🌾 বৈশাখী / বিষু / বিহু / পুথান্ডু (মেষ সংক্রান্তি — সৌর নববর্ষ) 2027
13-14 এপ্রিল — সূর্যের মেষ রাশিতে প্রবেশ; পাঞ্জাবের বৈশাখী (ফসল-খালসা), কেরলের বিষু (বিষুক্কণি), অসমের বোহাগ বিহু, তামিল পুথান্ডু, বাংলার পয়লা বৈশাখ, ওড়িশার মহা-বিষুব (পণা) সংক্রান্তি, বিহার-নেপালের সতুয়ানি/জুড়-শীতল; গঙ্গাস্নান, নতুন শস্য।
প্রতি বছর 13-14 এপ্রিল সূর্য মেষ রাশিতে প্রবেশ করে — মেষ সংক্রান্তি; এটি ভারতের সৌর পঞ্জিকার নববর্ষ এবং দেশের অর্ধেক অংশের সবচেয়ে বড় ফসল-পর্ব: পাঞ্জাব-হরিয়ানায় **বৈশাখী** (রবিশস্য কাটা, 1699 সালে খালসা পন্থের প্রতিষ্ঠা), কেরলে **বিষু** (বিষুক্কণি — সকালে চোখ খুলেই শুভ-দর্শন, কৈনীট্টম), অসমে **বোহাগ (রঙালি) বিহু** (সাত দিন — গরু, মানুহ, গোসাঁই বিহু), তামিলনাড়ুতে **পুথান্ডু** (চিত্তিরৈ 1), বাংলায় **পয়লা বৈশাখ** (হালখাতা), ওড়িশায় **মহা-বিষুব/পণা সংক্রান্তি**, বিহার-মিথিলা-নেপালে **সতুয়ানি/জুড়-শীতল**, নেপালে **নববর্ষ (বৈশাখ 1)**, হিমাচলে **বিশু**, উত্তরাখণ্ডে **বিখৌতি**।
বাড়ির মেয়েরা এই দিন নতুন শস্য (গম-ছাতু-আম-পণা) দিয়ে রান্না করেন, গঙ্গা/নদীতে স্নান, সূর্য-অর্ঘ্য, দান (ছাতু-জল-কলসি — গরমের দান), নতুন কাপড়; বৈশাখীতে ভাংড়া-গিদ্দা ও গুরুদ্বার, বিষুতে বিষুক্কণি-সদ্যা-বাজি, বিহুতে পিঠা-লাড়ু ও বিহু-নাচ। উপরে এই বছরের মেষ সংক্রান্তির তিথি (সংক্রান্তি-কাল অনুযায়ী 13 বা 14 এপ্রিল); নিচে প্রতিটি প্রদেশের বিধি, সামগ্রী, কাহিনি ও রান্নার পদ।
গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন
জ্যোতির্বিদ্যা: সূর্য নিরয়ণ মেষে — বৈদিক সৌর-বর্ষের সূচনা (মহাবিষুব — একসময় দিন-রাত সমান হওয়ার বিন্দু, অয়নাংশের কারণে এখন 14 এপ্রিলের কাছাকাছি); সৌর পঞ্জিকাগুলি (তামিল, মালয়ালম, বাংলা, অসমিয়া, ওড়িয়া, পাঞ্জাবি-নানকশাহী, নেপালি বিক্রম-সৌর) সবই এখান থেকে গোনে; সংক্রান্তি সূর্যাস্তের পরে হলে পর্ব পরের দিন (14) — উপরের তিথি এই নিয়মেই।
বৈশাখী 1699: গুরু গোবিন্দ সিংহ আনন্দপুর সাহিবে খালসা পন্থের প্রতিষ্ঠা করেন (পঞ্জ প্যারে) — শিখদের কাছে এ যেন ধর্মীয় নববর্ষ; 1919-এর জালিয়ানওয়ালা বাগও বৈশাখীর দিনে; কৃষকদের রবিশস্য কাটার উৎসব — «জট্টা আই বৈশাখী»; হরিদ্বার-ঋষিকেশে মেষ-সংক্রান্তির গঙ্গাস্নান (সত্যযুগ শুরুর বিশ্বাস), গঙ্গা-অবতরণের সঙ্গে যুক্ত গঙ্গা-সপ্তমী আলাদা।
বিষু: সকালে সবার আগে «কণি» (কৃষ্ণ-প্রতিমা, কোন্না (সোনালু) গাছের হলুদ ফুল, চাল, ফল, সোনা-মুদ্রা, আয়না, প্রদীপ — উরুলিতে) দেখা = সারা বছর সমৃদ্ধি; বড়দের কাছ থেকে কৈনীট্টম (মুদ্রা); বিহু: গরুর পূজা (গরু বিহু — ফসল কাটার পরে), নতুন বছর (মানুহ বিহু — বড়দের গামোছা), বিহু-গান-নাচ (ঢোল-পেঁপা), পিঠা; পুথান্ডু: কণি (তামিল), মাঙ্গা-পচ্চড়ি (ছয় রস), পঞ্জিকা-শ্রবণ; পয়লা বৈশাখ: হালখাতা (নতুন খাতা), প্রভাতফেরি (কলকাতা), পান্তা-ভাত (বাংলাদেশ)।
পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)
এটি সৌর নববর্ষের ঘরোয়া বিধি — সব প্রদেশের সাধারণ অঙ্গ (স্নান-সূর্য-নতুন শস্য-দান) আগে, তারপর বৈশাখী/বিষু/বিহু/পুথান্ডু/পয়লা বৈশাখ/সতুয়ানির নিজস্ব রীতি।
- সাধারণ: ব্রাহ্ম মুহূর্তে/সূর্যোদয়ে স্নান (নদী — গঙ্গা-হরিদ্বার, ব্রহ্মপুত্র, কাবেরী, মহানদী — বা বাড়িতে গঙ্গাজল), সূর্য-অর্ঘ্য (জল-লাল ফুল-অক্ষত, «ওঁ ঘৃণি সূর্যায় নমঃ»), নতুন/পরিষ্কার বস্ত্র; ঠাকুরঘরে কুলদেবতা/বিষ্ণু-সূর্যের পূজা, নতুন পঞ্জিকা/ক্যালেন্ডার স্থাপন (পঞ্জিকা-শ্রবণ — বর্ষফল পাঠ); পিতৃপুরুষদের জল; দান — ছাতু, জলের কলসি, পাখা, ছাতা, গুড়, ছোলা (গরমের শুরুর দান), অন্ন-বস্ত্র।
- বৈশাখী (পাঞ্জাব-হরিয়ানা-দিল্লি): সকালে গুরুদ্বার — কীর্তন, অরদাস, লঙ্গর (খালসা-সিরজনা দিবস — নিশান সাহিব বদলানো, নগর-কীর্তন); খেতে কাটা ফসলের প্রথম আঁটি, «জট্টা আই বৈশাখী» — ভাংড়া-গিদ্দা, ঢোল, মেলা (তলবন্ডি সাবো, আনন্দপুর); বাড়িতে পায়েস, কড়াহ প্রসাদ, হলুদ পদ (মিষ্টি ভাত), সরষোঁ দা সাগ-মক্কির রুটি (মরসুমের শেষ), লস্যি; হিন্দু পরিবারে সূর্য-পূজা, গঙ্গাস্নান, নতুন ফসলের গম ভগবানকে নিবেদন।
- বিষু (কেরল): আগের রাতে বিষুক্কণি সাজানো — উরুলিতে (পিতলের থালা) কাঁচা চাল, কোন্না-ফুল (কণিক্কোন্না — সোনালু), শসা-কাঁঠাল-আম-কলা, সোনার গয়না, মুদ্রা, আয়না (বাল্কণ্ণাড়ি), নতুন কাপড়, ধর্মগ্রন্থ, নিলবিলক্কু — কৃষ্ণ/গুরুবায়ুরপ্পনের মূর্তির সামনে; সকালে বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠা নারী সবার আগে কণি দেখেন, তারপর এক-এক করে সবার চোখ বন্ধ করিয়ে কণির সামনে নিয়ে আসেন (প্রথম দর্শন); কৈনীট্টম — বড়রা ছোটদের মুদ্রা দেন; বিষু-সদ্যা (বিষুক্কট্টা, মাঙ্গা-পচ্চড়ি — ছয় রস), বাজি (বিষুপ্পড়ক্কম), গরু-পাখিদের কণির অংশ; শবরীমালা-গুরুবায়ুরে বিষুক্কণি-দর্শন।
- বোহাগ/রঙালি বিহু (অসম): চৈত্র-সংক্রান্তি (13 এপ্রিল — বিহু-1) «গরু বিহু» — গরু-বলদকে নদীতে স্নান করানো, হলুদ-মাষকলাই-লাউ-বেগুন দিয়ে, নতুন দড়ি, «লাউ খা, বেঙেনা খা…» গান; মেষ-সংক্রান্তি (14 — বিহু-2) «মানুহ বিহু» — স্নান, নতুন কাপড়, বড়দের গামোছা দিয়ে প্রণাম (বিহুবান), পিঠা (তিল-নারকেল), লাড়ু, দই-চিড়া; তৃতীয় দিন «গোসাঁই বিহু» — গৃহদেবতা, নামঘর; সাত দিন বিহু-নাচ (ঢোল-পেঁপা-গগনা), হুঁচরি (বাড়ি বাড়ি গান-আশীর্বাদ), মুকলি বিহু; বিহু-মঞ্চ।
- পুথান্ডু (তামিলনাড়ু): আগের রাতে «কণি» — থালায় ফল (আম-কাঁঠাল-কলা), ফুল, সুপারি, সোনা-রুপো, আয়না, নতুন পঞ্জিকা; সকালে কণি-দর্শন, স্নান, মন্দির, «পঞ্চাঙ্গ-পড়নম» (বর্ষফল শ্রবণ), মাঙ্গা-পচ্চড়ি (কাঁচা আম-নিম-গুড়-লঙ্কা-নুন-তেঁতুল — ছয় রস = জীবনের ছয় স্বাদ), বড়ৈ-পায়সম, মাদুরাই-মীনাক্ষীতে চিত্তিরৈ-তিরুবিড়া শুরু; তামিল নববর্ষের শুভেচ্ছা «ইনিয় পুত্তাণ্ডু নলবাড়ত্তুক্কল»।
- পয়লা বৈশাখ (বাংলা-ত্রিপুরা-বাংলাদেশ): সকালে প্রভাতফেরি (রবীন্দ্রসংগীত «এসো হে বৈশাখ»), নতুন কাপড় (লাল-সাদা শাড়ি), লক্ষ্মী-গণেশ পূজা ও **হালখাতা** — ব্যবসায়ীদের নতুন খাতা (স্বস্তিক-সিঁদুর), খদ্দেরদের মিষ্টি-ক্যালেন্ডার; বাড়িতে পায়েস-লুচি-মিষ্টি, কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বর; বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রা (ঢাকা), পান্তা-ইলিশ; «শুভ নববর্ষ»।
- পণা/মহা-বিষুব সংক্রান্তি (ওড়িশা): «পণা» (বেল-দই-গুড়-দুধ-কলার শরবত) বানিয়ে তুলসীমঞ্চে কলসি ঝোলানো (বসুন্ধরা-ঠেকি — গরমে ফোঁটা ফোঁটা করে গাছে জল), ছতুয়া (ছাতু) দান, হনুমান-জয়ন্তী (ওড়িশায় এই দিনেই), ঝামু-যাত্রা (আগুনের উপর দিয়ে হাঁটা), নতুন ওড়িয়া বর্ষ; সতুয়ানি/জুড়-শীতল (বিহার-মিথিলা-নেপাল-তরাই): ছাতু-গুড়-আমের চাটনি-টিকোরা, «জুড়-শীতল»-এ বড়রা ছোটদের মাথায় বাসি জল দেন (শীতলতার আশীর্বাদ), গাছপালায় জল, ঘর নিকোনো; নেপালে নববর্ষ (বৈশাখ 1) — ভক্তপুরের বিস্কেট-জাত্রা, স্নান-দান।
- উত্তরাখণ্ড-হিমাচল-কাশ্মীর: বিখৌতি (উত্তরাখণ্ড — মেলা, গঙ্গা-অলকানন্দায় স্নান, নতুন শস্য), বিশু/বৈশাখী (হিমাচল — দেব-মেলা), নবরেহ (কাশ্মীরি পণ্ডিত — চৈত্রে, সৌর থেকে আলাদা); তেলুগু-কন্নড়দের উগাদি চৈত্র-শুক্ল-প্রতিপদে (চান্দ্র) — এই পাতার বিষয় নয়; সব জায়গায় ছাতু-জল-আমের নতুন অন্ন।
পূজা-সামগ্রীর তালিকা
স্নান-সূর্য-দানের সামগ্রী + বিষুক্কণির উরুলি + বিহুর গামোছা-পিঠা + বৈশাখীর কড়াহ — প্রদেশ অনুযায়ী তালিকা।
- সাধারণ: গঙ্গাজল, সূর্য-অর্ঘ্যের ঘটি, লাল ফুল-অক্ষত, নতুন পঞ্জিকা/ক্যালেন্ডার, নতুন বস্ত্র, দান — ছাতু, জলের কলসি (মাটির), পাখা, ছাতা, গুড়-ছোলা, অন্ন
- বৈশাখী: কড়াহ প্রসাদ (আটা-ঘি-চিনি), হলুদ ভাত (কেশর), পায়েস, লস্যি, নতুন ফসলের গম; গুরুদ্বারে সেবা; ভাংড়া-ঢোল
- বিষুক্কণি: উরুলি/পিতলের থালা, কাঁচা চাল, কোন্না (সোনালু) ফুল, শসা-কাঁঠাল-আম-কলা-নারকেল, সোনা (গয়না), মুদ্রা, আয়না (বাল্কণ্ণাড়ি), নতুন মুণ্ডু/কসবু, ধর্মগ্রন্থ, নিলবিলক্কু, কৃষ্ণ-মূর্তি; কৈনীট্টমের মুদ্রা; বাজি; সদ্যার উপকরণ, মাঙ্গা-পচ্চড়ি (আম-গুড়-নিম-লঙ্কা)
- বিহু: গামোছা (লাল-সাদা বোনা গামছা — বড়দের/অতিথিদের), পিঠা (তিল-পিঠা, নারকেল-পিঠা, ঘিলা), লাড়ু (নারকেল-তিলের নাড়ু), দই-চিড়া-গুড়, গরুর জন্য হলুদ-মাষকলাই-লাউ-বেগুন-নতুন দড়ি (গরু বিহু), ঢোল-পেঁপা-গগনা-তাল, মেখেলা-চাদর
- পুথান্ডু: কণির থালা (ফল-ফুল-সুপারি-সোনা-আয়না-পঞ্জিকা), মাঙ্গা-পচ্চড়ি (কাঁচা আম, নিমফুল, গুড়, লঙ্কা, নুন, তেঁতুল), বড়ৈ, পায়সম, নতুন পঞ্জিকা
- পয়লা বৈশাখ: নতুন খাতা (হালখাতা — লাল কাপড়), স্বস্তিক-সিঁদুর, লক্ষ্মী-গণেশ, মিষ্টি-ক্যালেন্ডার (খদ্দেরদের), পায়েস-লুচি, লাল-সাদা শাড়ি
- পণা সংক্রান্তি/সতুয়ানি: বেল-দই-গুড়-দুধ-কলা (পণা), মাটির কলসি (বসুন্ধরা-ঠেকি — তুলসীতে), ছতুয়া/ছাতু, আম-টিকোরা-চাটনি, গুড়; জুড়-শীতলের বাসি জল
🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন
সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।
পঞ্জিকা দেখুন →ব্রত-কথা
বৈশাখী 1699: গুরু গোবিন্দ সিংহ আনন্দপুর সাহিবে সভা ডাকলেন এবং তলোয়ার হাতে বললেন «একটি মাথা চাই» — পাঁচজন পালা করে মাথা দিলেন (দয়া রাম, ধরম দাস, হিম্মত রায়, মোহকম চাঁদ, সাহিব চাঁদ) — তাঁবু থেকে তাঁরা জীবিত ফিরে এলেন, গুরু তাঁদের অমৃত (খণ্ডে-বাটে-র পাহুল) পান করিয়ে «পঞ্জ প্যারে» ও খালসা পন্থ প্রতিষ্ঠা করলেন, «সিংহ» নাম, পাঁচ ককার; তারপর নিজেই তাঁদের কাছ থেকে অমৃত নিলেন — «আপে গুর চেলা»; তাই বৈশাখী খালসা-সিরজনা দিবস। 1919 সালে এই দিনেই জালিয়ানওয়ালা বাগের (অমৃতসর) হত্যাকাণ্ড — তাই এটি স্মরণ-দিবসও।
📖 বৈশাখী / বিষু / বিহু / পুথান্ডু (মেষ সংক্রান্তি — সৌর নববর্ষ)-এর সম্পূর্ণ ব্রত-কথা পড়ুন →
কড়াহ-হলুদ ভাত, বিষু-সদ্যা-মাঙ্গা-পচ্চড়ি, বিহু-পিঠা-লাড়ু, পণা-ছাতু, পান্তা-ইলিশ — সৌর নববর্ষের থালা
মেষ সংক্রান্তিতে প্রতিটি প্রদেশের «নতুন অন্ন» — পাঞ্জাবে নতুন গমের কড়াহ-পায়েস, কেরলে বিষু-সদ্যা ও মাঙ্গা-পচ্চড়ি (ছয় রস — জীবনের সব স্বাদ), অসমে পিঠা-লাড়ু-দই-চিড়া, তামিলনাড়ুতে পুথান্ডু-সদ্যা, বাংলায় পায়েস-লুচি, ওড়িশায় পণা-ছতুয়া, বিহার-নেপালে ছাতু-আম; গরমের শুরু — ঠান্ডা, কাঁচা, ছাতু-দই-বেলের খাবার।
- বৈশাখী: কড়াহ প্রসাদ (আটা-ঘি-চিনি সমান মাপে), হলুদ মিষ্টি ভাত (কেশর-কিশমিশ), পায়েস, ছোলে-ভাটুরে/পুরি, লস্যি, সরষোঁ দা সাগ (মরসুমের শেষ), নতুন গমের রুটি-গুড়
- বিষু: বিষুক্কট্টা (চাল-নারকেল-দুধের ভাপা পদ — প্রথম পদ), মাঙ্গা-পচ্চড়ি/বেপ্পম্পু-পচ্চড়ি (কাঁচা আম-নিম-গুড়-লঙ্কা — ছয় রস), বিষু-সদ্যা (পরিপ্পু-সাম্বার-অবিয়ল-থোরন-কালন-এরিশ্শেরি-পায়সম), কাঁঠাল-আমের পদ (চক্কা-প্রধমন), পাপড়ম-কলা
- বিহু: পিঠা — তিল-পিঠা (চালের গুঁড়োর রোলে তিল-গুড়), নারকেল-পিঠা, ঘিলা-পিঠা, চুঙা-পিঠা (বাঁশের চোঙে); লাড়ু (নারকেল/তিলের নাড়ু), দই-চিড়া-গুড়, মুড়ি, বরা চাল, মাছর টেঙা (টক মাছ — কিছু পরিবারে), বিহু-ভোজ
- পুথান্ডু: মাঙ্গা-পচ্চড়ি (কাঁচা আম + নিমফুল + গুড় + লঙ্কা + নুন + তেঁতুল — মিষ্টি-তেতো-টক-ঝাল-নোনতা-কষা), বড়ৈ, পায়সম, পোলি, ভাত-সাম্বার-রসম-অবিয়ল; কাঁঠাল-আম
- পয়লা বৈশাখ: পায়েস, লুচি-আলুর দম, সন্দেশ-রসগোল্লা-মিষ্টি দই, মাছ (বাংলায় উৎসবের ভোজ), বাংলাদেশে পান্তা-ভাত (জলে ভেজানো বাসি ভাত) + ইলিশ + ভর্তা
- পণা সংক্রান্তি/সতুয়ানি/জুড়-শীতল: পণা (বেল-দই-গুড়-দুধ-কলা-গোলমরিচ), ছতুয়া/ছাতু (যব-ছোলা — গুড়/নুন-পেঁয়াজ দিয়ে), আমের চাটনি-টিকোরা, বাসি ভাত-দই (জুড়-শীতল — বাসি খাবারে শীতলতা), পায়েস; নেপাল: সেল-রুটি, দই-চিউরা
বিভিন্ন এলাকার রীতি
একই সূর্য-সংক্রান্তি, আট নাম — পাঞ্জাবের ঢোল, কেরলের কণি, অসমের গামোছা, বাংলার হালখাতা, ওড়িশার পণা, বিহারের ছাতু, তামিলের পচ্চড়ি, নেপালের নববর্ষ।
দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।
✅ মিল গিলি-রিডিং 1-2 দিনে একই পৃষ্ঠায় যোগ করবে। ধন্যবাদ!কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ পাঠানো হচ্ছেকী করবেন, কী করবেন না
✅ কী করবেন
- সংক্রান্তির দিন নদীতে/বাড়িতে স্নান, সূর্য-অর্ঘ্য, নতুন পঞ্জিকা, নতুন বস্ত্র; বড়দের আশীর্বাদ (কৈনীট্টম/গামোছা/শগুন)
- নতুন অন্ন আগে ভগবান ও পিতৃপুরুষকে — গম/ছাতু/চাল; গরমের দান — ছাতু, জলের কলসি, পাখা, ছাতা
- নিজের প্রদেশের রীতি — ভোরে সবার আগে বিষুক্কণি, গরু বিহুতে গরুর পূজা, হালখাতায় লক্ষ্মী-গণেশ, পণা-ঠেকি তুলসীতে
- গুরুদ্বার/মন্দিরে সেবা, লঙ্গর-সদ্যায় গরিবকে খাওয়ানো; বিহু-ভাংড়া-নাচে পরিবার একসঙ্গে
- ফসল ও কৃষকের সম্মান — নতুন ফসলের জন্য কৃতজ্ঞতা
❌ কী করবেন না
- সংক্রান্তি-কালের কাছাকাছি (পুণ্যকাল) ঝগড়া-মিথ্যা-ঋণ নেওয়া নয় (লোকবিশ্বাস); বিষুতে কণির আগে অন্য কিছু দেখা নয়
- বাজি (বিষু) ও নাচ-মেলায় অসাবধানতা-নেশা নয়; গরু-বলদকে কষ্ট দেওয়া নয় (বিহুতে তো তাদেরই সম্মান)
- পূজার থালায় বাসি/আমিষ নয় (উৎসবের ভোজ আলাদা); পঞ্জিকা-ক্যালেন্ডারের অসম্মান নয়
- মেষ-সংক্রান্তিকে «চান্দ্র নববর্ষ» (উগাদি/গুড়ি পাড়ওয়া/নব-সংবৎসর)-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না — সেগুলি চৈত্র শুক্ল প্রতিপদের, এটি সৌর
- গরমে দান ভুলবেন না — ছাতু-জল-কলসি-ছাতা এই দিনের মুখ্য পুণ্য
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বৈশাখী/বিষু/বিহু 2027-এ কবে — 13 না 14 এপ্রিল?
উপরে এই বছরের মেষ সংক্রান্তির তিথি আছে — সূর্যের মেষ-প্রবেশের মুহূর্ত যদি সূর্যাস্তের পরে হয়, পর্ব পরের দিন (সাধারণত 14 এপ্রিল; কখনও 13); বৈশাখী-বিষু-পুথান্ডু-পয়লা বৈশাখ-পণা সংক্রান্তি একই দিনে; বোহাগ বিহুর গরু বিহু এক দিন আগে (চৈত্র-সংক্রান্তি) আর মানুহ বিহু মেষ-সংক্রান্তিতে; জুড়-শীতল সতুয়ানির পরের দিন; নিজের প্রদেশের পঞ্জিকা মিলিয়ে নিন।
বৈশাখী আর খালসার সম্পর্ক কী?
1699-এর বৈশাখীতে গুরু গোবিন্দ সিংহ আনন্দপুর সাহিবে পঞ্জ প্যারেকে অমৃত পান করিয়ে খালসা পন্থ প্রতিষ্ঠা করেন — তাই শিখদের কাছে বৈশাখী খালসা-সিরজনা দিবস (নানকশাহী ক্যালেন্ডারে বৈশাখ-1); গুরুদ্বারে নগর-কীর্তন, অখণ্ড পাঠ, লঙ্গর; সঙ্গে রবিশস্য কাটার কৃষক-পর্ব — দুটিই একই দিনে।
বিষুক্কণি কী এবং কীভাবে সাজাবেন?
«কণি» = বছরের প্রথম দর্শন — বিষুর ভোরে চোখ খুলেই শুভ জিনিস দেখা, যাতে বছরটা শুভ হয়; রাতে উরুলিতে (পিতলের থালা) কাঁচা চাল, কোন্নার (সোনালু) হলুদ ফুল, শসা-কাঁঠাল-আম-কলা-নারকেল, সোনার গয়না, মুদ্রা, আয়না (যাতে কণি ও নিজের মুখ দেখা যায়), নতুন কাপড়, ধর্মগ্রন্থ, জ্বলন্ত নিলবিলক্কু — কৃষ্ণ/গুরুবায়ুরপ্পনের মূর্তির সামনে; ভোরে বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠা নারী আগে দেখেন, তারপর সবার চোখ বন্ধ করিয়ে নিয়ে আসেন; তারপর কৈনীট্টম (মুদ্রা)।
বিহুর সাত দিন কী কী?
বোহাগ/রঙালি বিহু: 1 গরু বিহু (চৈত্র-সংক্রান্তি — গরু-বলদকে স্নান করানো ও পূজা), 2 মানুহ বিহু (মেষ-সংক্রান্তি — নববর্ষ, স্নান, নতুন কাপড়, গামোছা দিয়ে প্রণাম, পিঠা), 3 গোসাঁই বিহু (গৃহদেবতা/নামঘর), 4 তাতর বিহু (তাঁত-বস্ত্র), 5 নাঙলর বিহু (লাঙল-যন্ত্রপাতি), 6 ঘরচিয়া-জীবর বিহু (পোষা পশু), 7 চেরা বিহু (সমাপ্তি) — ক্রম ও নাম অঞ্চলভেদে বদলায়; পুরো সাত দিন বিহু-নাচ-হুঁচরি।
মাঙ্গা-পচ্চড়িতে ছয় রস কেন?
তামিল পুথান্ডু ও কেরল-বিষুর পচ্চড়িতে কাঁচা আম (টক), নিমফুল (তেতো), গুড় (মিষ্টি), লঙ্কা (ঝাল), নুন (নোনতা), তেঁতুল/কাঁচকলা (কষা) — ছয় স্বাদ = জীবনের সুখ-দুঃখ সবকিছুকে গ্রহণ করা; নতুন বছরের প্রথম গ্রাসে — উগাদি-পচ্চড়ির (তেলুগু-কন্নড়) ভাবও এটাই (নিম-গুড়)।
হালখাতা কী?
পয়লা বৈশাখে বাংলার ব্যবসায়ীদের নতুন খাতা (লাল কাপড়ে বাঁধা «হালখাতা») — লক্ষ্মী-গণেশ পূজার সঙ্গে প্রথম পাতায় স্বস্তিক-সিঁদুর, পুরোনো ধারের হিসাব বন্ধ, খদ্দেরদের দোকানে ডেকে মিষ্টি-ক্যালেন্ডার; কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বরে খাতা-পূজা; উত্তর ভারতের দীপাবলির চোপড়া-পূজার বাঙালি রূপ।
আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।
✅ নথিভুক্ত হয়েছে — পরের ব্রতের একদিন আগে বার্তা আসবে।কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ নথিভুক্ত হচ্ছে…📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান
🌎 বিদেশে বৈশাখী / বিষু / বিহু / পুথান্ডু (মেষ সংক্রান্তি — সৌর নববর্ষ) 2027: আমেরিকা · কানাডা · যুক্তরাজ্য · অস্ট্রেলিয়া · সংযুক্ত আরব আমিরাত · কাতার · সৌদি আরব · কুয়েত · ওমান · বাহরাইন · সিঙ্গাপুর · মালয়েশিয়া · নিউজিল্যান্ড · দক্ষিণ আফ্রিকা · মরিশাস · ফিজি · নেদারল্যান্ডস · জার্মানি · আয়ারল্যান্ড
আরও পড়ুন: মকর সংক্রাংতি/পোঙ্গল/লোহরি/মাঘ বিহু · চৈত্র নবরাত্রি/গুডি পাড়ওয়া/উগাদি (চন্দ্র নববর্ষ) · ওনম (কেরল) · হনুমান জয়ন্তী
⚠️ এই বিবরণ বিভিন্ন প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী রীতি ও লোক-বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি; আপনার কুল-পরিবার ও অঞ্চলের রীতিই সর্বোপরি। সংক্রান্তির তিথি (13/14 এপ্রিল) সংক্রান্তি-মুহূর্ত ও প্রাদেশিক পঞ্জিকা অনুযায়ী — নিজের প্রদেশের পঞ্জিকা মিলিয়ে নিন।
🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার
