Nakshtra Takকুণ্ডলীরাশিফলপঞ্জিকামিলানজ্ঞানগ্রহ-ফলজ্যোতিষীStore
🪔 ব্রত-উৎসব

🌿 তুলসী বিবাহ 2026

✍️ জ্যোতিষাচার্য আদিত্য ধর দ্বিবেদী · 🔎 শেষ পর্যালোচনা: · 🧮 গণনা-পদ্ধতি

কার্তিক শুক্ল দ্বাদশী (দেবউঠনি একাদশীর পরের দিন) — তুলসী মাতা ও শালগ্রামের (ভগবান বিষ্ণু) বিবাহ: গোধূলি-প্রদোষে মণ্ডপ, কন্যাদান, মঙ্গলাষ্টক, আখের মণ্ডপ; এর থেকেই বিয়ের লগ্ন শুরু হয়; তিথি, মুহূর্ত, বিধি, সামগ্রী, ব্রতকথা ও রীতি।

তুলসী বিবাহ 2026-এর তিথি
শনিবার, 21 নভেম্বর 2026
কার্তিক · শুক্ল পক্ষ · দ্বাদশী (বিক্রম সংবত 2083)
🌇 সূর্যাস্ত5:25 PM
🪔 প্রদোষ কাল5:25 PM – 7:49 PM
🐄 গোধূলি বেলা5:03 PM – 5:46 PM
📿 তিথি-কালদ্বাদশী 21 নভেম্বর, 6:32 এএম → 22 নভেম্বর, 4:57 এএম
⭐ অভিজিৎ মুহূর্ত11:42 AM – 12:30 PM
⛔ রাহুকাল (এড়িয়ে চলুন)09:27 AM – 10:46 AM
আগামী বছর — 2027: গুরুবার, 11 নভেম্বর 2027
সময় দিল্লি (আই. এস. টি) কে, সুইস এপিহেমেরিস-গণনা, উদীয়মান-তারিখের নিয়ম। চন্দ্রোদয়/সূর্যোদয় প্রতিটি শহরে পরিবর্তিত হয় -

**তুলসী বিবাহ** কার্তিক শুক্ল দ্বাদশীতে — দেবউঠনি (প্রবোধিনী) একাদশীর ঠিক পরের দিন — তুলসী মাতা (বৃন্দা) ও শালগ্রাম-রূপী ভগবান বিষ্ণুর বিবাহ। চাতুর্মাসে নিদ্রিত ভগবান একাদশীতে জাগেন এবং দ্বাদশীতে তুলসীকে বিবাহ করেন — এই দিন থেকেই হিন্দু ঘরে বিবাহ-মুহূর্ত (লগ্ন) শুরু হয়। অনেক বাড়ি ও মন্দির এই বিবাহ দেবউঠনি একাদশীর সন্ধ্যাতেই করে; কোথাও দ্বাদশী থেকে কার্তিক পূর্ণিমা পর্যন্ত যেকোনো দিন — উপরে দ্বাদশীর তিথি ও গোধূলি-প্রদোষের মুহূর্ত দেওয়া আছে, একাদশীর তিথি দেবউঠনি-পাতায়।

এটি ঘরের মেয়েদের উৎসব — তুলসীকে কনের মতো সাজানো (লাল চুনরি, চুড়ি, টিপ, সধবার সামগ্রী), আখের মণ্ডপ, শালগ্রাম/বিষ্ণু-মূর্তিকে বর সাজিয়ে হলুদ বস্ত্র, সাত পাক, মঙ্গলাষ্টক, কন্যাদান (যাঁদের ঘরে কন্যা নেই তাঁরা তুলসী-কন্যাদানের পুণ্য লাভ করেন), তারপর বিবাহের ভোজ। নিচে বিধি, সামগ্রী, ব্রতকথা (বৃন্দা-জালন্ধর), ভোগ, অঞ্চলভেদে রীতি এবং প্রশ্ন।

গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন

বৃন্দা-তুলসী: অসুর জালন্ধরের পতিব্রতা পত্নী বৃন্দা — জালন্ধর-বধের জন্য বিষ্ণু তাঁর পাতিব্রত্য ভঙ্গ করলেন; বৃন্দা শাপ দিলেন যে বিষ্ণু পাথর (শালগ্রাম) হয়ে যান, আর নিজে অগ্নিতে বিলীন হলেন — তাঁর ছাই থেকে তুলসী জন্মাল; বিষ্ণু বর দিলেন যে তুলসী সর্বদা তাঁর সঙ্গে পূজিত হবেন এবং কার্তিক শুক্ল দ্বাদশীতে শালগ্রাম-রূপে তিনি তুলসীকে বিবাহ করবেন — তুলসী ছাড়া বিষ্ণুর ভোগ অসম্পূর্ণ।

কন্যাদানের পুণ্য: বিশ্বাস করা হয়, যাঁদের ঘরে কন্যা নেই, তাঁরা তুলসীর কন্যাদান করে কন্যাদানের ফল পান; যাঁদের বিবাহে বাধা আছে তাঁরা তুলসী-বিবাহে যোগ দিয়ে বৈবাহিক সুখের প্রার্থনা করেন; দাম্পত্য-কলহের শান্তি।

বিবাহ-মুহূর্তের দ্বার: দেবশয়নী থেকে দেবউঠনি পর্যন্ত চাতুর্মাসে বিবাহ হয় না; তুলসী-বিবাহের সঙ্গেই মাঙ্গলিক কাজ, বিবাহ, গৃহপ্রবেশ শুরু — এই কারণেই তুলসী-বিবাহকে «প্রথম বিবাহ» বলা হয়; সেই সপ্তাহ থেকেই লগ্ন-তিথি শুরু।

কার্তিক-স্নান ও দীপদান: গোটা কার্তিক মাস তুলসীতলায় সন্ধ্যা-প্রদীপ; তুলসী-বিবাহের পরে দ্বাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত ভীষ্ম-পঞ্চক, তারপর কার্তিক পূর্ণিমা (দেব দীপাবলি) — তুলসী-বিবাহ সেই ধারারই একটি পর্ব।

পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)

ঘরে তুলসী-বিবাহের বিধি — সন্ধ্যায় গোধূলি/প্রদোষে (উপরে সময়); তুলসী = কন্যা, শালগ্রাম/বিষ্ণু-মূর্তি (বা ছবি) = বর; ঘরের পুরুষ/ব্রাহ্মণ সংকল্প-মন্ত্র, মেয়েরা সাজসজ্জা-গান।

  1. প্রস্তুতি (দিনে): তুলসীর টব/তুলসীমঞ্চ ধুয়ে-নিকিয়ে রঙ্গোলি, আখের (4টি) মণ্ডপ (আখ চার কোণে বেঁধে উপরে চুনরি), আমপাতা ও ফুলের তোরণ; টবের উপর সধবার সামগ্রী; শালগ্রামকে (না থাকলে বিষ্ণু/কৃষ্ণের ছোট মূর্তি বা ছবি) স্নান করিয়ে হলুদ বস্ত্র, চন্দন-তিলক — ইনিই বর।
  2. উপবাস: ঘরের গৃহিণী (বা যিনি বিবাহ করাবেন) দিনে ফলাহার/এক বেলা; সন্ধ্যায় বিবাহের পরে আহার।
  3. তুলসী-শৃঙ্গার: তুলসীকে লাল চুনরি পরানো, চুড়ি-টিপ-সিঁদুর-মেহেন্দি-আলতা (টবের গায়ে), হলুদ মাখানো (হলুদের অনুষ্ঠান), ফুলের মালা; টবটিকে শাড়ি/লাল কাপড়ে জড়ানো — তুলসী কনে।
  4. বিবাহ-আরম্ভ (গোধূলি): ঘট-স্থাপন, গণেশ-পূজা; শালগ্রামকে হাতে নিয়ে/চৌকিতে তুলসীর ডান দিকে রাখুন; দু-জনকেই হলুদ-চন্দন-অক্ষত, বরকে হলুদ মালা, কন্যাকে লাল মালা; «তুলসী বিবাহ»-এর সংকল্প — «আমি (নাম) তুলসী মাতার সঙ্গে শালগ্রাম ভগবানের বিবাহ (কন্যাদান) করাচ্ছি»।
  5. কন্যাদান ও গাঁটছড়া: তুলসীর টবে হাত রেখে কন্যাদান-মন্ত্র/ভাবনা; শালগ্রাম ও তুলসীর মধ্যে মৌলি/চুনরি দিয়ে গাঁটছড়া; মঙ্গলাষ্টক («মঙ্গলম্ ভগবান বিষ্ণুঃ…») পাঠ, অক্ষত-বর্ষণ; মেয়েরা বিয়ের গান/মঙ্গল-গীত।
  6. সাত পাক: শালগ্রামকে হাতে নিয়ে তুলসীকে 7 বার প্রদক্ষিণ (অথবা তুলসীর টবটিকে বরের চারপাশে) — প্রতি পাকে অক্ষত-ফুল; সপ্তপদী-ভাবনা; তারপর তুলসীকে সিঁদুর (বিষ্ণুর পক্ষ থেকে), বর-বধূর আরতি (কর্পূর)।
  7. ভোগ ও আরতি: ক্ষীর-পুরি, লাড্ডু, ফল, পঞ্চামৃত, তুলসীপাতা, আখ, পানিফল, কুল, আমলকী, মুলো (কার্তিকের মরসুমি সামগ্রী) — বিষ্ণু-তুলসীকে; তুলসী-আরতি («জয় জয় তুলসী মাতা») ও বিষ্ণু-আরতি; «ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়» / «তুলসী শ্রীর্মহালক্ষ্মী…» স্তোত্র।
  8. ব্রতকথা ও ভোজ: বৃন্দা-জালন্ধরের কথা (নিচে); প্রসাদ ও বিবাহ-ভোজ (পুরি-তরকারি-ক্ষীর-লাড্ডু) পরিবার-প্রতিবেশীদের; কন্যা/ব্রাহ্মণকে দক্ষিণা; আখের মণ্ডপ পরদিন পর্যন্ত, আখ প্রসাদ হিসেবে খাওয়া; তুলসীর চুনরি পূর্ণিমা পর্যন্ত/সারা বছর।

📿 কিভাবে আলোচনা করতে হয়-বিস্তারিত পদ্ধতি, উপাদানের তালিকা এবং নিয়ম

পূজা-সামগ্রীর তালিকা

সধবার সামগ্রী, আখ, শালগ্রাম ও কার্তিকের মরসুমি সামগ্রী — তুলসী-বিবাহের তালিকা।

  • তুলসী গাছ (টব/তুলসীমঞ্চ), শালগ্রাম (বা বিষ্ণু/কৃষ্ণের মূর্তি/ছবি), চৌকি, হলুদ-লাল কাপড়, ঘট (জল-আমপাতা-নারকেল)
  • মণ্ডপ: 4টি আখ, লাল চুনরি/শাড়ি (মণ্ডপের ছাদ), আমপাতা ও গাঁদার তোরণ, রঙ্গোলির রং, ফুল-পাতা
  • তুলসী-শৃঙ্গার (সধবার সামগ্রী): লাল চুনরি, চুড়ি, টিপ, সিঁদুর, মেহেন্দি, আলতা, কাজল, চিরুনি, আয়না, বিছিয়া (প্রতীক), লাল শাড়ি/কাপড়
  • বর (শালগ্রাম): হলুদ বস্ত্র/ধুতি, চন্দন, মুকুট (কাগজ/ফুলের), হলুদ মালা, পৈতে, মৌলি (গাঁটছড়া)
  • পূজা: হলুদ, রোলি, অক্ষত, চন্দন, মৌলি, পান-সুপারি, লবঙ্গ-এলাচ, আতর, পঞ্চামৃত, গঙ্গাজল, তুলসীপাতা, ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ, কর্পূর, আরতির থালা
  • মরসুমি ভোগ: আখ, পানিফল, কুল, আমলকী, মুলো, রাঙা আলু, কলা, পেয়ারা; ক্ষীর, পুরি, লাড্ডু, মিষ্টি; নারকেল
  • মঙ্গলাষ্টক/তুলসী-বিবাহের পুস্তিকা, বিয়ের গান; কন্যা-দক্ষিণা; ব্রাহ্মণের (থাকলে) দক্ষিণা
  • পরদিন: আখ বিতরণ/খাওয়ার রীতি, তুলসী-প্রদীপ, চুনরি যেমন আছে তেমনই

🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন

📅 আপনার শহরের পঞ্জিকা

সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।

পঞ্জিকা দেখুন →

ব্রত-কথা

বৃন্দা-জালন্ধরের কথা: অসুর-রাজ জালন্ধরের (সমুদ্র থেকে উৎপন্ন, শিবের তেজ) পত্নী বৃন্দা ছিলেন পরম পতিব্রতা — তাঁর সতীত্বের বলে জালন্ধর অজেয় হয়ে উঠল, দেবতাদের হারিয়ে স্বর্গ পর্যন্ত অধিকার করতে লাগল। দেবতারা বিষ্ণুর কাছে প্রার্থনা করলেন; বিষ্ণু জালন্ধরের রূপ ধরে বৃন্দার কাছে এলেন — বৃন্দা স্বামী ভেবে সেবা করলেন এবং তাঁর পাতিব্রত্য ভঙ্গ হল; সেই মুহূর্তেই যুদ্ধে শিব জালন্ধরকে বধ করলেন। সত্য জেনে বৃন্দা বিষ্ণুকে শাপ দিলেন — «তুমি পাথর হয়ে যাও» (শালগ্রাম) এবং স্বামীর শবের সঙ্গে চিতায় বিলীন হলেন।

📖 তুলসি বিবাহের পুরো উপবাসের গল্পটি পড়ুন

ক্ষীর-পুরি-লাড্ডু, আখ-পানিফল-কুল-আমলকী; বিবাহ-ভোজ

তুলসী-বিবাহে বিষ্ণু-তুলসীকে কার্তিকের মরসুমি সামগ্রী — আখ, পানিফল, কুল, আমলকী, মুলো, রাঙা আলু — এবং ক্ষীর-পুরি-লাড্ডুর ভোগ; বিবাহ-ভোজে পরিবার-প্রতিবেশীদের পুরি-তরকারি-ক্ষীর/লাড্ডু; দিনে ফলাহার, সন্ধ্যায় বিবাহের পরে আহার; আখ প্রসাদ হিসেবে পরদিন।

  • ভোগ: ক্ষীর (চাল-দুধ), পুরি, বেসন/বোঁদের লাড্ডু, পঞ্চামৃত, তুলসীপাতা, আখ (ছাড়ানো-কাটা), পানিফল, কুল, আমলকী, মুলো, রাঙা আলু, কলা, পেয়ারা, নারকেল
  • বিবাহ-ভোজ (পরিবার-প্রতিবেশী): পুরি, কুমড়ো/আলুর তরকারি, ছোলার ডাল, ক্ষীর, লাড্ডু, রায়তা, আচার — যেমন বাড়ির বিয়েতে হয়
  • ফলাহার (দিনে): ফল, দুধ, সাবুদানা, পানিফলের হালুয়া, মাখানা
  • পরদিন: (মণ্ডপের) আখ ভাগ করে খাওয়া, বাকি ভোগ গরুকে; প্রসাদ হিসেবে তুলসীপাতা গ্রহণ (কার্তিক)
  • নিষিদ্ধ: তুলসী-বিবাহের দিন তুলসীপাতা তোলা (এক দিন আগে তুলে রাখুন), পেঁয়াজ-রসুন-মাংস, রাতে/একাদশীতে/রবিবারে তুলসী ছোঁয়া বা জল দেওয়া (লোক-নিয়ম)

বিভিন্ন এলাকার রীতি

উত্তর-মধ্য ভারতে দ্বাদশী (বা একাদশীর সন্ধ্যা), মহারাষ্ট্র-গুজরাটে দ্বাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত যেকোনো দিন, দক্ষিণে কার্তিক-দীপ — রীতিগুলি।

উত্তর প্রদেশ-বিহার-দিল্লি-হরিয়ানা: বেশিরভাগ বাড়ি দেবউঠনি একাদশীর সন্ধ্যায় আখের মণ্ডপে তুলসী-বিবাহ করে (আখ-পানিফল-কুলের ভোগ, «উঠো দেব বৈঠো দেব»), কেউ কেউ দ্বাদশীতে; তুলসীকে চুনরি-চুড়ি, শালগ্রাম/ঠাকুরজিকে ধুতি-মুকুট; মঙ্গলাষ্টক, সাত পাক; সেই দিন থেকেই লগ্ন; বিহারে তুলসীমঞ্চ নিকোনো, কোহবরের রেখাচিত্র, বিয়ের গান।
রাজস্থান-মধ্য প্রদেশ-ছত্তিশগড়: «তুলসা-সালিগরাম রো ব্যাব» — বাড়ির উঠোনে তুলসীমঞ্চে সম্পূর্ণ বিবাহ: টিকা, বান, হলুদ, বরযাত্রা (শালগ্রামকে থালায় করে গ্রাম-পাড়ার মেয়েরা নিয়ে আসেন), সাত পাক, ভাত, যৌতুক (চুনরি-চুড়ি); MP/ছত্তিশগড়ে ‘দেবউঠনি’-কে «দীপাবলির ছোট বোন» বলা হয়, আখের মণ্ডপ, ধানের শিষ।
মহারাষ্ট্র-গোয়া: «তুলশীচং লগ্ন» — কার্তিক শুক্ল দ্বাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত যেকোনো সন্ধ্যায়; বৃন্দাবন (তুলসীমঞ্চ) রঙ্গোলি-প্রদীপ-আখ-আমলকী-চিঞ্চ-বোর (তেঁতুল-কুল) দিয়ে সাজিয়ে বালকৃষ্ণ/বিষ্ণুর মূর্তির সঙ্গে বিবাহ; অন্তরপাট (পর্দা), মঙ্গলাষ্টক, «শুভমঙ্গল সাবধান»; পোহে-লাহ্যা-কুরমুরে ও চিঞ্চ-বোরের প্রসাদ; এর থেকেই লগ্নসরাই (বিবাহের মরসুম)।
গুজরাট: দেবউঠনিতে («দেবদিবালি»/প্রবোধিনী) তুলসী-বিবাহ, তুলসী-ক্যারোকে শণগার (চুন্দড়ি-চুড়ি), শালগ্রাম-লগ্ন, আখের মণ্ডপ; কার্তিকে তুলসী-প্রদীপ; প্রবোধিনী থেকে লগ্নসরা; বোর-আমলকী-শেরডির (আখ) প্রসাদ।
দক্ষিণ ভারত: কার্তিক মাসে তুলসী-পূজা (তুলসী-কট্টে/বৃন্দাবনে প্রদীপ), «ক্ষীরাব্ধি দ্বাদশী/চিলুকু দ্বাদশী»-তে (অন্ধ্র-কর্ণাটক) তুলসী-দামোদর বিবাহ; তামিলনাড়ুতে কার্তিগাই-দীপমের প্রস্তুতি; কেরলে তুলসী-থারায় প্রদীপ; বিবাহ-রূপ উত্তরের চেয়ে কম, পূজা-রূপ বেশি।
বাংলা-ওড়িশা: গোটা কার্তিক মাস তুলসীমঞ্চে আকাশ-প্রদীপ, «রাস পূর্ণিমা»-র প্রস্তুতি; তুলসী-বিবাহ হিন্দিভাষী পরিবারে ও বৈষ্ণব মঠে (গৌড়ীয়) — তুলসী-শালগ্রাম বিবাহ; ওড়িশায় «তুলসী-পূজা» ও ‘পঞ্চুক’ (কার্তিকের শেষ 5 দিন) নিরামিষ।
🙏 আপনার বাড়ির রীতিনীতি এর থেকে আলাদা? এখানে লিখুন

দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।

প্রতিটি পোস্ট করা রীতিনীতি আগে পড়া হয়-অশ্লীল/বিজ্ঞাপন/ভুল যোগ করা হয় না।

কী করবেন, কী করবেন না

✅ কী করবেন

  • দ্বাদশীতে (বা ঘরের রীতি অনুযায়ী একাদশীর সন্ধ্যায়) গোধূলি/প্রদোষে বিবাহ — উপরে সময়; তুলসীপাতা এক দিন আগে তুলে রাখুন
  • আখের মণ্ডপ, তুলসীকে সধবার সাজ (চুনরি-চুড়ি-সিঁদুর), শালগ্রামকে হলুদ বস্ত্র; কন্যাদান-গাঁটছড়া-মঙ্গলাষ্টক-সাত পাক-আরতি
  • মরসুমি ভোগ: আখ-পানিফল-কুল-আমলকী-মুলো + ক্ষীর-পুরি; বিবাহ-ভোজ পরিবার-প্রতিবেশীদের; কন্যা-দক্ষিণা
  • যাঁদের বিবাহে বাধা/সন্তান-কামনা আছে তাঁরা তুলসী-বিবাহে যোগ দিন, তুলসী-নামাষ্টক পাঠ করুন; গোটা কার্তিক মাস তুলসী-প্রদীপ
  • সেই দিন থেকেই বিবাহ-মুহূর্ত — বাড়ির লগ্ন-মুহূর্ত পঞ্জিকা/জ্যোতিষীর কাছ থেকে জেনে নিন (শুভ মুহূর্ত পাতা)

❌ কী করবেন না

  • তুলসী-বিবাহ/একাদশী/রবিবারে তুলসীপাতা তোলা, রাতে তুলসী ছোঁয়া বা জল দেওয়া (লোক-নিয়ম)
  • মহিলাদের শালগ্রাম স্পর্শ করা (কিছু কুল-রীতি — মতভেদ আছে; বিষ্ণু-মূর্তি/ছবির সঙ্গে বিবাহ চলে), শালগ্রামকে স্নান না করানো
  • পেঁয়াজ-রসুন-মাংস-মদ; তুলসীতে নোংরা জল; প্লাস্টিকের সাজ গাছের গায়ে ফেলে রাখা (গাছ যেন চাপা না পড়ে)
  • অসম্পূর্ণ বিবাহ — সাত পাক/আরতি ছাড়া; আখ ফেলে দেওয়া (এটি প্রসাদ); দক্ষিণা/কন্যা-সম্মানে কার্পণ্য
  • তুলসীর টবে শুকনো/মরা গাছ রেখে বিবাহ — নতুন গাছ লাগান; একাদশী-দ্বাদশীতে ভোগের জন্য তুলসীপাতা তোলা নয় (আগে তোলা পাতাই)

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

তুলসী বিবাহ 2026-এ কবে — একাদশী না দ্বাদশী?

শাস্ত্র-মতে কার্তিক শুক্ল দ্বাদশী (উপরে তিথি); লোক-রীতিতে অনেক বাড়ি দেবউঠনি একাদশীর সন্ধ্যাতেই করে — দুটিই মান্য; মহারাষ্ট্রে দ্বাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত যেকোনো সন্ধ্যায়। কুল-রীতি মেনে চলুন।

তুলসী বিবাহের মুহূর্ত কী?

গোধূলি/প্রদোষ-কাল (সূর্যাস্তের আশপাশে — উপরে সময়) শ্রেষ্ঠ; দ্বাদশী-তিথির সময়সীমা উপরে; রাহুকাল এড়িয়ে চলুন; অভিজিতে (দুপুরে) প্রস্তুতি-পূজা।

শালগ্রাম না থাকলে?

বিষ্ণু/কৃষ্ণ/লক্ষ্মী-নারায়ণের ছোট মূর্তি বা ছবিকে বর করুন — হলুদ বস্ত্র, মুকুট; ভাবই প্রধান; অনেক বাড়ি ঠাকুরজির (বালকৃষ্ণ) সঙ্গে বিবাহ করায়।

তুলসী বিবাহ কে করাবেন — ঘরের গৃহিণী না ব্রাহ্মণ?

ঘরে মেয়েরাই সাজ-গান-কন্যাদান করেন, সংকল্প-মন্ত্র ঘরের পুরুষ/ব্রাহ্মণ (থাকলে); পুরোহিত অপরিহার্য নন — মঙ্গলাষ্টক ও আরতিতেই ঘরে সম্পূর্ণ হয়ে যায়।

কন্যাদানের ফল কে পান?

বিশ্বাস — যাঁদের ঘরে কন্যা নেই, অথবা যাঁরা তুলসী-কন্যাদান করান, তাঁরা কন্যাদানের পুণ্য পান; যাঁদের বিবাহে বাধা তাঁরা পান দাম্পত্য-সুখের প্রার্থনার ফল।

তুলসী বিবাহের পরে কী করবেন?

আখ প্রসাদ হিসেবে খান ও বিতরণ করুন, তুলসীর চুনরি যেমন আছে থাকুক, কার্তিক পূর্ণিমা পর্যন্ত রোজ তুলসী-প্রদীপ, ভীষ্ম-পঞ্চকে (দ্বাদশী-পূর্ণিমা) সাত্ত্বিক আহার; সেই সপ্তাহ থেকেই বাড়ির বিবাহ-মুহূর্ত দেখুন।

তুলসী বিবাহ ও দেবউঠনি একাদশীর মধ্যে পার্থক্য?

দেবউঠনি = কার্তিক শুক্ল একাদশী, ভগবানের জাগরণ, চাতুর্মাসের সমাপ্তি; তুলসী-বিবাহ = পরদিন দ্বাদশীতে তুলসী-শালগ্রামের বিবাহ — অনেক বাড়ি দুটিই একই সন্ধ্যায় করে; দেবউঠনির আলাদা পাতা আছে।

🔔 মনে করিয়ে দিন — প্রতি ব্রতের একদিন আগে

আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।

বার্তা Nakshtra Tak-এর তরফ থেকে আসবে; নম্বর অন্য কাউকে দেওয়া হয় না।

📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান

🌎 বিদেশে তুলসী বিবাহ 2026: আমেরিকা · কানাডা · যুক্তরাজ্য · অস্ট্রেলিয়া · সংযুক্ত আরব আমিরাত · কাতার · সৌদি আরব · কুয়েত · ওমান · বাহরাইন · সিঙ্গাপুর · মালয়েশিয়া · নিউজিল্যান্ড · দক্ষিণ আফ্রিকা · মরিশাস · ফিজি · নেদারল্যান্ডস · জার্মানি · আয়ারল্যান্ড

আরও পড়ুন: দেবত্ব একাদশী · কার্তিক পূর্ণিমা (দেব দীপাবলি) · দীপাবলি · বিবাহ পংচমী · বিবাহ এর শুভ মুহূর্ত

⚠️ এই বিবরণ ঐতিহ্যবাহী বিধি ও লোকবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে লেখা; আপনার কুল-পরিবার ও অঞ্চলের রীতিই সর্বোপরি। তিথি দিল্লির (IST) উদয়া-তিথি ও শাস্ত্র-নিয়ম অনুযায়ী; একাদশীর সন্ধ্যার লোক-রীতিও মান্য।

🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার