🪔 ব্রত-উৎসব

🌾 হল ষষ্ঠী (ললহী ছট / হলছট) 2027

✍️ জ্যোতিষাচার্য আদিত্য ধর দ্বিবেদী · 🔎 শেষ পর্যালোচনা: · 🧮 গণনা-পদ্ধতি

ভাদ্রপদ কৃষ্ণা ষষ্ঠী — জন্মাষ্টমীর দুই দিন আগে, বলরাম-জয়ন্তী: পুত্রবতী মায়েদের ব্রত — লাঙলে চষা জমির শস্য নিষিদ্ধ, পসহী (তিন্নী) চাল, মহুয়া, মোষের দুধ-দই; ঝরবেরি-পলাশ-কুশের «ছট মাতা»; সন্তানের দীর্ঘায়ু ও সুখের জন্য; তিথি, বিধি, ব্রতকথা ও রীতি।

হল ষষ্ঠী (ললহী ছট / হলছট) 2027-এর তিথি
সোমবার, 23 আগস্ট 2027
ভাদ্রপদ · কৃষ্ণ পক্ষ · ষষ্ঠী (বিক্রম সংবত 2084)
🌅 সূর্যোদয়5:54 AM
📿 তিথি-কালষষ্ঠী 22 আগস্ট, 8:45 PM → 23 আগস্ট, 8:53 PM
⭐ অভিজিৎ মুহূর্ত11:59 AM – 12:47 PM
🌙 চাঁদের উদয়10:02 PM
⛔ রাহু কাল (এড়িয়ে চলুন)07:31 AM – 09:08 AM
সময় দিল্লি (আই. এস. টি) কে, সুইস এপিহেমেরিস-গণনা, উদীয়মান-তারিখের নিয়ম। চন্দ্রোদয়/সূর্যোদয় প্রতিটি শহরে পরিবর্তিত হয় -

**হল ষষ্ঠী** (ললহী ছট, হলছট, হরছট, বলদেব ছট) পালিত হয় ভাদ্রপদ কৃষ্ণপক্ষের ষষ্ঠীতে — কৃষ্ণ-জন্মাষ্টমীর ঠিক দুই দিন আগে। এটি ভগবান কৃষ্ণের দাদা **বলরামের** জয়ন্তী, যাঁর অস্ত্র লাঙল; তাই এই দিন লাঙলে চষা জমির কোনো শস্য বা ফল খাওয়া হয় না — শুধু না-চষা জমিতে আপনা থেকে জন্মানো «পসহী/তিন্নী» চাল, মহুয়া, আর গরুর বদলে মোষের দুধ-দই-ঘি। উত্তরপ্রদেশ (পূর্বাঞ্চল-অবধ-বুন্দেলখণ্ড), বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের পুত্রবতী মায়েরা ছেলের দীর্ঘায়ু, সুখ-সমৃদ্ধি ও রক্ষার জন্য এই ব্রত রাখেন।

ব্রতে ঝরবেরি (কুল), পলাশ আর কুশের ডাল দিয়ে উঠোনে «ছট মাতা»/হরছট বানিয়ে (বা পুকুরের প্রতীক বানিয়ে) সাত রকম শস্য, মহুয়া, কুশ, পসহী চাল ও দই নিবেদন করা হয় এবং সাতটি ব্রতকথা শোনা হয়। উপরে এই বছরের তিথি ও মুহূর্ত; নিচে বিধি, উপকরণ, ব্রতকথা (গরুর দুধের ভুল), ভোগ, বিভিন্ন অঞ্চলের রীতি ও প্রশ্নোত্তর।

গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন

বলরাম-জয়ন্তী: শেষনাগের অবতার বলরামের (হলধর, সংকর্ষণ) জন্ম ভাদ্রপদ কৃষ্ণা ষষ্ঠীতে — লাঙল ও মুষল তাঁর অস্ত্র, তিনি কৃষির দেবতা; তাই এই দিন লাঙলে চষা জমির ফসল (গম-চাল-ডাল-সবজি) নিষিদ্ধ, আর জমিতে লাঙল না চালানোর রীতি।

সন্তান-রক্ষার নারীব্রত: পুত্রবতী মায়েরা (অনেক বাড়িতে ছেলে-মেয়ে দুজনের জন্যই) সারাদিন নিরাহার বা ফলাহারে থাকেন — শুধু পসহী চাল ও মোষের দুধ; বিশ্বাস — ছট মাতা (ষষ্ঠী দেবী, শিশুদের রক্ষাকর্ত্রী) সন্তানকে দীর্ঘায়ু, নীরোগ ও সুখী রাখেন; জিউতিয়ার (আশ্বিন কৃষ্ণা অষ্টমী) এক মাস আগের এটিই প্রথম সন্তান-ব্রত।

ষষ্ঠী দেবী: স্কন্দের ধর্মপত্নী দেবসেনা, শিশুদের রক্ষাকর্ত্রী — ছঠী (জন্মের ষষ্ঠ দিন), ছট (কার্তিক), ললহী ছট — সবেরই অধিষ্ঠাত্রী দেবী; কুল-পলাশ-কুশের ডাল তাঁর প্রতীক।

মোষের দুধ কেন: ব্রতকথায় গরুর দুধ নিয়ে ভুলের ফলে বাছুরের দুঃখ — তাই গরুর দুধ-দই-ঘির বদলে মোষের; আর লাঙলের বদলে কোদালে ফলানো বা বুনো ফসল — প্রকৃতি ও পশু-রক্ষার লোকশিক্ষা।

পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)

হল ষষ্ঠীর ঘরোয়া বিধি — ভোরে মহুয়ার দাঁতন, পূজা দুপুর/অপরাহ্ণে (ছট মাতা), সন্ধ্যায় ব্রতকথা ও ফলাহার; উপকরণ আগের দিনই জোগাড় করে রাখুন (না-চষা জমির শস্য)।

  1. ভোরে: স্নান, মহুয়ার ডাল দিয়ে দাঁতন (লোকরীতি), নতুন বা পরিষ্কার পোশাক; সারাদিন লাঙলে চষা জমির শস্য-ফল নয় — কিছু মা নির্জলা/নিরাহার থাকেন, বেশিরভাগই পসহী চাল আর মোষের দইয়ে একবেলা খান।
  2. ছট মাতার প্রতীক: উঠোন বা পূজার জায়গার মাটি নিকিয়ে ছোট গর্ত বা পুকুরের ছবি (কিছু বাড়িতে) বানান; তাতে ঝরবেরি, পলাশ আর কুশের ডাল (তিনটি একসঙ্গে বেঁধে একটি ঝোপের মতো) দাঁড় করান — এটাই «হরছট»; অথবা দেওয়ালে ছট মাতার ছবি আঁকা।
  3. সংকল্প: «আমি (নাম) আমার ছেলে/সন্তানের (নাম) দীর্ঘায়ু, সুখ ও রক্ষার জন্য হল ষষ্ঠীর ব্রত রাখছি» — জল ছাড়ুন।
  4. পূজা: হলুদ-রোলি-অক্ষত, কাঁচা সুতো (ডালগুলিতে জড়ান), সাত রকম শস্য (যব-ছোলা-গম-ধান-ভুট্টা-মুগ-বিউলি — কিছু বাড়িতে 7 রকম ভাজা শস্য «সতনাজা»), মহুয়ার ফুল-ফল, পসহী (তিন্নী) চাল, মোষের দই-ঘি, লাই (ধানের খই), কুল, লাঙলের ছবি/বলরামের মূর্তি; সধবার সামগ্রী (চুড়ি-সিঁদুর) ছট মাতাকে; ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ।
  5. বলরাম-পূজা: লাঙল-মুষলের ছবি বা বলরামজির মূর্তি/ছবিকে হলুদ-চন্দন, নীল বস্ত্র (বলরাম নীলাম্বর), মহুয়া-পসহী চাল-দইয়ের ভোগ; «ওঁ বলভদ্রায় নমঃ» / «ওঁ সংকর্ষণায় নমঃ»।
  6. ব্রতকথা: হল ষষ্ঠীর সাতটি কথা (বা প্রধান কথা — গোয়ালিনী/গরুর দুধের) শোনা; প্রতিবার কথায় «হর ছট মাতা»-র স্মরণ; কথার পর সাত শস্য-মহুয়া-লাই প্রসাদ হিসেবে বিলোনো।
  7. মায়েদের রীতি: ছট মাতার ডালে জড়ানো সুতো/সন্তানের নামে গিঁট, পূজার পর সন্তানের পিঠে হলুদ-দই দিয়ে ছট মাতার হাত (আশীর্বাদ) বোলানো, পসহী-দইয়ের ফোঁটা; ছেলেমেয়েদের নতুন জামা/মিষ্টি।
  8. ফলাহার/খাওয়া: সন্ধ্যায় (বা পূজার পর) পসহী চাল, মোষের দই-দুধ-ঘি, মহুয়া, কোদালে খোঁড়া সবজি (কন্দ), ফল; পরদিন সাধারণ খাবারে পারণ; ডালগুলি জলে ভাসিয়ে দেওয়া বা অশ্বত্থ গাছের নিচে রাখা।

📿 কিভাবে হলশিশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি/হলশি /

পূজা-সামগ্রীর তালিকা

পসহী চাল, মহুয়া, মোষের দই, ঝরবেরি-পলাশ-কুশ, সাত শস্য — হল ষষ্ঠীর অনন্য তালিকা (এক দিন আগে জোগাড় করুন)।

  • ঝরবেরি (বুনো কুল), পলাশ (ঢাক-গাছ) ও কুশের ডাল — একটি ঝোপের মতো বাঁধার জন্য কাঁচা সুতো; ছট মাতার ছবি (থাকলে)
  • পসহী/তিন্নী (বুনো, না-চষা জমির) চাল — মুদির দোকান/মণ্ডিতে «পসহী চাল» নামে পাওয়া যায়; মহুয়ার শুকনো ফুল ও ফল
  • মোষের দুধ, দই, ঘি (গরুর নয় — ব্রতের নিয়ম); লাই (ধানের খই), কুল, সাত শস্য (যব-ছোলা-গম-ধান-ভুট্টা-মুগ-বিউলি)
  • হলুদ, রোলি, অক্ষত, চন্দন, মৌলি, পান-সুপারি, সধবার সামগ্রী (চুড়ি-সিঁদুর-টিপ — ছট মাতাকে), ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, কর্পূর
  • লাঙল-মুষলের ছবি বা বলরামজির মূর্তি/ছবি, নীল বস্ত্র; কলস (জল)
  • ব্রতকথার বই (হল ষষ্ঠী/হরছটের সাতটি কথা); ছেলেমেয়েদের জন্য নতুন জামা/মিষ্টি
  • খাবার: পসহী চাল, মোষের দই, কন্দমূল (কোদালে খোঁড়া), ফল, মহুয়ার লাড্ডু; সৈন্ধব লবণ

🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন

📅 আপনার শহরের পঞ্জিকা

সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।

পঞ্জিকা দেখুন →

ব্রত-কথা

হল ষষ্ঠীর প্রধান কথা: এক গোয়ালিনী ছিল গর্ভবতী; প্রসববেদনা নিয়েও সে দুধ-দই বেচতে বেরোল — পথে ঝরবেরির ঝোপের নিচে সে এক ছেলের জন্ম দিল এবং তাকে সেখানেই রেখে বেচতে চলে গেল। সেদিন ছিল হল ষষ্ঠী — গ্রামের মেয়েরা ব্রতের জন্য মোষের দুধ-দই চাইছিল; গোয়ালিনী লোভে পড়ে গরুর দুধ-দই মোষের বলে বেচে দিল আর ব্রতীদের ব্রত ভঙ্গ করাল। ওদিকে খেতে এক চাষি লাঙল চালাচ্ছিল — তার বলদ ভড়কে গেল, লাঙলের ফলা ঝোপের নিচে শোয়ানো শিশুর গায়ে লাগল, আর শিশুটি মারা গেল।

📖 'হলশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশশ

পসহী চাল, মোষের দই-ঘি, মহুয়া, লাই-কুল; লাঙলে চষা শস্য নিষিদ্ধ

হল ষষ্ঠীর খাবারই এর পরিচয় — না-চষা জমিতে জন্মানো পসহী (তিন্নী) চাল, মোষের দুধ-দই-ঘি, মহুয়া, কোদালে খোঁড়া কন্দমূল, ফল; গম-চাল-ডাল-সবজি (লাঙলে চষা) আর গরুর দুধের জিনিস নিষিদ্ধ; ভোগে সাত শস্য, লাই, কুল, মহুয়া ছট মাতা ও বলরামজিকে।

  • ভোগ: পসহী চাল (মোষের দই বা মোষের ঘি দিয়ে), মহুয়ার ফুল/লাড্ডু, লাই (খই), কুল, সাত শস্য (ভাজা), মোষের দুধের পায়েস (কিছু বাড়িতে), ফল
  • ব্রতীর খাবার: পসহী চাল-মোষের দই, মহুয়া, কন্দ (রতালু-রাঙা আলু — কোদালে খোঁড়া), কলা-আপেল-নাশপাতি, মোষের দুধ; সৈন্ধব লবণ
  • পরিবারের খাবার: সাধারণ, তবে অনেক বাড়িতে সেদিন গোটা পরিবারই গরুর দুধ ও লাঙলে চষা শস্য এড়িয়ে চলে (কুলরীতি)
  • ছেলেমেয়েদের জন্য: পসহী-দইয়ের ফোঁটা, মহুয়ার লাড্ডু, নতুন জামা, মিষ্টি; প্রসাদের শস্য সারা বাড়িতে
  • নিষিদ্ধ: গম-চাল (চষা জমির)-ডাল-সবজি, গরুর দুধ-দই-ঘি, লাঙল চালানো/খেতের কাজ (লোকনিয়ম), কুলের ডালে পা লাগানো

বিভিন্ন এলাকার রীতি

পূর্বাঞ্চল-অবধের «ললহী ছট», বুন্দেলখণ্ড-মধ্যপ্রদেশের «হলছট/হরছট», বিহারের «ললহী/লল্‌হা ছট», ছত্তিশগড়ের «কমরছট», গুজরাট-মহারাষ্ট্রের «রান্ধণ ছট/বলরাম জয়ন্তী» — তিথি এক, রূপ অনেক।

পূর্বাঞ্চল-অবধ (গোরখপুর, বস্তি, বারাণসী, লখনউ): «ললহী ছট» — উঠোনে ঝরবেরি-পলাশ-কুশের ঝোপ, সাত শস্য, মহুয়া, পসহী চাল-মোষের দই; মায়েরা সাতটি কথা শোনেন, সন্তানের পিঠে হলুদ-দই দিয়ে হাত বোলান; সেদিন লাঙল চলে না, গরুর দুধ চলে না; লাই-কুল-মহুয়ার প্রসাদ; পরদিন ডালগুলি অশ্বত্থতলায় বা পুকুরে।
বুন্দেলখণ্ড-মধ্যপ্রদেশ (ঝাঁসি, সাগর, গোয়ালিয়র, জব্বলপুর): «হলছট/হরছট» — দেওয়ালে ছট মাতার ছবি আঁকা, পুকুরের ছবি, ঝরবেরি-পলাশের ঝোপ; পসহী চাল, মহুয়া, মোষের দই; সাত শস্যের সতনাজা; ব্রত নিরাহার, ব্রতকথা সন্ধ্যায়; বলরাম ও লাঙলের পূজা; কোথাও কোথাও পুরুষদেরও লাঙল না চালানোর নিয়ম।
বিহার-ঝাড়খণ্ড: «ললহী/লল্‌হা ছট» — পুত্রবতী নারীরা, কুল-পলাশ-কুশের ডাল, সাত শস্য-মহুয়া-লাই, মোষের দই, পসহী চাল; মিথিলায় «হলষষ্ঠী/হলষষ্টী» বলদেব-পূজা; জিউতিয়ার (এক মাস পরে) মতোই সন্তান-ব্রত; ব্রতকথায় গরুর দুধের ভুল।
ছত্তিশগড়: «কমরছট» — মেয়েদের সবচেয়ে বড় পরব: উঠোনে সগরী (ছোট পুকুর) খুঁড়ে তাতে জল, পাড়ে কুল-পলাশ-কাশের ডাল, ছয়-ছয়টি কথা (ছট মাতার), পসহী (পসহর) চাল, মোষের দই, লাই, মহুয়া, সাত রকম শাক; মায়েরা সন্তানের পিঠে পোতী (হলুদ-দই) লাগান, «মাতা কমরছট»-এর ভজন।
গুজরাট-মহারাষ্ট্র: অমান্ত শ্রাবণ কৃষ্ণা ষষ্ঠী = «রান্ধণ ছট» (গুজরাট — শীতলা সাতমের আগের দিন রান্না করে রাখা) এবং «বলরাম জয়ন্তী/বলদেব ছট» — মন্দিরে বলরাম-পূজা; মহারাষ্ট্রে «বলরাম জয়ন্তী», চাষিরা লাঙল-বলদের পূজা করেন (বৈল-পোলাও এই মাসেই); ব্রজে (মথুরা-দাউজি) বলদেব ছটের মেলা, হুরঙ্গার মতো উৎসব।
🙏 আপনার বাড়ির রীতিনীতি এর থেকে আলাদা? এখানে লিখুন

দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।

প্রতিটি পোস্ট করা রীতিনীতি আগে পড়া হয়-অশ্লীল/বিজ্ঞাপন/ভুল যোগ করা হয় না।

কী করবেন, কী করবেন না

✅ কী করবেন

  • এক দিন আগেই পসহী চাল, মহুয়া, মোষের দই, ঝরবেরি-পলাশ-কুশ জোগাড় করে রাখুন; ভোরে মহুয়ার দাঁতন
  • ছট মাতা (ডাল) ও বলরামের (লাঙল) পূজা, সাত শস্য-লাই-কুল-মহুয়ার ভোগ, সাতটি ব্রতকথা, সন্তানকে হলুদ-দইয়ের আশীর্বাদ
  • সারাদিন লাঙলে চষা শস্য ও গরুর দুধের জিনিস নয় — শুধু পসহী-মোষের দই-মহুয়া-কন্দ-ফল
  • সেদিন খেতে লাঙল বা খোঁড়াখুঁড়ি নয় (চাষি পরিবার); গরু-বলদকে বিশ্রাম ও খাবার দিন
  • অসুস্থ/গর্ভবতী মায়েরা: ব্রতের বদলে পূজা-কথা, সন্তানকে ফোঁটা; একবেলা ফলাহারই যথেষ্ট

❌ কী করবেন না

  • গরুর দুধ-দই-ঘি (ব্রতকথার নিয়ম), লাঙলে চষা কোনো শস্য-ফল-সবজি; চষা জমির ফসলে ভোগ
  • গরুর দুধকে মোষের বলে দেওয়া/নেওয়া — ব্রতকথার পাপ; মিথ্যা-ছলনা (ব্রতের প্রাণই সত্য)
  • কুল-পলাশ-কুশের ডালে পা লাগানো, পূজার পর আবর্জনায় ফেলা — জলে বা অশ্বত্থতলায় দিন
  • ছেলেমেয়েদের ব্রত রাখতে চাপ দেওয়া; পসহী না পেলে ব্রত ছেড়ে দেওয়া — ফল-দুধেও (মোষের) চলে
  • হল ষষ্ঠীকে জন্মাষ্টমীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা — এটি দুই দিন আগে, বলরামের জন্মদিন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

হল ষষ্ঠী 2027-এ কবে?

ভাদ্রপদ কৃষ্ণা ষষ্ঠী — তিথি ও মুহূর্ত উপরে (দিল্লি); জন্মাষ্টমীর দুই দিন আগে; তিথির সময়সীমা উপরে, পূজা দুপুর-অপরাহ্ণে, ব্রতকথা সন্ধ্যায়।

হল ষষ্ঠীতে কী খাওয়া হয় আর কী হয় না?

খাওয়া হয় — পসহী/তিন্নী চাল (না-চষা জমির), মোষের দুধ-দই-ঘি, মহুয়া, কোদালে খোঁড়া কন্দ, ফল, লাই-কুল; খাওয়া হয় না — লাঙলে চষা জমির গম-চাল-ডাল-সবজি আর গরুর দুধ-দই-ঘি।

পসহী চাল কী, কোথায় পাওয়া যায়?

বুনো বা আপনা থেকে জন্মানো ধান (তিন্নী, পসহর, দেবধান) — লাঙল না চালিয়েই পুকুরপাড়ে জন্মায়; হল ষষ্ঠীর আগে মণ্ডি বা মুদির দোকানে «পসহী চাল» নামে পাওয়া যায়; না পেলে ফল আর মোষের দুধে ব্রত।

মোষের দুধই কেন?

ব্রতকথায় গোয়ালিনী গরুর দুধ মোষের বলে বেচে ছেলেকে হারিয়েছিল — তাই গরুর দুধ নিষিদ্ধ, মোষেরটা গ্রাহ্য; কোনো কোনো লোকমতে গরু বলরাম-কৃষ্ণের প্রিয়, সেদিন তার দুধ বাছুরের জন্য রেখে দেওয়া হয়।

ব্রত কার জন্য — ছেলে না মেয়ে?

প্রথা অনুযায়ী পুত্রবতী মায়েরা ছেলের জন্য রাখেন; এখন বেশিরভাগ বাড়িতে সব সন্তানের (ছেলে-মেয়ে) জন্যই রাখা হয় — ব্রতকথার নিয়ম একই।

ছট মাতার ঝোপ কীভাবে বানাব, পরে কী করব?

ঝরবেরি-পলাশ-কুশের ডাল সুতো দিয়ে বেঁধে নিকোনো মাটিতে বা গর্তে দাঁড় করান, সুতো জড়ান, সাত শস্য-মহুয়া-লাই নিবেদন করুন; পরদিন জলে ভাসিয়ে দিন বা অশ্বত্থ/তুলসীর কাছে রাখুন — পা যেন না লাগে।

হল ষষ্ঠী আর জিউতিয়া/ছট পূজার পার্থক্য কী?

তিনটিই সন্তান/ষষ্ঠী দেবীর সঙ্গে যুক্ত — হল ষষ্ঠী ভাদ্রপদ কৃষ্ণা 6 (বলরাম, পসহী-মোষের দই), জিউতিয়া আশ্বিন কৃষ্ণা 8 (নির্জলা, জীমূতবাহনের কথা), ছট পূজা কার্তিক শুক্লা 6 (সূর্যকে অর্ঘ্য); আলাদা আলাদা পাতা।

🔔 মনে করিয়ে দিন — প্রতি ব্রতের একদিন আগে

আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।

বার্তা Nakshtra Tak-এর তরফ থেকে আসবে; নম্বর অন্য কাউকে দেওয়া হয় না।

📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান

আরও পড়ুন: কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী (দুই দিন পরে) · জীবিত কন্যা (জিউতিয়া) · ষষ্ঠ পূজা · কাজরি তিজ · শীতলা সপ্তম/রান্না ছট

⚠️ এই বিবরণ প্রথাগত বিধি ও লোকবিশ্বাসের (হল ষষ্ঠীর ব্রতকথা) উপর ভিত্তি করে; নিজের কুল-পরিবার ও অঞ্চলের রীতিই সর্বোপরি। তিথি দিল্লির (IST) উদয়-তিথি অনুযায়ী; শারীরিক অসুস্থতায় নিরাহার থাকবেন না।

🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার