন গ্রহণ করে ব্রত ভঙ্গ করুন। স্বামীর চরণে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিন।
- শাশুড়িকে (বা পরিবারের বড় সধবা নারীকে) বায়া (উপহার) — শুকনো ফল, বস্ত্র, শৃঙ্গারের সামগ্রী, মিষ্টান্ন — দিয়ে চরণে প্রণাম করুন। তারপর পরিবারের সাথে ভোজন করুন।
পূজা-সামগ্রীর তালিকা
পূজার একদিন আগে এই তালিকা দেখে সামগ্রী সংগ্রহ করে নিন; টিক চিহ্ন দিতে থাকুন।
- মাটির বা তামার কলস (নলযুক্ত) ও ঢাকনা
- ছাঁকনি
- করওয়া চৌথের ক্যালেন্ডার/চিত্র বা গৌরী-গণেশের মূর্তি
- মাটির প্রদীপ, ঘি, তুলোর সলতে
- রোলি, কুমকুম, হলুদ, অক্ষত (চাল), মৌলি (কলাবা)
- শলাকা (কলসে রাখার জন্য)
- ফুল, ফুলের মালা
- মিষ্টান্ন (মাঠরি, ফেনী, হালুয়া বা মালপুয়া)
- ফল — কলা, আপেল, ডালিম
- সধবার সামগ্রী — সিঁদুর, বিন্দি, চুড়ি, মেহেন্দি, কাজল, চিরুনি, আয়না
- গঙ্গাজল, তামার পাত্র
- চাল-চিনি (কলসের ঢাকনায় রাখার জন্য)
- বায়ার সামগ্রী — শুকনো ফল, বস্ত্র, শৃঙ্গার, দক্ষিণা
- পূজার থালা ও আসন
🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন
সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।
পঞ্জিকা দেখুন →ব্রত-কথা
প্রাচীনকালে এক বণিকের সাত পুত্র ও এক কন্যা ছিল — বীরাবতী। তার বিবাহ হয়েছিল এবং প্রথম করওয়া চৌথে সে বাপের বাড়িতে ছিল। ভাইদের আদরের বীরাবতী সারাদিন নির্জলা ব্রত রেখেছিল, কিন্তু সন্ধ্যায় সে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় মূর্ছিত হতে লাগল।
ভাইয়েরা বোনের এই অবস্থা দেখতে পারল না। তারা একটি পিপল গাছের আড়ালে প্রদীপ জ্বালিয়ে ঝাঁঝরির পিছনে রাখল এবং বোনকে বলল — «দেখো, চাঁদ উঠেছে, অর্ঘ্য দাও।» বীরাবতী নকল চাঁদে অর্ঘ্য দিয়ে ব্রত ভঙ্গ করল।
প্রথম গ্রাস মুখে দিতেই চুলে বালি পেল, দ্বিতীয় গ্রাসে হাঁচি এল এবং তৃতীয় গ্রাসে শ্বশুরবাড়ি থেকে খবর এল যে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। কাঁদতে কাঁদতে বীরাবতী শ্বশুরবাড়ি পৌঁছল; ননদ তাকে ব্রত ভাঙার ভুলের কথা বলল।
বীরাবতী স্বামীর মৃতদেহ দাহ করতে দিল না এবং সারা বছর প্রতি চতুর্থীর ব্রত নিষ্ঠার সাথে পালন করল। পরের করওয়া চৌথে করওয়া মাতা প্রসন্ন হলেন এবং তার স্বামী জীবিত হয়ে উঠল। তখন থেকেই বলা হয় — ব্রতে তাড়াহুড়ো কোরো না, আসল চাঁদকেই অর্ঘ্য দাও।
আরেকটি কাহিনীতে করওয়া নামের এক পতিব্রতা নারীর স্বামী নদীতে কুমিরের মুখে পড়েছিল; করওয়া কাঁচা সুতো দিয়ে কুমিরকে বেঁধে যমরাজের কাছে স্বামীর প্রাণ চাইল। তার তপস্যায় যমরাজকে নত হতে হয়েছিল। উভয় কাহিনী এটাই শেখায় যে নারীর শ্রদ্ধা ও সংকল্পে বড় শক্তি আছে।
সর্গী এবং ব্রত ভঙ্গের খাবার
সর্গী সকাল ৪-৫টায়, সূর্যোদয়ের আগে খাওয়া হয়। এতে এমন জিনিস রাখা উচিত যা সারাদিন শক্তি যোগায় এবং তৃষ্ণা কমায় — খুব নোনতা বা ঝাল জিনিস খাবেন না।
- সর্গী: ফেনি/সেমাই দুধে, মাঠরি, হালুয়া, নারকেল, বাদাম-কাজু-কিশমিশ, কলা-আপেল-বেদানা, এক গ্লাস জল বা ডাবের জল
- ব্রত ভঙ্গের পর: প্রথমে স্বামীর হাতে জল, তারপর মিষ্টি; এরপর হালকা খাবার — পুরি, আলু-মটর সবজি, ক্ষীর বা হালুয়া, দই
- যাদের মাথা ঘোরে বা দুর্বলতা থাকে, তারা সারাদিন কম কথা বলুন, রোদ এড়িয়ে চলুন এবং সন্ধ্যার পূজা বসে করুন; গর্ভবতী ও অসুস্থ মহিলারা ফলহার বা জল দিয়ে ব্রত রাখতে পারেন — এটি শাস্ত্রসম্মত।
বিভিন্ন এলাকার রীতি
একই ব্রত, কিন্তু প্রতি অঞ্চলের নিজস্ব রীতি — যা বাড়িতে চলে আসছে সেটাই সঠিক।
দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।
✅ মিল গিলি-রিডিং 1-2 দিনে একই পৃষ্ঠায় যোগ করবে। ধন্যবাদ!কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ পাঠানো হচ্ছেকী করবেন, কী করবেন না
✅ কী করবেন
- সর্গী সূর্যোদয়ের আগেই খান — সূর্যোদয়ের পর ব্রত শুরু বলে ধরা হয়
- সারাদিন মন শান্ত রাখুন, কাহিনী শুনুন, ভজন করুন
- চাঁদে অর্ঘ্য দেওয়ার সময় করবের জল ধারায় দিন, ফেলে দিয়ে নয়
- ঝাঁঝরি দিয়ে প্রথমে চাঁদ, তারপর স্বামীর মুখ — এই ক্রম রাখুন
- ব্রত স্বামীর হাতে জল পান করে ভঙ্গ করুন; বায়া শাশুড়িকে অবশ্যই দিন
❌ কী করবেন না
- দিনের বেলা ঘুমানো, কাঁচি-সূঁচের কাজ, সাদা বস্তুর (দুধ-দই-ভাত) দান — ঐতিহ্যে নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়
- কালো বা সাদা কাপড় পরবেন না; লাল-গোলাপী-হলুদ শুভ
- কোনো সধবার অপমান, মিথ্যা, কলহ — ব্রতের ফল কমে যায়
- নকল চাঁদে (ছবি/ভিডিও) অর্ঘ্য দেবেন না — কাহিনীর এটাই শিক্ষা
- অসুস্থ হলে নির্জলা থাকার জেদ করবেন না — জল ও ফল দিয়ে ব্রত বৈধ
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
করওয়া চৌথ 2026-এ কবে?
উপরে দেওয়া তারিখ এই বছরের সঠিক তারিখ — কার্তিক কৃষ্ণ চতুর্থী, Swiss Ephemeris পঞ্জিকা-গণনা থেকে। দিল্লির চন্দ্রোদয়-সময়ও সেখানেই দেওয়া আছে।
করওয়া চৌথে চাঁদ কতটায় উঠবে?
উপরে «চন্দ্রোদয়»-এ দিল্লির সময় আছে। পূর্বের শহরগুলিতে (লখনউ, পটনা) চাঁদ কয়েক মিনিট আগে এবং পশ্চিমে (জয়পুর, মুম্বাই) কয়েক মিনিট পরে ওঠে — আপনার শহরের সময় পঞ্জিকা-পৃষ্ঠায় দেখুন।
চাঁদ না দেখলে কী করব?
চন্দ্রোদয়ের সময়ের পর চাঁদের দিকে (পূর্ব) মুখ করে অর্ঘ্য দিন এবং শিবের মস্তকের চন্দ্রের স্মরণ করুন। অনেক পরিবার এমন পরিস্থিতিতে তুলসী বা মন্দিরের চূড়ায় অর্ঘ্য দিয়ে ব্রত ভঙ্গ করে।
কুমারী মেয়েরা কি করওয়া চৌথ রাখতে পারে?
হ্যাঁ, ভালো বরের কামনায় কুমারী কন্যারাও ব্রত রাখে; তারা চাঁদের পরিবর্তে তারাদের অর্ঘ্য দিয়ে ব্রত ভঙ্গ করে এবং ঝাঁঝরি দিয়ে চাঁদ দেখে না।
গর্ভবতী বা অসুস্থ মহিলা ব্রত কীভাবে রাখবে?
ফল, দুধ এবং জল নিয়ে ব্রত রাখুন — শাস্ত্রে রোগী, গর্ভবতী ও বৃদ্ধদের জন্য এই ছাড় আছে। নিষ্ঠার সাথে কাহিনী শোনা এবং চন্দ্র-অর্ঘ্য দেওয়াই প্রধান।
সর্গীতে কী খাব?
ফেনি বা সেমাই, মাঠরি, হালুয়া, ফল, মেওয়া, নারকেল এবং জল — হালকা ও মিষ্টি, যাতে সারাদিন তৃষ্ণা কম লাগে। খুব নোনতা-মশলাদার জিনিস খাবেন না।
আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।
✅ নথিভুক্ত হয়েছে — পরের ব্রতের একদিন আগে বার্তা আসবে।কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ নথিভুক্ত হচ্ছে…📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান
🌎 বিদেশে করবা চৌথ 2026: আমেরিকা · কানাডা · যুক্তরাজ্য · অস্ট্রেলিয়া · সংযুক্ত আরব আমিরাত · কাতার · সৌদি আরব · কুয়েত · ওমান · বাহরাইন · সিঙ্গাপুর · মালয়েশিয়া · নিউজিল্যান্ড · দক্ষিণ আফ্রিকা · মরিশাস · ফিজি · নেদারল্যান্ডস · জার্মানি · আয়ারল্যান্ড
আরও পড়ুন: অহোই অষ্টমী (একই সপ্তাহ) · দীপাবলি — লক্ষ্মী পুজো · শুভ মুহূর্ত · আরতি ও মন্ত্র
⚠️ এই বিবরণ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ও লোক-বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি; আপনার কুল-পরিবারের রীতিই সর্বোত্তম। স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার