🪔 ব্রত-উৎসব

❄️ পৌষ পূর্ণিমা (শাকম্ভরী জয়ন্তী) 2027

✍️ জ্যোতিষাচার্য আদিত্য ধর দ্বিবেদী · 🔎 শেষ পর্যালোচনা: · 🧮 গণনা-পদ্ধতি

পৌষ মাসের পূর্ণিমা — মাঘ-স্নানের আরম্ভ, প্রয়াগে কল্পবাসের সূচনা, শাকম্ভরী দেবীর জয়ন্তী এবং শীতে তিল-গুড়-কম্বলের দান।

পৌষ পূর্ণিমা (শাকম্ভরী জয়ন্তী) 2027-এর তিথি
শুক্রবার, 22 জানুয়ারি 2027
পৌষ · শুক্ল পক্ষ · পূর্ণিমা (বিক্রম সংবত 2084)
🕉 ব্রহ্ম মুহুরত05:38 AM – 06:26 AM
🌅 সূর্যোদয়7:14 AM
🌙 চাঁদের উদয়5:46 PM
📿 তিথি-কালপূর্ণিমা 21 জানুয়ারি, 9:30 PM → 22 জানুয়ারি, 5:47 PM
⭐ অভিজিৎ মুহূর্ত12:09 PM – 12:57 PM
⛔ রাহু কাল (এড়িয়ে চলুন)11:13 AM – 12:33 PM
সময় দিল্লি (আই. এস. টি) কে, সুইস এপিহেমেরিস-গণনা, উদীয়মান-তারিখের নিয়ম। চন্দ্রোদয়/সূর্যোদয় প্রতিটি শহরে পরিবর্তিত হয় -

পৌষ পূর্ণিমা বছরের সবচেয়ে শীতল পূর্ণিমা — মকর সংক্রান্তির কয়েক দিন পরেই (কখনো আগে)। এই দিন থেকেই মাঘ-স্নান (গোটা মাঘ মাস ভোরে নদীতে স্নান) ও প্রয়াগরাজের কল্পবাস শুরু হয়, যা মাঘ পূর্ণিমায় সম্পূর্ণ হয়। এটি শাকম্ভরী নবরাত্রির (পৌষ শুক্ল অষ্টমী থেকে পূর্ণিমা) শেষ দিন — শাকম্ভরী জয়ন্তী — ও বটে।

ঘরের মেয়েরা এই দিন পূর্ণিমা-ব্রত, সত্যনারায়ণ-কথা ও শাক-সবজি-ফলের দান করেন; বাংলা-ওড়িশায় এটি পৌষ-পার্বণ/পুষ্যাভিষেকের পূর্ণিমা। নিচে এ বছরের তারিখ, স্নানের মুহূর্ত, বিধি, সামগ্রী, কথা, ভোগ ও অঞ্চলের রীতি দেওয়া হল।

গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন

মাঘ-স্নানের সংকল্প এই পূর্ণিমাতেই নেওয়া হয় — «পৌষ পূর্ণিমা থেকে মাঘ পূর্ণিমা পর্যন্ত রোজ ভোরে স্নান, দান, সংযম»; প্রয়াগের কল্পবাসীরা এই দিনই সঙ্গমতীরে কুটির বাঁধেন।

শাকম্ভরী জয়ন্তী — দুর্গার সেই রূপ, যিনি দুর্ভিক্ষে নিজের শরীর থেকে শাক (সবজি-ফল) ফলিয়ে জগৎকে খাবার দিয়েছিলেন; তাই এই দিন শাক-সবজি-ফল-অন্নের দান ও অন্নের প্রতি কৃতজ্ঞতা — রান্নাঘরের দেবীর দিন।

পূর্ণিমা-ব্রত ও চন্দ্র-অর্ঘ্য; পৌষের চাঁদকে সূর্য-তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত বলে মানা হয় (পৌষ = সূর্যের মাস) — অনেক পরম্পরায় এই দিন সূর্য-চন্দ্র দুজনকেই অর্ঘ্য।

পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)

এটি ঘরোয়া বিধি — ভোরে স্নান ও মাঘ-স্নানের সংকল্প, দিনে ব্রত-দান, সন্ধ্যায় শাকম্ভরী/চন্দ্র-পূজা।

  1. ব্রাহ্মমুহূর্তে (উপরে সময়) নদী/পুকুরে বা বাড়িতে গঙ্গাজল-তিল মেশানো জলে স্নান; সূর্যকে অর্ঘ্য; মাঘ-স্নানের সংকল্প — «পৌষ পূর্ণিমা থেকে মাঘ পূর্ণিমা পর্যন্ত প্রতিদিন স্নান-দান করব।»
  2. পূর্ণিমা-ব্রতের সংকল্প; দিনে ফলাহার/একবেলা আহার; বিষ্ণু-লক্ষ্মীর পূজা — হলুদ ফুল, তুলসী, পঞ্চামৃত; সত্যনারায়ণ-কথা (সম্ভব হলে)।
  3. শাকম্ভরী পূজা (সন্ধ্যা): দুর্গা/শাকম্ভরী দেবীর ছবির সামনে মরসুমি সবজি-ফল (গাজর, মুলো, মটরশুঁটি, পালং, বেগুন, ফুলকপি, কুল, আপেল, কমলালেবু) চৌকিতে সাজিয়ে রাখুন; রোলি-অক্ষত-ফুল, প্রদীপ; «ওঁ শাকম্ভর্যৈ নমঃ» / দুর্গা-সপ্তশতীর শাকম্ভরী-প্রসঙ্গ (11তম অধ্যায়)।
  4. দান: তিল, গুড়, কম্বল/পশমের পোশাক, ঘি, অন্ন — এবং বিশেষ করে সবজি-ফল (শাক) অভাবী মানুষ/মন্দির/গোশালাকে; এই দিনের দান অক্ষয়।
  5. চন্দ্রোদয়ে (উপরে সময়) চাঁদকে দুধ-জলের অর্ঘ্য; পায়েসের ভোগ; ব্রত ভাঙুন।
  6. রাতে দুর্গা-চালিশা বা বিষ্ণু-ভজন; শাকম্ভরীকে নিবেদিত সবজি পরের দিন প্রসাদরূপে রেঁধে খান-বিলান।

📿 পৌষ পূর্ণিমা (শাকম্ভরী জয়ন্তী) কীভাবে পালন করবেন — বিস্তারিত বিধি, সামগ্রীর চেকলিস্ট ও নিয়ম →

পূজা-সামগ্রীর তালিকা

মরসুমি সবজি-ফলই এই দিনের মুখ্য সামগ্রী — ঘরে যা আছে তাই।

  • গঙ্গাজল, তিল, তামার ঘটি (স্নান-অর্ঘ্য)
  • বিষ্ণু-লক্ষ্মী ও দুর্গা/শাকম্ভরীর ছবি, চৌকি, লাল-হলুদ কাপড়
  • মরসুমি সবজি-ফল: গাজর, মুলো, মটরশুঁটি, পালং, মেথি, ফুলকপি, বেগুন, কুল, আপেল, কমলালেবু, আখ
  • রোলি, অক্ষত, ফুল, মৌলি, তুলসী, পঞ্চামৃত
  • প্রদীপ, ধূপ, কর্পূর, আরতির থালা
  • দান: তিল-গুড়, কম্বল/পশমের পোশাক, ঘি, অন্ন, সবজি-ফল
  • পায়েস (চন্দ্র-ভোগ), সত্যনারায়ণ-কথা হলে পাঞ্জিরি-কলা
  • দুর্গা-সপ্তশতী/দুর্গা-চালিশার বই

🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন

📅 আপনার শহরের পঞ্জিকা

সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।

পঞ্জিকা দেখুন →

ব্রত-কথা

পুরাণে — একশো বছর বৃষ্টি হল না, দুর্ভিক্ষ পড়ল; ঋষি-প্রাণীরা দেবীর স্তুতি করলেন। দেবী নিজের শরীর থেকে হাজার চোখ বের করে করুণার অশ্রুতে পৃথিবী সিঞ্চন করলেন এবং নিজের শরীর থেকে শাক-ফল-কন্দ ফলিয়ে সবাইকে খাবার দিলেন — এর থেকেই «শাকম্ভরী» (শাক ধারণকারিণী) নামে পরিচিত হলেন; দুর্গা-সপ্তশতীতে (মূর্তি-রহস্য/11তম অধ্যায়) দেবী নিজেই বলেন — «শাকৈঃ… শাকম্ভরীতি বিখ্যাতিং তদা যাস্যাম্যহং ভুবি»। পৌষ শুক্ল অষ্টমী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত শাকম্ভরী নবরাত্রি, পূর্ণিমায় জয়ন্তী।

📖 পৌষ পূর্ণিমা (শাকম্ভরী জয়ন্তী)-র সম্পূর্ণ ব্রত-কথা পড়ুন →

পূর্ণিমার পায়েস আর শাকম্ভরীর সবজি

এই দিনের ভোগ মরসুমের সবজি-ফল আর পায়েস; শাকম্ভরীকে নিবেদিত সবজির মিশ্র তরকারি পরের দিন প্রসাদ। শীতে তিল-গুড়-গাজরের পদ।

  • পায়েস (চন্দ্র-ভোগ), গাজরের হালুয়া, তিল-গুড়ের লাড্ডু, চিনাবাদাম-গুড়
  • শাকম্ভরী-প্রসাদ: নিবেদিত সবজির মিশ্র তরকারি (পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া), মেথি-পালংয়ের পুরি, মুলো-গাজরের স্যালাড, কুল-আপেল
  • বাংলা: পৌষ-পিঠে (পাটিসাপটা, দুধপুলি), খেজুর গুড়ের পায়েস; ওড়িশা: পিঠা-মণ্ডা, অরিসা
  • ব্রত: ফল-দুধ, সাবু; পারণ চন্দ্র-অর্ঘ্যের পরে
  • দানের শাক-ফল ভোগের আগে আলাদা রাখুন

বিভিন্ন এলাকার রীতি

উত্তরে মাঘ-স্নানের আরম্ভ, পুবে পিঠে-পূর্ণিমা, রাজস্থানে শাকম্ভরীর মেলা।

প্রয়াগরাজ-উত্তরপ্রদেশ-বিহার: কল্পবাসের প্রথম দিন — সঙ্গমতীরে কুটির, মাঘ-স্নানের সংকল্প, তিল-গুড়-কম্বল দান; বাড়িতে পূর্ণিমা-ব্রত, সত্যনারায়ণ-কথা; বিহারে «পূস পুন্নী»-তে তিলকুট-দই-চিঁড়ে।
রাজস্থান-উত্তরাখণ্ড: শাকম্ভরী জয়ন্তী — সাম্ভর (জয়পুর) ও সাহারানপুরের (উত্তরপ্রদেশ) শাকম্ভরী-দেবী মন্দিরে মেলা, সবজি-ফলের নিবেদন; নবরাত্রির (পৌষ শুক্ল অষ্টমী–পূর্ণিমা) সমাপ্তি; উত্তরাখণ্ডে «পূস কি পূর্ণিমা»-য় পিতৃপুরুষদের তর্পণ।
বাংলা-ওড়িশা-অসম: বাংলায় পৌষ-পার্বণের পিঠে-পুলি, পৌষ-লক্ষ্মী পূজা (আলপনা, নতুন ধান); ওড়িশায় জগন্নাথের পুষ্যাভিষেক, «পৌষ পূর্ণিমা»-য় লক্ষ্মীপূজা ও মণ্ডা-পিঠা; অসমে মাঘ-বিহুর কাছাকাছি।
মহারাষ্ট্র-গুজরাট: শাকম্ভরী পৌর্ণিমা — দেবী-মন্দিরে (তুলজাপুর, সপ্তশৃঙ্গী) শাকম্ভরী-উৎসব, সবজি-ফলের ভাণ্ডার-নিবেদন; গুজরাটে পৌষ-পুনমে অম্বাজি-দর্শন, চন্দ্র-পূজা।
দক্ষিণ ভারত: «থাই পূসম» (তামিলনাড়ু — পৌষ/থাই মাসের পুষ্যা-পূর্ণিমা): মুরুগনের মন্দিরে (পলনি) কাবড়-যাত্রা ও রাতভর উৎসব; তিরুবণ্ণামলাই; কর্ণাটক-অন্ধ্রে বনশঙ্করী (শাকম্ভরী) যাত্রা এর কাছাকাছি।
🙏 আপনার বাড়ির রীতিনীতি এর থেকে আলাদা? এখানে লিখুন

দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।

প্রতিটি পোস্ট করা রীতিনীতি আগে পড়া হয়-অশ্লীল/বিজ্ঞাপন/ভুল যোগ করা হয় না।

কী করবেন, কী করবেন না

✅ কী করবেন

  • ভোরে স্নান ও মাঘ-স্নানের সংকল্প — মাসভরের নিয়ম
  • সবজি-ফল-অন্নের দান — শাকম্ভরীর সার; কম্বল/পশমও
  • পূর্ণিমা-ব্রত, চন্দ্রোদয়ে অর্ঘ্য, পায়েস
  • সত্যনারায়ণ-কথা (সম্ভব হলে)
  • নিবেদিত সবজি পরের দিন প্রসাদরূপে রাঁধুন — ফেলবেন না

❌ কী করবেন না

  • শীতে নদীতে স্নান বয়স্ক/শিশু/রোগীরা করবেন না — বাড়িতে গঙ্গাজলেই যথেষ্ট
  • পূর্ণিমায় মাংস-মদ, কলহ, চুল-নখ কাটা
  • অন্ন-সবজির অপমান/অপচয় — শাকম্ভরীর দিনে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ
  • তুলসীপাতা সন্ধ্যায় তুলবেন না
  • ব্রতে তামসিক খাবার নয়

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পৌষ পূর্ণিমা 2027-এ কবে?

উপরে দেওয়া তারিখ এ বছরের পৌষ পূর্ণিমা — পঞ্জিকা-গণনা থেকে; ব্রাহ্মমুহূর্ত (স্নান) ও চন্দ্রোদয়ের দিল্লি-সময়ও সেখানেই।

মাঘ-স্নান/কল্পবাস কী?

পৌষ পূর্ণিমা থেকে মাঘ পূর্ণিমা পর্যন্ত রোজ ভোরে নদীতে স্নান, দান, সংযম (একবেলা আহার, সৎসঙ্গ) — বাড়িতে গঙ্গাজলেও মান্য; প্রয়াগ-সঙ্গমে কুটির বেঁধে থাকাকে কল্পবাস বলে।

শাকম্ভরী দেবী কে, তাঁর পূজা কীভাবে?

দুর্গার সেই রূপ, যিনি দুর্ভিক্ষে নিজের শরীর থেকে শাক-ফল ফলিয়ে জগৎকে খাইয়েছিলেন; পূজায় মরসুমি সবজি-ফল চৌকিতে সাজিয়ে নিবেদন করা হয় আর পরের দিন প্রসাদরূপে খাওয়া-বিলানো হয়; সবজি-ফল-অন্নের দানই মুখ্য।

পৌষ পূর্ণিমা আর মকর সংক্রান্তির সম্পর্ক কী?

দুটিই জানুয়ারিতে, কয়েক দিনের ব্যবধানে — সংক্রান্তি সূর্য থেকে (14 জানুয়ারির কাছাকাছি), পূর্ণিমা চান্দ্র তিথি থেকে; দুটিতেই তিল-গুড়-কম্বলের দান ও স্নান — শীতের পুণ্য-পক্ষ।

এই দিন কি সত্যনারায়ণ কথা করা যায়?

হ্যাঁ — প্রতিটি পূর্ণিমার মতো পৌষ পূর্ণিমাতেও; মাঘ-স্নানের সংকল্প কথার সঙ্গে নেওয়ার রীতি আছে।

🔔 মনে করিয়ে দিন — প্রতি ব্রতের একদিন আগে

আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।

বার্তা Nakshtra Tak-এর তরফ থেকে আসবে; নম্বর অন্য কাউকে দেওয়া হয় না।

📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান

আরও পড়ুন: মকর সংক্রাংতি · মৌনী অমাবস্যা · মাঘ পূর্ণিমা (কল্পবাস-সমাপ্তি) · পূর্ণিমা-তালিকা

⚠️ এই বিবরণ ঐতিহ্যবাহী বিধি ও লোকবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে লেখা; আপনার কুল-পরিবারের রীতিই সর্বোপরি। শীতে স্নানে স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন।

🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার