🪔 ব্রত-উৎসব

🌑 অমাবস্যা (পিতৃ-তর্পণ, স্নান-দান) 2026

✍️ জ্যোতিষাচার্য আদিত্য ধর দ্বিবেদী · 🔎 শেষ পর্যালোচনা: · 🧮 গণনা-পদ্ধতি

পরের অমাবস্যা কবে — প্রতি মাসের অমাবস্যায় পিতৃপুরুষের তর্পণ, তীর্থস্নান, দান, অশ্বত্থ-পূজা; সোমবতী অমাবস্যা (সোমবার) ও শনি অমাবস্যা (শনিবার) বিশেষ; মৌনী/সর্বপিতৃ/দীপাবলি/হরিয়ালি অমাবস্যার নিজস্ব পাতা আছে; উপরে আসন্ন 12টি তিথি।

পরবর্তী অমাবস্যা (পিতৃ-তর্পণ, স্নান-দান)
সোমবার, 9 নভেম্বর 2026
কার্তিক অমাবস্যা (সোমবতী)
কার্তিক · কৃষ্ণ পক্ষ · অমাবস্যা (বিক্রম সংবত 2083)
🌅 সূর্যোদয়6:39 AM
📿 তিথি-কালঅমাবস্যা 8 নভেম্বর, 11:28 AM → 9 নভেম্বর, 12:38 PM
🕛 কুতুব মুহূর্ত11:43 AM – 12:26 PM
🌤 অপরাহ্ন কাল1:10 PM – 3:20 PM
⛔ রাহু কাল (এড়িয়ে চলুন)08:00 AM – 09:22 AM
আসন্ন তিথিগুলি
  • কার্তিক অমাবস্যা (সোমবতী) — সোমবার, 9 নভেম্বর 2026
  • মার্গশীর্ষ অমাবস্যা — মংগলবার, 8 ডিসেম্বর 2026
  • পৌষ অমাবস্যা — গুরুবার, 7 জানুয়ারি 2027
  • মাঘ অমাবস্যা (শনিশ্চরী) — শনিবার, 6 ফেব্রুয়ারি 2027
  • ফাল্গুন অমাবস্যা (সোমবতী) — সোমবার, 8 মার্চ 2027
  • চৈত্র অমাবস্যা — মংগলবার, 6 এপ্রিল 2027
  • বৈশাখ অমাবস্যা — গুরুবার, 6 মে 2027
  • জ্যেষ্ঠ অমাবস্যা — শুক্রবার, 4 জুন 2027
  • আষাঢ় অমাবস্যা — রবিবার, 4 জুলাই 2027
  • শ্রাবণ অমাবস্যা (সোমবতী) — সোমবার, 2 আগস্ট 2027
  • ভাদ্রপদ অমাবস্যা — মংগলবার, 31 আগস্ট 2027
  • আশ্বিন অমাবস্যা — গুরুবার, 30 সেপ্টেম্বর 2027
সময় দিল্লি (আই. এস. টি) কে, সুইস এপিহেমেরিস-গণনা, উদীয়মান-তারিখের নিয়ম। চন্দ্রোদয়/সূর্যোদয় প্রতিটি শহরে পরিবর্তিত হয় -

অমাবস্যা প্রতিটি চান্দ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি, যেদিন চাঁদ দেখা যায় না — বছরে 12টি (অধিক মাস থাকলে 13টি)। এটি পিতৃপুরুষের দিন — তর্পণ (জল-তিল), পিণ্ডদান, ব্রাহ্মণ-ভোজন, গরু-কাক-কুকুরকে গ্রাস; তীর্থস্নান ও দানের দিন, আর অশ্বত্থ-তুলসী-শনি-কালীর পূজার দিন। বলা হয়, অমাবস্যায় পিতৃপুরুষেরা দরজায় আসেন — তাই বাড়ির মেয়েরা এদিন পায়েস-পুরি বানিয়ে পিতৃপুরুষদের নিবেদন করেন, অনেক বাড়িতে এদিন নুন ছাড়া/সাত্ত্বিক খাবার।

যে বারে পড়ে, তার আলাদা মাহাত্ম্য — সোমবারে **সোমবতী অমাবস্যা** (সধবাদের অশ্বত্থ-প্রদক্ষিণ ব্রত — বছরে 1-3টি), শনিবারে **শনৈশ্চরী অমাবস্যা** (শনি-শান্তি — শনিমন্দির, তেল দান), মঙ্গলবারে ভৌমবতী। মাঘের মৌনী, আশ্বিনের সর্বপিতৃ (মহালয়া), কার্তিকের দীপাবলি, শ্রাবণের হরিয়ালি, জ্যৈষ্ঠের বট সাবিত্রী, ভাদ্রপদের কুশগ্রহণী (পিঠোরী) অমাবস্যা বড় পর্ব — তাদের নিজস্ব পাতায়। উপরে পরের অমাবস্যার তারিখ, তিথির সময়-পরিসর, শ্রাদ্ধের মুহূর্ত (কুতুপ/অপরাহ্ণ) ও আসন্ন 12টি তিথি বারের নাম সহ; নিচে বিধি, উপকরণ, কথা, আহার, অঞ্চলভেদে রীতি।

গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন

পিতৃ-দিবস: গরুড় পুরাণ/মনুস্মৃতি — অমাবস্যায় পিতৃপুরুষেরা বায়ুরূপে বংশধরদের দরজায় এসে তর্পণের অপেক্ষা করেন; অমাবস্যার তর্পণ/শ্রাদ্ধ পিতৃদোষের (কোষ্ঠীতে সূর্য-রাহু/শনি) শান্তির মাসিক উপায়; দর্শ-শ্রাদ্ধ (অমাবস্যার শ্রাদ্ধ) পিতৃপক্ষের পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চন্দ্রহীন দিন — মন (চন্দ্র) দুর্বল, তাই শুভ কাজ (বিবাহ-যাত্রা-নতুন কিছু শুরু) এড়ানো হয়, কিন্তু জপ-তপ-দান-ধ্যান (মৌনী) ও তান্ত্রিক/কালী-সাধনার শ্রেষ্ঠ সময়; সোমবতীতে (চন্দ্রের বার + অমাবস্যা) অশ্বত্থ-প্রদক্ষিণে সধবার সৌভাগ্য-সন্তান; শনৈশ্চরীতে শনি-শান্তি (সাড়েসাতি-ঢৈয়া), শনিমন্দিরে (শিংগণাপুর-কোকিলাবন-তিরুনল্লার) ভিড়।

তীর্থস্নান: অমাবস্যায় গঙ্গা-নর্মদা-গোদাবরী-সঙ্গমে স্নান (মাঘ-কার্তিক-বৈশাখ বিশেষ), তারপর দান — অন্ন, বস্ত্র, তিল, জল, গরু; অশ্বত্থ (বিষ্ণুর বাস) ও তুলসীকে জল-প্রদীপ; কিছু অঞ্চলে অমাবস্যায় খেতে হাল নয় (কৃষির বিশ্রাম, বলদের ছুটি — বৈল-পোলা ভাদ্রপদ অমাবস্যায়)।

পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)

এটি মাসিক অমাবস্যার ঘরোয়া বিধি — সকালে স্নান-তর্পণ, দান, অশ্বত্থ-পূজা, সন্ধ্যায় প্রদীপ; সোমবতী ও শনৈশ্চরীর বিশেষ রীতিও সঙ্গে।

  1. সকাল: ব্রাহ্মমুহূর্তে/সূর্যোদয়ে স্নান (নদী/তীর্থে, বা বাড়িতে গঙ্গাজল-তিল মেশানো জলে); সূর্যকে অর্ঘ্য; সংকল্প — «অমাবস্যার স্নান-দান-তর্পণ, পিতৃপুরুষের তৃপ্তির জন্য»; অনেক বাড়িতে কয়েক ঘণ্টা মৌন (মৌনীর মতো)।
  2. তর্পণ (বাড়ির পুরুষেরা/না থাকলে নারী): তামার ঘটিতে জল-কালো তিল-কুশ, দক্ষিণমুখী হয়ে, বুড়ো আঙুলের দিক দিয়ে পিতৃপুরুষদের জল — «(গোত্র) (নাম) তৃপ্যতাম্» 3 বার, পিতা-পিতামহ-প্রপিতামহ ও মাতৃকুল; পৈতে ডান কাঁধে (অপসব্য); পিতৃসূক্ত/গীতা-7; তর্পণ না জানলে শুধু জল-তিল দক্ষিণ দিকে «সর্বে পিতরঃ তৃপ্যন্তাম্»।
  3. দর্শ-শ্রাদ্ধ (সম্ভব হলে): অপরাহ্ণে/কুতুপ কালে (সময় উপরে) পিণ্ড/পায়েস-পুরি নিবেদন, পঞ্চবলি (গরু-কুকুর-কাক-পিঁপড়ে-দেবতা), ব্রাহ্মণ/মেয়ে-জামাইকে ভোজন-দক্ষিণা; না পারলে গরু-কাককে পায়েস-রুটি আর গরিবকে খাবার।
  4. দান: অন্ন (চাল-গম), তিল, বস্ত্র, জলপাত্র, ছাতা-জুতো (ঋতু অনুযায়ী), গরুর খাবার; শনৈশ্চরীতে কালো তিল-মাষকলাই-সরষের তেল-লোহা-কালো বস্ত্র; সোমবতীতে সধবার সামগ্রী ও সাদা জিনিস; ভৌমবতীতে গুড়-মসুর।
  5. অশ্বত্থ-তুলসী: অশ্বত্থকে জল-দুধ-তিল, প্রদীপ, 108/7 প্রদক্ষিণ (সোমবতীতে সধবারা 108 বার সুতো জড়াতে জড়াতে — ফল-মিষ্টি-মুদ্রা নিবেদন করে, কথা শুনে); তুলসীকে জল-প্রদীপ (অমাবস্যায় তুলসী তোলা নিষেধ); শনিমন্দির (শনৈশ্চরী) — তেলের প্রদীপ, «ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ», হনুমান চালিসা।
  6. সন্ধ্যা: বাড়িতে দক্ষিণ দিকে তিল-তেলের প্রদীপ (পিতৃপুরুষদের জন্য), সদর দরজায় প্রদীপ, কালী/দুর্গা-পূজা (কিছু পরম্পরায় — দীপাবলি/কৌশিকী অমাবস্যা); শিবের অভিষেক (চন্দ্রদোষ); সাত্ত্বিক আহার, অনেক বাড়িতে নুন ছাড়া।
  7. উপবাস: সারাদিন ফলাহার/একবেলা আহার (সোমবতী-শনৈশ্চরীতে বিশেষ করে); নির্জলা নয়; বয়স্ক-রোগীরা সাধারণ সাত্ত্বিক খাবার।
  8. মেয়েরা: সোমবতী অমাবস্যা — অশ্বত্থ-প্রদক্ষিণ ব্রত (নিচে কথা), স্বামী-সন্তানের দীর্ঘায়ু; মাসিকের সময় তর্পণ-পূজা নয় (শুধু স্মরণ-দান); নববধূর প্রথম সোমবতী বাপের বাড়ি/শ্বশুরবাড়ির রীতি অনুযায়ী।

📿 কিভাবে আমবাসিয়া (পৃ. ৩, স্ন্যান-ড্যান) করতে হয়-বিস্তারিত পদ্ধতি, উপাদানের চেকলিস্ট এবং নিয়ম

পূজা-সামগ্রীর তালিকা

তর্পণের উপকরণ + দান + অশ্বত্থ-পূজা + বার-বিশেষ — অমাবস্যার তালিকা।

  • তর্পণ: তামার ঘটি/থালা, জল, গঙ্গাজল, কালো তিল, কুশ (আসন-পবিত্রী), যব, দক্ষিণমুখী আসন, পৈতে
  • শ্রাদ্ধ (সম্ভব হলে): পায়েস-পুরি/পিণ্ডের উপকরণ (চাল-যব-তিল-ঘি-মধু), 5টি পাতা (পঞ্চবলি), ফুল (সাদা), ধূপ-প্রদীপ (তিল-তেল), পান-সুপারি, দক্ষিণা
  • দান: অন্ন, তিল, বস্ত্র, জলপাত্র, ছাতা/কম্বল, গরুর খাবার; শনৈশ্চরী: কালো তিল-মাষকলাই-সরষের তেল-লোহা-কালো কাপড়; সোমবতী: সধবার সামগ্রী, সাদা জিনিস; ভৌমবতী: গুড়-মসুর
  • অশ্বত্থ-পূজা: জল-দুধ-তিল, কাঁচা সুতো (108 প্রদক্ষিণ — সোমবতী), ফল-মিষ্টি-মুদ্রা, প্রদীপ, রোলি-অক্ষত
  • তুলসীর প্রদীপ, শিবের অভিষেক (জল-দুধ-বেলপাতা), শনির প্রদীপ (তেল), হনুমান চালিসা
  • সন্ধ্যা: তিল-তেলের প্রদীপ (দক্ষিণে), দরজার প্রদীপ; কালী/দুর্গা-পূজা (কিছু পরম্পরায়)
  • আহার: পায়েস-পুরি (পিতৃপুরুষদের), সাত্ত্বিক (নুন ছাড়া — কিছু বাড়িতে), ফলাহার
  • বই: পিতৃসূক্ত/গীতা-7/সোমবতী-কথা/শনি-স্তোত্র

🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন

📅 আপনার শহরের পঞ্জিকা

সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।

পঞ্জিকা দেখুন →

ব্রত-কথা

সোমবতী অমাবস্যার (অশ্বত্থ-প্রদক্ষিণ) কথা: এক মহাজনের সাত বউয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট বউকে এক ধোপানি আশীর্বাদ দিল «চিরসধবা থাকো»; বউ জিজ্ঞেস করল — ধোপানি বলল «সোমবতী অমাবস্যায় সুতো জড়িয়ে অশ্বত্থের 108 বার প্রদক্ষিণ করবে, তারপর খাবে — এতেই আমার সিঁথির সিঁদুর অক্ষয়»; বউ তাই করল, তার স্বামী সাপের ছোবল/মৃত্যু থেকে রক্ষা পেল (কোথাও: মেয়ের কোষ্ঠীতে বৈধব্য-যোগ সোমবতী-ব্রতে কেটেছিল — সোনা ধোপানির কথা)। শিক্ষা — সোমবতীতে অশ্বত্থ-প্রদক্ষিণে সৌভাগ্য-সন্তানের রক্ষা।

📖 আমাবস্যার পুরো উপবাসের গল্পটি পড়ুন (পৃ. 3 দিন, স্ন্যান-দান)

পায়েস-পুরি (পিতৃপুরুষদের), সাত্ত্বিক আহার, তিল-গুড় — অমাবস্যার রান্নাঘর

অমাবস্যায় পিতৃপুরুষদের জন্য পায়েস-পুরি (বা তাঁদের প্রিয় খাবার) — প্রথমে গরু-কাক-কুকুরকে গ্রাস, তারপর ব্রাহ্মণ/গরিব, তারপর বাড়ির লোক; আহার সাত্ত্বিক — পেঁয়াজ-রসুন-মাংস-মদ নয়, অনেক বাড়িতে নুন ছাড়া/একবেলা; তিল-গুড় (শনৈশ্চরী), সাদা পায়েস (সোমবতী); দক্ষিণে অমাবসৈ-তর্পণের পর সাদামাটা খাবার।

  • পায়েস (চাল-দুধ) + পুরি — পিতৃপুরুষদের ভোগ; কুমড়ো/লাউয়ের তরকারি, বিউলির ডালের বড়া, কঢ়ি (শ্রাদ্ধের রীতি)
  • পঞ্চবলির গ্রাস: গরু-কুকুর-কাক (পায়েস-রুটি), পিঁপড়ে (আটা-চিনি), দেবতা (ঘি); ব্রাহ্মণ/মেয়ে-জামাইকে ভোজন
  • সোমবতী: সাদা জিনিস — পায়েস, দুধ-ভাত, মিছরি; অশ্বত্থকে ফল-মিষ্টি; ব্রতের পারণ অশ্বত্থ-প্রদক্ষিণের পর
  • শনৈশ্চরী: তিল-গুড়ের নাড়ু, মাষকলাইয়ের খিচুড়ি (দান ও আহার), সরষের তেল; ভৌমবতী: গুড়-ছোলা
  • ব্রতের ফলাহার: ফল, দুধ, সাবু; নুন ছাড়া খাবার (কিছু বাড়িতে) — লাউ-দই-পায়েস
  • আঞ্চলিক: মহারাষ্ট্র (পোলা — ভাদ্রপদ অমাবস্যা) পুরণ-পোলি, বলদদের; তামিল (অমাবসৈ) — তর্পণের পর বড়া-পায়সম; বাংলা (কৌশিকী/দীপান্বিতা) — কালীর ভোগ খিচুড়ি; গুজরাট (দিবালী অমাস) — মিষ্টি; পাঞ্জাব (মস্যা) — লঙ্গর-কঢ়ি-ভাত

বিভিন্ন এলাকার রীতি

পাঞ্জাবের মস্যা, তামিলের অমাবসৈ-তর্পণ, মহারাষ্ট্রের পোলা, বাংলার কৌশিকী, উত্তরের সোমবতী-অশ্বত্থ — চাঁদহীন দিনের নানা রীতি।

উত্তরপ্রদেশ-বিহার-মধ্যপ্রদেশ-রাজস্থান: «অমাবস/অমাবস্যা» — তর্পণ, গঙ্গাস্নান (প্রয়াগ-কাশী-হরিদ্বার), অশ্বত্থ-পূজা, দান; সোমবতীতে সধবাদের অশ্বত্থ-প্রদক্ষিণ (108 সুতো), শনৈশ্চরীতে শনিমন্দির (কোকিলাবন-মথুরা, শনিদেব প্রতাপগড়); মৌনীতে (মাঘ) মৌন-স্নান, হরিয়ালিতে (শ্রাবণ) চারাগাছ-দোলনা, দীপাবলিতে (কার্তিক) লক্ষ্মীপূজা, সর্বপিতৃতে (আশ্বিন) মহালয়া; রাজস্থানে «অমাবস»-এ খেতে হালের বিশ্রাম, বিহারে গঙ্গার ঘাটে «অমাবস্যা-তর্পণ»।
পাঞ্জাব-হরিয়ানা-দিল্লি-হিমাচল: পাঞ্জাবে «মস্যা» — প্রতি অমাবস্যায় গুরুদ্বারে-তীর্থে (তরনতারন, আনন্দপুর) স্নান-দিওয়ান-লঙ্গর; হরিয়ানায় «অমাবস»-এ অশ্বত্থ-পূজা ও পিতৃ-দান, শনৈশ্চরীতে শনি-দান; দিল্লির শনিমন্দিরগুলিতে শনৈশ্চরীর ভিড়; হিমাচল-কুল্লুতে «অমাবস্যা»-য় দেব-পূজা।
মহারাষ্ট্র-গুজরাট-গোয়া: মহারাষ্ট্রে «অমাবাস্যা» — পিতৃ-তর্পণ, শনি-শিংগণাপুরের শনৈশ্চরী অমাবস্যা (লক্ষ লক্ষ মানুষ — তেলে অভিষেক), আষাঢ়ী (দীপ) ও শ্রাবণের «পিঠোরী» অমাবস্যা (মায়েরা সন্তানের জন্য; সেদিনই পোলা — বলদ-পূজা; অমান্ত গণনা — উত্তর ভারতে এটিই ভাদ্রপদ অমাবস্যা); গুজরাটে «অমাস» — দিবালী-অমাস (লক্ষ্মী-চোপড়া পূজন), ভাদরবী অমাস (সর্বপিতৃ; অম্বাজির বড় মেলা ভাদরবী পূনমে), সোমবতীতে মেয়েদের অশ্বত্থ-পূজা; গোয়ায় পিতৃ-অমাবস্যা।
তামিলনাড়ু-কর্ণাটক-অন্ধ্র-কেরল: «অমাবসৈ/অমাবাস্যে» — প্রতি অমাবস্যায় ব্রাহ্মণ-পরিবারে পিতৃ-তর্পণ (সমুদ্র/নদীর তীরে — রামেশ্বরম্, কাবেরী); আডি (শ্রাবণ) ও থৈ (মাঘ) অমাবসৈ বড় — লক্ষ লক্ষ মানুষের তর্পণ; তিরুনল্লারে (শনিক্ষেত্র) শনি-অমাবসৈ; কেরলে কর্কটক-বাবুর (আষাঢ়-শ্রাবণ) বলি-তর্পণ সবচেয়ে বড়; কর্ণাটকে «ভীমন অমাবাস্যে» (আষাঢ় — স্বামীর মঙ্গলে মেয়েদের ব্রত), «মহালয় অমাবাস্যে»; অন্ধ্রে «অমাবাস্য»-য় পিতৃ-পূজা, দীপাবলি-অমাবস্যা।
বাংলা-ওড়িশা-অসম: বাংলায় «অমাবস্যা» — কালীপূজা (কার্তিক — দীপান্বিতা, জ্যৈষ্ঠ — ফলহারিণী, ভাদ্রপদ — কৌশিকী), তারাপীঠ-কালীঘাটে অমাবস্যার রাত; পিতৃ-তর্পণ মহালয়ায়; ওড়িশায় «অমাবাস্যা/অমাবাস» — পিতৃ-তর্পণ, কার্তিক-অমাবস্যা (দীপাবলি-«বড় বাড়ুআ»), «সোমবতী»; অসমে «অমাবস্যা»-য় কালী/কামাখ্যা-পূজা, অম্বুবাচীর সঙ্গে জড়িত পরম্পরা।
নেপাল ও সাধারণ: নেপালে «ঔঁসী» — কুশে-ঔঁসী (ভাদ্রপদ — পিতৃ-দিবস, গোকর্ণে তর্পণ), মাতাতীর্থ-ঔঁসী (বৈশাখ — মাতৃ-দিবস), লক্ষ্মীপূজা (কার্তিক); বালাজু-গোকর্ণের তর্পণ-ঘাট; প্রবাসী পরিবার বাড়িতেই জল-তিলে তর্পণ — উপরের তিথি-তালিকা দেখে নিজের পিতৃপুরুষদের দর্শ-শ্রাদ্ধ।
🙏 আপনার বাড়ির রীতিনীতি এর থেকে আলাদা? এখানে লিখুন

দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।

প্রতিটি পোস্ট করা রীতিনীতি আগে পড়া হয়-অশ্লীল/বিজ্ঞাপন/ভুল যোগ করা হয় না।

কী করবেন, কী করবেন না

✅ কী করবেন

  • প্রতি অমাবস্যায় পিতৃপুরুষের তর্পণ (জল-তিল, দক্ষিণমুখী) — না জানলে শুধু জল-তিল আর গরু-কাককে গ্রাস
  • স্নান-দান (অন্ন-তিল-বস্ত্র-জল), অশ্বত্থ-তুলসীকে জল-প্রদীপ, সন্ধ্যায় দক্ষিণে তিল-তেলের প্রদীপ
  • সোমবতী: অশ্বত্থ-প্রদক্ষিণ (108 সুতো), সৌভাগ্যের কথা; শনৈশ্চরী: শনির প্রদীপ-তেল দান, হনুমান চালিসা
  • সাত্ত্বিক/নুন ছাড়া আহার, পায়েস-পুরি পিতৃপুরুষদের; শুভ সূচনা (বিবাহ-যাত্রা) এড়িয়ে চলুন
  • পিতৃদোষ থাকলে অমাবস্যার তর্পণ মাসিক প্রতিকার; গীতা-7/পিতৃসূক্ত

❌ কী করবেন না

  • অমাবস্যায় তুলসী তোলা, চুল-নখ কাটা, তেল মাখা (কিছু রীতিতে), সন্ধ্যার পর শ্মশান/নির্জন জায়গা (লোকবিশ্বাস)
  • মাংস-মদ-তামসিক খাবার, কলহ, মিথ্যা; পিতৃপুরুষের নিন্দা; ভিক্ষুক-অতিথিকে খালি হাতে ফেরানো
  • নতুন কাজ শুরু, বিবাহ-বাগদান, যাত্রা (লোকরীতি — শাস্ত্রে শুধু শুভ সংস্কার নিষিদ্ধ)
  • উত্তরমুখী হয়ে/বাঁ হাতে তর্পণ; রাতে শ্রাদ্ধ (সূর্যাস্তের পর নয়)
  • কুসংস্কার — অমাবস্যা «অশুভ» নয়, পিতৃ-দেবতার দিন; ছোটদের ভয় দেখাবেন না

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

পরের অমাবস্যা কবে? 2026-এর অমাবস্যার তিথিগুলি?

উপরে পরের অমাবস্যার তারিখ, তিথির সময়-পরিসর ও শ্রাদ্ধের মুহূর্ত (কুতুপ/অপরাহ্ণ — দিল্লি) আর আসন্ন 12টি অমাবস্যা মাসের নাম ও বার-বিশেষ (সোমবতী/শনৈশ্চরী) সহ দেওয়া আছে — উদয়া-তিথির নিয়মে; তর্পণ সেদিন, যেদিন অমাবস্যা দিনের বেলায় (অপরাহ্ণে) থাকে — তিথির সময়-পরিসর দেখে নিন।

সোমবতী অমাবস্যা কী আর মেয়েরা কী করেন?

সোমবারে পড়া অমাবস্যা — বছরে 1-3টি; সধবারা ব্রত রেখে কাঁচা সুতো জড়াতে জড়াতে অশ্বত্থের 108 বার প্রদক্ষিণ করেন, ফল-মিষ্টি-মুদ্রা নিবেদন করে, সোনা ধোপানি/মহাজনের বউয়ের কথা শুনে, তারপর খাবার — স্বামী-সন্তানের দীর্ঘায়ু ও অক্ষয় সৌভাগ্য; তীর্থস্নানের (হরিদ্বার-প্রয়াগ) বিশেষ ফল; উপরের তালিকায় «(সোমবতী)» লেখা আছে।

শনৈশ্চরী (শনি) অমাবস্যায় কী করবেন?

শনিবারের অমাবস্যা — শনি-শান্তির শ্রেষ্ঠ দিন: শনিমন্দিরে/অশ্বত্থতলায় সরষের তেলের প্রদীপ, কালো তিল-মাষকলাই-তেল-লোহা-কালো বস্ত্র দান (গরিব/সাফাইকর্মীকে), «ওঁ শং শনৈশ্চরায় নমঃ» 108 বার, হনুমান চালিসা, শনি-স্তোত্র (দশরথ-রচিত), সঙ্গে পিতৃ-তর্পণ; সাড়েসাতি-ঢৈয়া চললে বিশেষ করে; আগে কোষ্ঠী-পরীক্ষা (সাড়েসাতি-রিপোর্ট) করে নিশ্চিত হোন।

পুরোহিত না থাকলে তর্পণ কীভাবে করবেন?

স্নান করে দক্ষিণমুখী বসুন, তামার ঘটিতে জল-কালো তিল-(কুশ); বুড়ো আঙুলের দিক দিয়ে জল ছাড়তে ছাড়তে «(গোত্র) (পিতা/ঠাকুরদার নাম) তৃপ্যতাম্» 3-3 বার, তারপর «সর্বে পিতরঃ তৃপ্যন্তাম্»; শেষে গরু-কাককে পায়েস-রুটি, গরিবকে অন্ন — এটাই সহজ দর্শ-তর্পণ; নারীও করতে পারেন (পুত্র না থাকলে); পূর্ণ বিধির জন্য পিতৃপক্ষের পাতা দেখুন।

অমাবস্যায় কী করা উচিত নয় আর কেন?

শাস্ত্রে শুধু শুভ সংস্কার (বিবাহ-মুণ্ডন-গৃহপ্রবেশ) নিষিদ্ধ — চন্দ্রহীন তিথি, মন দুর্বল; লোকরীতিতে নতুন কাজ-যাত্রা-কেনাকাটা এড়ানো, তুলসী না তোলা, মাংস-মদ নয়, সন্ধ্যার পর নির্জন জায়গা এড়ানো; কিন্তু জপ-দান-তর্পণ-ধ্যানের জন্য এটি শ্রেষ্ঠ দিন — অমাবস্যা «অশুভ» নয়।

কোন কোন অমাবস্যা বড়?

মাঘ — মৌনী (মৌন-স্নান), আশ্বিন — সর্বপিতৃ (মহালয়া), কার্তিক — দীপাবলি (লক্ষ্মীপূজা), শ্রাবণ — হরিয়ালি (চারাগাছ-দোলনা), জ্যৈষ্ঠ — বট সাবিত্রী/শনি জয়ন্তী, ভাদ্রপদ — কুশগ্রহণী/পিঠোরী/পোলা, চৈত্র — ভূতড়ী, ফাল্গুন — ফাল্গুনী; সোমবতী-শনৈশ্চরী বার অনুযায়ী; সবগুলির পাতা hub-এ।

🔔 মনে করিয়ে দিন — প্রতি ব্রতের একদিন আগে

আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।

বার্তা Nakshtra Tak-এর তরফ থেকে আসবে; নম্বর অন্য কাউকে দেওয়া হয় না।

📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান

🌎 বিদেশে অমাবস্যা (পিতৃ-তর্পণ, স্নান-দান) 2026: আমেরিকা · কানাডা · যুক্তরাজ্য · অস্ট্রেলিয়া · সংযুক্ত আরব আমিরাত · কাতার · সৌদি আরব · কুয়েত · ওমান · বাহরাইন · সিঙ্গাপুর · মালয়েশিয়া · নিউজিল্যান্ড · দক্ষিণ আফ্রিকা · মরিশাস · ফিজি · নেদারল্যান্ডস · জার্মানি · আয়ারল্যান্ড

আরও পড়ুন: পিতৃ-পক্ষ ও সর্ব পিতৃ অমাবস্যা · মৌনী অমাবস্যা (মাঘ) · দীপাবলি (কার্তিক অমাবস্যা) · পূর্ণিমা ব্রত

⚠️ এই বিবরণ প্রথাগত বিধি ও লোকবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে; নিজের কুল-পরিবার, গোত্র-পরম্পরা ও পুরোহিতের রীতিই সবার উপরে। তিথিগুলি দিল্লির সূর্যোদয়-তিথি অনুযায়ী — নিজের শহরের পঞ্জিকা মিলিয়ে নিন; পিতৃদোষ/শনির প্রতিকার জ্যোতিষের বিশ্বাস।

🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার