🪔 ব্রত-উৎসব

🥣 শীতলা সাতম ও রান্ধণ ছট (গুজরাট) 2027

✍️ জ্যোতিষাচার্য আদিত্য ধর দ্বিবেদী · 🔎 শেষ পর্যালোচনা: · 🧮 গণনা-পদ্ধতি

শ্রাবণ কৃষ্ণা ষষ্ঠী-সপ্তমী (অমান্ত — জন্মাষ্টমীর এক দিন আগে) — রান্ধণ ছটে সব রান্না সেরে সাতমে উনুন ঠান্ডা, শীতলা মাতার পূজা, বাসি খাবার; শিশুদের রোগ থেকে রক্ষার জন্য মায়েদের ব্রত; গুজরাট-সৌরাষ্ট্র-কচ্ছ-রাজস্থান (মারওয়াড়)।

শীতলা সাতম ও রান্ধণ ছট (গুজরাট) 2027-এর তিথি
মঙ্গলবার, 24 আগস্ট 2027
ভাদ্রপদ · কৃষ্ণ পক্ষ · সপ্তমী (বিক্রম সংবত 2084)
🌅 সূর্যোদয়5:55 AM
⭐ অভিজিৎ মুহূর্ত11:59 AM – 12:47 PM
🌇 সূর্যাস্ত6:52 PM
⛔ রাহু কাল (এড়িয়ে চলুন)03:37 PM – 05:14 PM
  • রংধন ছট (সব খাবার তৈরির দিন) — সোমবার, 23 আগস্ট 2027
  • শীতলা সাতম (বাসি খাবার - চুলা থেকে ঠান্ডা) মংগলবার, 24 আগস্ট 2027
সময় দিল্লি (আই. এস. টি) কে, সুইস এপিহেমেরিস-গণনা, উদীয়মান-তারিখের নিয়ম। চন্দ্রোদয়/সূর্যোদয় প্রতিটি শহরে পরিবর্তিত হয় -

শীতলা সাতম পালিত হয় গুজরাটি (অমান্ত) শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের সপ্তমীতে — কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর ঠিক এক দিন আগে (উত্তর-ভারতীয় পূর্ণিমান্ত গণনায় ভাদ্রপদ কৃষ্ণা সপ্তমী); তার এক দিন আগে **রান্ধণ ছট** (ষষ্ঠী) — যেদিন বাড়ির মেয়েরা পরের গোটা দিনের খাবার (থেপলা, ঢেবরা, পুরি, তরকারি, মিষ্টি, বাজরার রোটলা) রেঁধে রাতে উনুন ধুয়ে, হলুদ-কুমকুম দিয়ে পূজা করে ঠান্ডা করে দেন। সাতমে উনুন জ্বলে না — শীতলা মাতাকে বাসি (ঠান্ডা) খাবার নিবেদন করে গোটা পরিবার বাসি খাবার খায়।

শীতলা মাতা বসন্ত-হাম-ফোঁড়া-জ্বরের দেবী — «শীতলা» = যিনি শীতল রাখেন; মায়েরা সন্তানদের রোগ থেকে বাঁচাতে এই ব্রত রাখেন, শীতলা-মন্দিরে ঠান্ডা জল-দই-বাসি রুটি নিবেদন করেন, গাধাকে (শীতলার বাহন) খাবার দেন; ব্রতকথা (নিচে) এক বউয়ের, যে উনুন ঠান্ডা করতে ভুলে গিয়েছিল। উত্তর ভারতের **শীতলা অষ্টমী (বসৌড়া)** চৈত্রে এই একই ভাবের উৎসব — আলাদা পাতা। উপরে এই বছরের রান্ধণ ছট ও শীতলা সাতমের তিথি; নিচে বিধি, দুই দিনের রান্নার তালিকা, ব্রতকথা আর বিভিন্ন অঞ্চলের রীতি।

গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন

স্কন্দ পুরাণ: শীতলা দেবী — গাধার পিঠে আসীন, হাতে ঝাঁটা-কলস-কুলো-নিম, দুর্গারই রূপ — রোগনাশিনী; «শীতলে ত্বং জগন্মাতা…» স্তোত্র; তাঁর পূজা ঠান্ডা খাবারে — «আজ উনুন জ্বলবে না, দেবী শীতলতা পাবেন»; বর্ষার শেষে সংক্রামক রোগের মরসুমে একদিন রান্নাঘরের বিশ্রাম, বাসি-ঠান্ডা খাবারের লোক-স্বাস্থ্যবিজ্ঞান (রান্ধণ ছটের খাবার সাধারণত অনেকক্ষণ টেকে — থেপলা-শুকনো তরকারি-আচার)।

তিথির নিয়ম: গুজরাট-সৌরাষ্ট্র-কচ্ছে অমান্ত শ্রাবণ কৃষ্ণা ষষ্ঠী-সপ্তমী (জন্মাষ্টমীর আগে) — উপরের তালিকা এই অনুযায়ী; রাজস্থানেও (মারওয়াড়-যোধপুর) কিছু সমাজে «শীতলা সাতম» এই দিনেই, বাকিদের চৈত্রের বসৌড়া; মধ্যপ্রদেশ-মালওয়ায় «শীতলা সপ্তমী» শ্রাবণে; বাংলা-ওড়িশায় শীতলা পূজা চৈত্র/ফাল্গুনে।

নারীব্রত: মায়েরা সন্তানের রক্ষার (বসন্ত-হাম-জ্বর) জন্য রাখেন; সাতমে উপবাস/বাসি খাবার, শীতলা-দর্শন; নববধূর প্রথম সাতম শ্বশুরবাড়িতে; রান্ধণ ছট গুজরাটি রান্নাঘরের উৎসব — প্রতি বাড়িতে 10-15 রকম পদ; «সাতম-আঠম» (শীতলা সাতম + জন্মাষ্টমী) সৌরাষ্ট্রের বড় মেলা ও ছুটির পর্ব (দ্বারকা-জুনাগড়-ভাবনগরের লোকমেলা)।

পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)

এটি গুজরাটি বাড়ির রান্ধণ ছট–শীতলা সাতমের বিধি — ছটে রান্না ও উনুন-পূজা, সাতমে শীতলা-পূজা ও বাসি খাবার; মারওয়াড়-মালওয়ার পরিবারের জন্যও একই।

  1. রান্ধণ ছট (ষষ্ঠী) — সারাদিন: সকালে স্নান, ঘর ও রান্নাঘর পরিষ্কার; সাতমের (আর অনেক বাড়িতে আঠম/জন্মাষ্টমীরও) সব খাবার রাঁধা — থেপলা (মেথি/লাউ), ঢেবরা (বাজরা-মেথি), পুরি, বাজরার রোটলা, শুকনো তরকারি (ভরেলা রিংগণ/ঢ্যাঁড়স/করলা-আলু), ঝোল (কঢ়ি বানাবেন না — অনেক বাড়িতে), মিষ্টি (লাপসি/শিরো/লাডু/পুরণপোলি), ফরসাণ (ঢোকলা-খমণ-মুঠিয়া-পাত্রা), আচার-ছুন্দো, দই পাতা, খিচুড়ি নয় (ওটা টাটকা চাই); জল ভরে রাখা।
  2. রান্ধণ ছট — রাত: সব রান্না শেষ হলে উনুন/গ্যাস পুরোপুরি ঠান্ডা — উনুন জল দিয়ে ধোয়া, হলুদ-কুমকুম-চাল-ফুল দিয়ে পূজা, প্রদীপ, উনুনের উপর ঠান্ডা জলের ঘটি; «কাল আগুন জ্বলবে না» — এই সংকল্প; রান্নাঘরে শীতলা মাতার জন্য বাসি রুটি-দই-গুড় আলাদা করে রাখা; তাওয়া-কড়াই উপুড় করে রাখা (রীতি)।
  3. শীতলা সাতম — সকাল: ঠান্ডা জলে স্নান (গরম জল নয় — অনেক বাড়িতে), পরিষ্কার পোশাক; উনুন জ্বালানো নয়, চা-ও নয় (কঠোর রীতি — কিছু বাড়িতে দুধ-চা বাইরে থেকে/থার্মোসে); শীতলা মাতার মন্দিরে বা বাড়িতে ছবির পূজা — ঠান্ডা জল, দই, বাসি রুটি-থেপলা, গুড়, কুলের (বাজরা-গুড়-ঘি), মিষ্টি ভাত, নিমপাতা, হলুদ-কুমকুম, ফুল; «শীতলাষ্টক/শীতলা স্তোত্র»; গাধাকে খাবার-গুড় (শীতলার বাহন); মায়ের সামনে শিশুদের গায়ে ঠান্ডা জলের ছিটে — রোগ থেকে রক্ষা।
  4. শীতলা সাতম — ব্রতকথা: শীতলা সাতমের কথা (নিচে — বউ ও উনুন) পরিবারের সঙ্গে শোনা, সব মেয়েরা মিলে; ব্রতধারী মায়েরা ফলাহার বা একবেলা বাসি খাবার; শিশুদের ব্রত নয় — বাসি খাবার খাওয়ানো।
  5. শীতলা সাতম — খাবার: গোটা পরিবার সারাদিন বাসি (রান্ধণ ছটের) খাবার — থেপলা-দই-আচার, রোটলা-তরকারি, মিষ্টি, ফরসাণ; কিছুই গরম করা নয় (মাইক্রোওয়েভও নয় — রীতি); অতিথি-প্রতিবেশীকে বাসি খাবারের থালা উপহার; সন্ধ্যায় শীতলা-আরতি।
  6. সাতম — দিনভর: বাজার-মেলা (সাতম-আঠম মেলা — সৌরাষ্ট্র), দোলনা, ছোটদের খেলা; অনেক বাড়ির লোক পুকুর/নদীর ধারের শীতলা-মন্দিরে যান; রাত 12টা থেকে জন্মাষ্টমী (আঠম) — কানহার জন্ম, উনুন আবার জ্বলে (অনেক বাড়িতে আঠমেও সাত্ত্বিক-টাটকা)।
  7. আঠম (পরদিন — জন্মাষ্টমী): সকালে উনুন জ্বেলে প্রথমে শীতলা মাতাকে, তারপর কৃষ্ণকে টাটকা ভোগ; বেঁচে যাওয়া বাসি খাবার গরু-গাধা-গরিবকে; জন্মাষ্টমীর রাতের পূজা।
  8. উত্তর-ভারতীয় সমতুল্য পর্ব: চৈত্র কৃষ্ণা অষ্টমীর বসৌড়া (শীতলা অষ্টমী) — সপ্তমীতে রান্না, অষ্টমীতে বাসি; বিধি প্রায় একই — সেই পাতায়; রাজস্থান-মারওয়াড়ে শ্রাবণে «শীতলা সাতম»-এর রীতিও আছে।

📿 কিভাবে সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ (গুজারাত) করতে হয়-বিস্তারিত পদ্ধতি, উপাদানের তালিকা এবং নিয়ম

পূজা-সামগ্রীর তালিকা

রান্ধণ ছটের পুরো রান্নাঘর + উনুন-পূজা + শীতলা মাতার ঠান্ডা ভোগ — দুই দিনের তালিকা।

  • রান্ধণ ছটের রান্নাঘর: গম-বাজরার আটা, মেথি-লাউ (থেপলা-ঢেবরা), বেসন (খমণ-ঢোকলা-মুঠিয়া), কচুপাতা (পাত্রা), সবজি (বেগুন-ঢ্যাঁড়স-করলা-আলু), গুড়-ঘি (লাপসি-লাডু-কুলের), দই পাতার দুধ, আচার-ছুন্দো-মোরব্বা, মশলা, তেল
  • উনুন-পূজা: জল, হলুদ, কুমকুম, চাল, ফুল, প্রদীপ, ঠান্ডা জলের ঘটি; তাওয়া-কড়াই (উপুড় করে রাখার জন্য)
  • শীতলা মাতা: ছবি/মূর্তি (গাধার পিঠে, ঝাঁটা-কুলো-কলস হাতে), মন্দির-দর্শন; ভোগ — বাসি রুটি-থেপলা, দই, গুড়, কুলের (বাজরা-গুড়-ঘি), মিষ্টি ভাত (ঠান্ডা), ঠান্ডা জল, নিমপাতা, হলুদ-কুমকুম, ফুল (জবা-গাঁদা), নারকেল, কুলো-ঝাঁটা (প্রতীক — কিছু বাড়িতে)
  • স্তোত্র/ব্রতকথা: শীতলাষ্টক (স্কন্দ পুরাণ), শীতলা সাতমের কথা, আরতি
  • গাধার জন্য খাবার-গুড়; শিশুদের জন্য ঠান্ডা জলের ছিটে, নিম
  • ব্রত: ফলাহার (ফল-দই-দুধ — গরম না করে), বাসি খাবার; ঠান্ডা জলে স্নান
  • আঠম/জন্মাষ্টমী: টাটকা ভোগের উপকরণ (পরদিন)

🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন

📅 আপনার শহরের পঞ্জিকা

সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।

পঞ্জিকা দেখুন →

ব্রত-কথা

এক গ্রামে সব মেয়েরা রান্ধণ ছটে রান্না সেরে উনুন ঠান্ডা করত, সাতমে শীতলা মাতাকে বাসি ভোগ নিবেদন করত। এক মহাজনের বউ ক্লান্তিতে উনুন ঠান্ডা করতে ভুলে গেল — অঙ্গার ধিকিধিকি জ্বলতেই থাকল। রাতে শীতলা মাতা গ্রাম ঘুরতে বেরোলেন, প্রতিটি বাড়ির ঠান্ডা উনুনে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন; বউটির উনুনে শুতেই তাঁর গা পুড়ে গেল — রেগে গিয়ে দেবী বউয়ের ঘুমন্ত শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন (কোথাও: শিশুর জ্বর-বসন্ত হল)।

📖 শীতল আত্মা ও ইন্দ্রধনুষের (গুজরাত) পুরো উপবাসের গল্পটি পড়ুন।

রান্ধণ ছটের পুরো মেনু — থেপলা, ঢেবরা, রোটলা, লাপসি, ফরসাণ; সাতমে সবই ঠান্ডা

রান্ধণ ছট গুজরাটি রান্নাঘরের উৎসব — 10-15 রকম পদ, যা পরদিন ঠান্ডাতেও সুস্বাদু থাকে (তেল-মশলা-শুকনো তরকারি-আচার); সাতমে কিছুই গরম নয় — দই-আচার-ছুন্দো দিয়ে থেপলা-রোটলা; শীতলা মাতাকে কুলের ও বাসি রুটি-দই; বাসি খাবার পেটের পক্ষে হালকা বলে মনে করা হয় (গাঁজন)। নিচে তালিকা।

  • রুটি-জাতীয়: মেথি-থেপলা, লাউ-থেপলা, ঢেবরা (বাজরা-মেথি-গুড়), বাজরা-জোয়ারের রোটলা, পুরি (মশলা), ভাখরি — সাতমে দই-আচার দিয়ে
  • তরকারি (শুকনো/তেলে রাঁধা — ঠান্ডাতেই ভালো): ভরেলা রিংগণ-বটাকা (পুর-ভরা বেগুন-আলু), ঢ্যাঁড়স-সম্ভারো, কারেলা (করলা)-র শাক, তুবের-ঢোকলি (কিছু বাড়িতে), শুকনো আলু, সম্ভারো (বাঁধাকপি-গাজর-লঙ্কার প্রায়-টাটকা আচার)
  • ফরসাণ: খমণ-ঢোকলা, মুঠিয়া, পাত্রা (কচুপাতা), খান্ডভি, চকরি-গাঁঠিয়া-সেও, ডাল-বড়া, ভজিয়া (ছটের দিনে)
  • মিষ্টি: লাপসি (ভাঙা গম-গুড়-ঘি), শিরো, বোঁদে/মতিচুরের লাডু, পুরণপোলি, ঘারি (সুরাট), মোহনথাল, পায়েস (ঠান্ডা), কুলের (বাজরার আটা-ঘি-গুড় — শীতলা মাতার বিশেষ ভোগ), শ্রীখণ্ড (ছটের দিনে পেতে রাখা)
  • আচার-চাটনি-দই: ছুন্দো (আমের মিষ্টি আচার), গুন্দা-কেরি, মেথিয়া, সবুজ চাটনি, দই (ছটের রাতে পাতা), ঘোল (মন্থন করা যায় — আগুন ছাড়াই)
  • শীতলা-ভোগ: কুলের, বাসি রুটি/থেপলা, দই, গুড়, মিষ্টি ভাত, ঠান্ডা জল, নিম; আঠমে টাটকা — পঞ্জিরি-মাখন (কৃষ্ণ)

বিভিন্ন এলাকার রীতি

সৌরাষ্ট্রের সাতম-আঠম মেলা, আমেদাবাদের থেপলা, কচ্ছের শীতলা, মারওয়াড়ের সাতম, মালওয়ার সপ্তমী — উনুন ঠান্ডা, মন শীতল।

মধ্য-উত্তর গুজরাট (আমেদাবাদ-বরোদা-সুরাট-মেহসানা): রান্ধণ ছটে প্রতি বাড়ির রান্নাঘরে উৎসব — থেপলা-ঢেবরা-লাপসি-ফরসাণ; সাতমে শীতলা মাতার মন্দিরে (আমেদাবাদ — কালুপুর/শীতলা-মন্দির), বাসি খাবার, শিশুদের গায়ে ঠান্ডা জল; সুরাটে ঘারি-লোচো (ছটের দিনে), সাতম-আঠমের ছুটি; বরোদা-মেহসানায় শীতলা মাতার লোকমেলা, গাধাকে গুড়-খাবার; আঠমে কানহার জন্ম।
সৌরাষ্ট্র-কচ্ছ (রাজকোট-জামনগর-ভাবনগর-জুনাগড়-ভুজ): «সাতম-আঠম» সৌরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় লোকমেলা ও ছুটির পর্ব — জামনগর-রাজকোট-ভাবনগর-পোরবন্দর-দ্বারকার মেলা (নাগরদোলা, লোকনৃত্য, দোকানপাট), শীতলা মাতার মন্দির (রান্ধণ ছটের রান্না নিয়ে), কুলের-রোটলা-গুন্দা-কেরি; কচ্ছে শীতলা সাতমে «শীতলা-আঠম-মেলা», বাজরার রোটলা-ঘোল; গির-জুনাগড়ে লোকমেলা; কারিগর-চাষি-ব্যবসায়ী সবার কাজ বন্ধ — তিন দিনের (ছট-সাতম-আঠম) উৎসব।
রাজস্থান-মারওয়াড় (যোধপুর-বিকানের-জয়সলমের) ও মধ্যপ্রদেশ-মালওয়া: মারওয়াড়ে «শীতলা সাতম» — যোধপুরের কয়েকটি সমাজ শ্রাবণ কৃষ্ণা সপ্তমীতে বাসি খাবার ও শীতলা-পূজা করে (গুজরাটের প্রভাব), তবে রাজস্থানের বেশিরভাগ জায়গায় চৈত্রের শীতলা অষ্টমীই (বসৌড়া) প্রধান; বিকানের-জয়সলমেরে শীতলা-মন্দির, গাধাকে খাবার; মধ্যপ্রদেশ-মালওয়ায় (ইন্দোর-উজ্জয়িনী) কিছু পরিবারে শ্রাবণে «শীতলা সপ্তমী», চৈত্রের বসৌড়াই বেশি; গুজরাটি-মারওয়াড়ি প্রবাসীরা (মুম্বই-কলকাতা-চেন্নাই) বাড়ির রীতি অনুযায়ী।
মহারাষ্ট্র-গোয়া (গুজরাটি-মারওয়াড়ি সমাজ ও স্থানীয়): মুম্বই-পুনে-নাশিকের গুজরাটি-কচ্ছি পরিবারগুলি রান্ধণ ছট-সাতম পুরো রীতি মেনে পালন করে (থেপলা-ঢেবরা, শীতলা-মন্দির — মুম্বইয়ের ভুলেশ্বর/মালাড); মারাঠি সমাজে কোথাও কোথাও আষাঢ়-শ্রাবণে «শীতলা সপ্তমী»-তে শীতলা-পূজা, চৈত্রের অষ্টমী বেশি; গোয়া-কোঙ্কণে শীতলার (সান্তেরী/শীতলা দেবী) মন্দির, নারকেল-ভোগ।
উত্তরপ্রদেশ-বিহার-দিল্লি-হরিয়ানা (বসৌড়ার সমতুল্য): এখানে প্রধান পর্ব চৈত্র কৃষ্ণা অষ্টমীর শীতলা অষ্টমী/বসৌড়া — সপ্তমীতে রান্না (পুরি-মিষ্টি ভাত-বাজরা), অষ্টমীতে বাসি খাবার, শীতলা-মন্দির (গুড়গাঁওয়ের শীতলা মাতা, কানপুর, আগ্রা); শ্রাবণের সাতম গুজরাটি-মারওয়াড়ি প্রবাসীদের মধ্যে; বিহার-বাংলায় শীতলা পূজা ফাল্গুন-চৈত্রে (বাংলায় «শীতলা পুজো» — বাসি-পান্তা)।
দক্ষিণ ভারত (সমতুল্য দেবী): তামিলনাড়ু-কর্ণাটক-অন্ধ্রে শীতলার সমতুল্য মারিয়াম্মন/পোলেরাম্মা/এল্লাম্মা — আডি (শ্রাবণ) মাসে «আডি পূরম/কূল-অর্পণ» (ঠান্ডা জাউ-কূল, নিমপাতা, ঘোল — রোগের দেবীকে শীতলতা), অন্ধ্রে «পোলেরাম্মা জাতরা», কর্ণাটকে «মারিকাম্বা»; ভাব একই — গ্রীষ্ম-বর্ষার রোগের দেবীকে ঠান্ডা খাবার; গুজরাটি প্রবাসীরা (বেঙ্গালুরু-চেন্নাই) বাড়িতেই সাতম-আঠম পালন করেন।
🙏 আপনার বাড়ির রীতিনীতি এর থেকে আলাদা? এখানে লিখুন

দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।

প্রতিটি পোস্ট করা রীতিনীতি আগে পড়া হয়-অশ্লীল/বিজ্ঞাপন/ভুল যোগ করা হয় না।

কী করবেন, কী করবেন না

✅ কী করবেন

  • রান্ধণ ছটে সব রান্না সেরে রাতে উনুন ধুয়ে পূজা করুন, ঠান্ডা রাখুন; সাতমে আগুন নয়
  • শীতলা মাতাকে ঠান্ডা জল-দই-বাসি রুটি-কুলের-নিম; গাধাকে খাবার-গুড়; শিশুদের গায়ে ঠান্ডা জলের ছিটে
  • বাসি খাবার ঠান্ডা ও পরিষ্কার রাখুন (ঢেকে, হাওয়া-চলাচলের জায়গায়) — থেপলা-শুকনো তরকারি-আচার টেকসই; ব্রতকথা শুনুন
  • আঠমে প্রথমে শীতলাকে, তারপর কৃষ্ণকে টাটকা ভোগ; বেঁচে যাওয়া বাসি খাবার গরু ও গরিবকে
  • অসুস্থ/গর্ভবতী/শিশু: বাসির বদলে ফল-দুধ-দই (গরম না করে) — আগে স্বাস্থ্য

❌ কী করবেন না

  • সাতমে উনুন-গ্যাস-মাইক্রোওয়েভ জ্বালানো, গরম জল, চা বানানো (রীতি — আগুনে শীতলার কষ্ট হয়)
  • রান্ধণ ছটের খাবার গরম-আর্দ্রতায় নষ্ট হতে দেওয়া — দুধের পদ/খিচুড়ি-ভাতের মতো জিনিস (তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়) রাখবেন না; ফ্রিজের ব্যবহার রীতি অনুযায়ী
  • শীতলা মাতাকে গরম/সদ্য-রাঁধা ভোগ, লাল লঙ্কা-ঝাল মশলা; নিমগাছের ক্ষতি
  • অসুস্থ হলে শিশুদের জোর করে বাসি খাওয়ানো; গাধাকে কষ্ট দেওয়া
  • সাতমে সেলাই-কাঁচি-চুল-নখ কাটা (লোকনিয়ম); ঝগড়া

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শীতলা সাতম ও রান্ধণ ছট 2027-এ কবে?

উপরে এই বছরের দুটি তিথিই দেওয়া আছে — রান্ধণ ছট (শ্রাবণ কৃষ্ণা ষষ্ঠী, অমান্ত) আর শীতলা সাতম (সপ্তমী), জন্মাষ্টমীর (আঠম) ঠিক আগে; উত্তর-ভারতীয় পূর্ণিমান্ত পঞ্জিকায় এটি ভাদ্রপদ কৃষ্ণা ষষ্ঠী-সপ্তমী — তিথি একই; গুজরাটি পঞ্জিকা দেখে মিলিয়ে নিন।

শীতলা সাতম আর শীতলা অষ্টমীর (বসৌড়া) পার্থক্য কী?

দুটোই শীতলা মাতার বাসি-খাবারের পর্ব — শীতলা সাতম গুজরাট-সৌরাষ্ট্র-কচ্ছের, শ্রাবণ (অমান্ত) কৃষ্ণা সপ্তমীতে, জন্মাষ্টমীর আগে (বর্ষার শেষে); শীতলা অষ্টমী/বসৌড়া উত্তর ভারত-রাজস্থান-মধ্যপ্রদেশের, চৈত্র কৃষ্ণা অষ্টমীতে, হোলির আট দিন পর (বসন্তের শেষে); বিধি একই — প্রথম দিন রান্না, পরদিন উনুন ঠান্ডা ও বাসি খাবার।

সাতমে চা-দুধও নয়?

কঠোর রীতিতে আগুন একেবারেই নয় — চা-ও নয়; ব্যবহারিক বাড়িগুলি ছটের রাতে থার্মোসে চা/দুধ রেখে দেয় বা ঠান্ডা দুধ-ঘোল খায়; শিশু-অসুস্থ-বয়স্কদের জন্য গরম কিছু বানানো দোষ নয় (স্বাস্থ্যই সর্বোপরি — দেবী তো মা); মাইক্রোওয়েভকেও «আগুন» বলেই ধরা হয়।

বাসি খাবার নিরাপদে কীভাবে রাখব?

রান্ধণ ছটে কম আর্দ্রতার, তেল-মশলার পদ (থেপলা-ঢেবরা-শুকনো তরকারি-আচার-লাডু-ফরসাণ) বানান; দুধ-পনির-খিচুড়ি-ভাত-কঢ়ি (তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়) রাখবেন না; ঢেকে হাওয়া-চলাচলের ঠান্ডা জায়গায়/ফ্রিজে (রীতি অনুযায়ী); দই ছটের রাতে পাতুন; সকালে শুঁকে দেখুন — টক বা দুর্গন্ধ হলে খাবেন না, ফল-দুধ নিন।

শীতলা মাতাকে কুলের কেন?

কুলের = বাজরার আটায় ঘি-গুড় মেশানো শুকনো মিশ্রণ — আগুন ছাড়াই তৈরি, ঠান্ডা, টেকসই — গুজরাট-রাজস্থানের শীতলা-ভোগ (নাগপঞ্চমীতেও); বাসি রুটি-দই-গুড়-মিষ্টি ভাত-ঠান্ডা জল-নিমও; দেবীর প্রিয় «শীতলতা», গরম-টাটকা-মশলাদার নিষিদ্ধ।

সাতম-আঠম মেলা কী?

সৌরাষ্ট্র-কচ্ছে শীতলা সাতম + জন্মাষ্টমী (আঠম) ঘিরে দু-তিন দিনের লোকমেলা ও ছুটি — জামনগর, রাজকোট, ভাবনগর, পোরবন্দর, দ্বারকা, ভুজে নাগরদোলা-দোকানপাট-লোকনৃত্য-রাস; চাষি-ব্যবসায়ী-কারিগর সবার ছুটি; রান্ধণ ছটের রান্না নিয়ে মেলায়; গুজরাটের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ মেলাগুলির একটি।

🔔 মনে করিয়ে দিন — প্রতি ব্রতের একদিন আগে

আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।

বার্তা Nakshtra Tak-এর তরফ থেকে আসবে; নম্বর অন্য কাউকে দেওয়া হয় না।

📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান

আরও পড়ুন: শীতলা অষ্টমী/বাসৌড়া (চৈত্র-উত্তর ভারত) · কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী (পরের দিন-অষ্টম) · নাগ পংচমী (গুজরাটে দুই দিন আগে) · রক্ষাবন্ধন (ব্লেভ)

⚠️ এই বিবরণ গুজরাট-সৌরাষ্ট্র-কচ্ছের প্রথাগত রীতি ও লোককথার উপর ভিত্তি করে; নিজের কুল-পরিবার ও অঞ্চলের রীতিই সর্বোপরি। বাসি খাবার স্বাস্থ্য বুঝে — শিশু, গর্ভবতী, অসুস্থ এবং গরম-আর্দ্র আবহাওয়ায় টাটকা খাবার খাওয়া দোষ নয়; তিথি গুজরাটি (অমান্ত) পঞ্জিকা দেখে মিলিয়ে নিন।

🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার