🪁 মকর সংক্রান্তি (খিচুড়ি / পোঙ্গল / লোহড়ি) 2027
সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশ — উত্তরায়ণের সূচনা; তিল-গুড়, খিচুড়ি, গঙ্গাস্নান, ঘুড়ি, দান আর সারা দেশে আলাদা আলাদা নাম।
- লোহরি (পঞ্জাব)/ভোগি (দক্ষিণ) বুধবার, 13 জানুয়ারি 2027
- মকর সংক্রাংতি/পঙ্গল/মাঘ বিহু গুরুবার, 14 জানুয়ারি 2027
মকর সংক্রান্তি বছরের সেই পার্বণ, যা চান্দ্র তিথি দিয়ে নয়, সূর্য দিয়ে স্থির হয় — যেদিন সূর্য ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করেন (সাধারণত 14 জানুয়ারি, কখনো 15)। এর থেকেই উত্তরায়ণ শুরু হয়, দিন বড় হতে থাকে এবং খরমাস (মলমাস) শেষ হয়ে বিবাহের মুহূর্ত আবার খুলে যায়।
এটি কৃষক আর ঘরের মেয়েদের পার্বণ — নতুন ফসলের (ধান, আখ, তিল) উৎসব: তিল-গুড়ের লাড্ডু, খিচুড়ি, গঙ্গাস্নান, দান আর ঘুড়ি। অঞ্চলভেদে নাম বদলায় — উত্তরপ্রদেশ-বিহারে খিচুড়ি, পাঞ্জাবে একদিন আগে লোহড়ি, গুজরাটে উত্তরায়ণ, তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল, অসমে মাঘ বিহু, মহারাষ্ট্রে তিলগুল। নিচে এ বছরের তারিখ, স্নান-দানের পুণ্যকাল, বিধি, সামগ্রী, কথা, পদ আর প্রতিটি অঞ্চলের রীতি দেওয়া হল।
গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন
উত্তরায়ণকে দেবতাদের দিন বলে মানা হয় — ভীষ্ম পিতামহ শরশয্যায় উত্তরায়ণের প্রতীক্ষা করেছিলেন এবং মকর সংক্রান্তির পরে দেহত্যাগ করেন। এই দিনের স্নান-দান (বিশেষত তিল, গুড়, খিচুড়ি, কম্বল) অক্ষয় ফল দেয়।
পুণ্যকাল: সংক্রান্তির মুহূর্ত থেকে সেদিনের সূর্যাস্ত পর্যন্ত (বা 16 ঘটিকা); সংক্রান্তি সূর্যাস্তের পরে হলে পরের দিনই পার্বণের দিন। এই কারণেই কখনো 14, কখনো 15 জানুয়ারি — উপরে দেওয়া তারিখ ইঞ্জিন থেকে। মহাপুণ্যকাল সংক্রান্তির ঠিক পরের প্রায় 2 ঘটিকা (48 মিনিট)।
মেয়েদের রীতি: তিল-গুড় বিলানো («তিলগুল ঘ্যা, গোড় বোলা»), হলুদ-কুমকুম, সধবাদের বায়না/বাণ দেওয়া, নতুন বউ-শিশুর «বোরনহাণ»; বিহার-পূর্বাঞ্চলে দই-চিঁড়ে-তিলকুট, ঘরের বড় মহিলা সবাইকে তিল দিয়ে আশীর্বাদ করেন।
পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)
এটি ঘরোয়া বিধি — ভোরে স্নান, সূর্যকে অর্ঘ্য, তিল-গুড়-খিচুড়ির দান-ভোগ, ঘুড়ি/মাঠ।
- ব্রাহ্মমুহূর্তে/সূর্যোদয়ে (উপরে সময়) নদী-পুকুরে বা বাড়িতে জলে তিল ও গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান — «তিল-স্নান»; নতুন/পরিষ্কার পোশাক।
- উদীয়মান সূর্যকে তামার ঘটি থেকে জল-তিল-লাল ফুলের অর্ঘ্য — «ওঁ ঘৃণি সূর্যায় নমঃ» বা আদিত্যহৃদয়; উত্তরায়ণের সূর্যকে প্রণাম।
- ঘরের ঠাকুরঘরে সূর্য-বিষ্ণুর পূজা; তিল-গুড়ের লাড্ডু আর খিচুড়ির (চাল-বিউলি/মুগের) ভোগ; তুলসীপাতা।
- দান (পুণ্যকালে, সূর্যাস্তের আগে): কালো তিল, গুড়, খিচুড়ির কাঁচা সামগ্রী (চাল-ডাল-ঘি-নুন-হলুদ), কম্বল/পশমের পোশাক, ঘি, তেল — ব্রাহ্মণ, অভাবী মানুষ, গোশালাকে; «তিল-দান» এই দিনের সবচেয়ে বড় দান।
- মেয়েরা: হলুদ-কুমকুম, সধবাদের তিল-গুড় ও বায়না (বাণ — 13টি জিনিস: বাসন/চিরুনি/চুড়ি ইত্যাদি); ঘরের বড় মহিলা সবাইকে তিল দিয়ে আশীর্বাদ; নতুন বউ/শিশুর বোরনহাণ (কুল-তিল-মুড়ির বর্ষণ)।
- দিনে ঘুড়ি (গুজরাট-রাজস্থান-উত্তরপ্রদেশ), মাঠে নতুন ফসলের পূজা, গরু-বলদকে তিল-গুড়; সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে খিচুড়ি খাওয়া।
- একদিন আগে লোহড়ি (পাঞ্জাব-হরিয়ানা): রাতে আগুন জ্বালিয়ে তিল-রেওড়ি-চিনাবাদাম-ভুট্টার আহুতি, পরিক্রমা, «সুন্দর মুন্দরিয়ে» গান, নতুন বউ/নবজাতকের বাড়িতে বিশেষ।
- পোঙ্গল (তামিলনাড়ু): ভোগি (প্রথম দিন পুরনো জিনিস পোড়ানো) → থাই পোঙ্গল (নতুন হাঁড়িতে দুধ-চাল উথলে ওঠানো — «পোঙ্গলো পোঙ্গল!») → মাট্টু পোঙ্গল (গরু-বলদ) → কানুম পোঙ্গল (পরিবার-মিলন)।
পূজা-সামগ্রীর তালিকা
তিল-গুড় এই পার্বণের প্রাণ — লাড্ডু একদিন আগেই বানিয়ে রাখুন।
- কালো/সাদা তিল, গুড়, চিনাবাদাম, রেওড়ি, গজক, মুড়ি
- খিচুড়ি: নতুন চাল, বিউলি/মুগের ডাল, ঘি, হলুদ, নুন — ভোগ ও দান দুয়ের জন্যই
- সূর্য-অর্ঘ্যের জন্য তামার ঘটি, লাল ফুল, অক্ষত, গঙ্গাজল
- দান: কম্বল, পশমের পোশাক, ঘি-তেল, খিচুড়ির সামগ্রী, দক্ষিণা
- হলুদ-কুমকুম, সধবাদের বায়না/বাণের 13টি জিনিস (মহারাষ্ট্রের রীতি)
- নতুন বউ/শিশুর বোরনহাণের জন্য কুল, তিল, মুড়ি, হালুয়া
- ঘুড়ি-মাঞ্জা (গুজরাট-ইউপি), লোহড়ির কাঠ-ঘুঁটে, ভুট্টা-রেওড়ি
- পোঙ্গল: নতুন মাটির হাঁড়ি, নতুন চাল, দুধ, গুড়, আখ, হলুদের পাতা; কোলমের রং
- দই-চিঁড়ে-তিলকুট (বিহার-পূর্বাঞ্চল)
🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন
সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।
পঞ্জিকা দেখুন →ব্রত-কথা
সূর্যদেব নিজের পুত্র শনির উপর রুষ্ট থাকতেন (শনির মা ছায়ার সঙ্গে জড়িত কাহিনি)। মকর রাশি শনির ঘর — মকর সংক্রান্তিতে সূর্য এক মাসের জন্য পুত্র শনির ঘরে যান, আর এটি পিতা-পুত্রের মিলনের দিন; বলা হয়, এই দিন শনি পিতাকে তিল-গুড় দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিল-গুড়ের চল আর «তিল-গুড় খাও, মিষ্টি কথা বলো»-র শিক্ষা।
মহাভারতে ভীষ্ম পিতামহ শরশয্যায় 58 দিন উত্তরায়ণের প্রতীক্ষা করেছিলেন — কারণ উত্তরায়ণে যিনি দেহত্যাগ করেন, তিনি পুনর্জন্ম থেকে মুক্ত হন; মকর সংক্রান্তির পরে (মাঘ শুক্ল অষ্টমী) তিনি প্রাণত্যাগ করেন। এই কারণেই এই দিন মোক্ষ এবং পিতৃপুরুষদের তর্পণেরও দিন।
গঙ্গাবতরণ — ভগীরথের তপস্যায় গঙ্গা এই দিনই কপিল মুনির আশ্রমে পৌঁছে সগর-পুত্রদের উদ্ধার করে সাগরে মিশেছিলেন; তাই গঙ্গাসাগরে (বাংলা) মকর সংক্রান্তির মহাস্নান — «সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার»।
তিল-গুড়, খিচুড়ি, পোঙ্গল — অঞ্চলে অঞ্চলে আলাদা খাবার
এটি নতুন ফসলের পার্বণ, তাই প্রতিটি অঞ্চলের পদ সেখানকার ফসল দিয়েই — উত্তরে খিচুড়ি-তিলকুট, পশ্চিমে তিলগুল-উন্ধিয়ু, দক্ষিণে পোঙ্গল, পুবে পিঠে-দই-চিঁড়ে।
- তিল-গুড়ের লাড্ডু (তিল ভেজে, গুড়ের রসে — 1 কাপ তিল : ¾ কাপ গুড়), গজক, রেওড়ি, তিলকুট
- খিচুড়ি (ইউপি-বিহার): নতুন চাল + বিউলির ডাল, ঘি-হিং-জিরে; সঙ্গে ঘি, দই, আচার, পাঁপড়, আলু-ফুলকপির তরকারি
- দই-চিঁড়ে-গুড় (বিহার-ঝাড়খণ্ড), তিলকুট, লাই (মুড়ি-গুড়)
- উন্ধিয়ু-জিলিপি, চিক্কি (গুজরাট); গুলপোলি, তিলগুল (মহারাষ্ট্র); পিন্নি, সর্ষে শাক-ভুট্টার রুটি, গুড়ের পায়েস (পাঞ্জাব)
- সক্করই পোঙ্গল (দুধ-চাল-গুড়-ঘি-কাজু, নতুন হাঁড়িতে উথলে ওঠানো) ও ভেন পোঙ্গল (তামিলনাড়ু); এল্লু-বেল্লা (কর্ণাটক); পিঠে — তিল-নারকেলের (অসম-বাংলা-ওড়িশা); ঘুগরি/ চিঁড়ে
বিভিন্ন এলাকার রীতি
এক সূর্য-পার্বণ, দশ নাম — প্রতিটি রাজ্য নিজের ফসল আর রীতি নিয়ে।
দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।
✅ মিল গিলি-রিডিং 1-2 দিনে একই পৃষ্ঠায় যোগ করবে। ধন্যবাদ!কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ পাঠানো হচ্ছেকী করবেন, কী করবেন না
✅ কী করবেন
- স্নান-দান পুণ্যকালে (সংক্রান্তি থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত) — উপরে তারিখ; তিলের দান সবচেয়ে বড়
- উদীয়মান সূর্যকে অর্ঘ্য; তিল-গুড় বিলিয়ে মিষ্টি কথা বলার সংকল্প
- কম্বল/পশমের পোশাক দান — শীতের মাঝে সবচেয়ে কাজের
- গরু-বলদকে তিল-গুড়-কাঁচা ঘাস; মাঠ/নতুন ফসলের সম্মান
- সধবাদের হলুদ-কুমকুম-তিল; ঘরের বড় মহিলার আশীর্বাদ
❌ কী করবেন না
- ঘুড়ির মাঞ্জা (চাইনিজ/কাচের) — পাখি-মানুষের প্রাণ যায়, সুতির সুতো নিন; ছাদের কার্নিশে শিশুরা যেন একা না থাকে
- লোহড়ি/মেজির আগুনের কাছে ঢিলে পোশাক-শিশু — সাবধান
- সংক্রান্তি সূর্যাস্তের পরে হলে সেই রাতে দান করবেন না — পরের দিন পুণ্যকালে
- এই দিন চুল-নখ কাটা, কলহ, তামসিক খাবার — পরম্পরায় নিষিদ্ধ
- দানের অন্ন খারাপ/এঁটো নয় — নিজে যা খান তাই দিন
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
মকর সংক্রান্তি 2027-এ কবে — 14 না 15 জানুয়ারি?
উপরে দেওয়া তারিখ ইঞ্জিনের সূর্য-গণনা থেকে — যেদিন সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করেন (সংক্রান্তি সূর্যাস্তের পরে হলে পরের দিন)। আজকাল সাধারণত 14 জানুয়ারি, কোনো কোনো বছর 15; প্রতি ~72 বছরে এক দিন করে পরে সরে যায়।
পুণ্যকাল কী, দান কখন করবেন?
সংক্রান্তির মুহূর্ত থেকে সেদিনের সূর্যাস্ত পর্যন্ত (শাস্ত্রে 16 ঘটিকা); সংক্রান্তির ঠিক পরের 48 মিনিট «মহাপুণ্যকাল»। স্নান-দান এর মধ্যেই — সূর্যোদয় থেকে দুপুর পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো।
তিল-গুড়ই কেন?
তিল আর গুড় শীতে উষ্ণতা ও শক্তি দেয় (আয়ুর্বেদ); কথায় শনি পিতা সূর্যকে তিল-গুড় দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন; তিলের দান পিতৃপুরুষ-মোক্ষের সঙ্গে জড়িত — তাই খান, বিলান, দান করুন।
লোহড়ি, পোঙ্গল, বিহু আর মকর সংক্রান্তি কি একই?
সবই সূর্যের মকর-প্রবেশ আর নতুন ফসলের উৎসব — লোহড়ি এক রাত আগে (পাঞ্জাব), পোঙ্গল চার দিন (তামিলনাড়ু), মাঘ বিহু (অসম), উত্তরায়ণ (গুজরাট), খিচুড়ি (ইউপি-বিহার) — নাম আর পদ আলাদা, সূর্য এক।
খরমাস কী, আর সংক্রান্তি থেকে কেন খোলে?
সূর্যের ধনু রাশিতে থাকার মাস (মধ্য-ডিসেম্বর থেকে মকর সংক্রান্তি পর্যন্ত) খরমাস/মলমাস — বিবাহ-গৃহপ্রবেশ নিষিদ্ধ; মকর-প্রবেশ থেকে উত্তরায়ণ আর শুভ কাজ আবার শুরু। বিবাহের তারিখ মুহূর্ত-পাতায়।
আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।
✅ নথিভুক্ত হয়েছে — পরের ব্রতের একদিন আগে বার্তা আসবে।কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ নথিভুক্ত হচ্ছে…📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান
🌎 বিদেশে মকর সংক্রান্তি (খিচুড়ি / পোঙ্গল / লোহড়ি) 2027: আমেরিকা · কানাডা · যুক্তরাজ্য · অস্ট্রেলিয়া · সংযুক্ত আরব আমিরাত · কাতার · সৌদি আরব · কুয়েত · ওমান · বাহরাইন · সিঙ্গাপুর · মালয়েশিয়া · নিউজিল্যান্ড · দক্ষিণ আফ্রিকা · মরিশাস · ফিজি · নেদারল্যান্ডস · জার্মানি · আয়ারল্যান্ড
আরও পড়ুন: সাকাত চৌথ (তিলকুট চতুর্থী) · পৌষ পূর্ণিমা · মৌনী অমাবস্যা · বিবাহ মুহূর্ত (খারমাসের পরে)
⚠️ এই বিবরণ ঐতিহ্যবাহী বিধি ও লোকবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে লেখা; আপনার কুল-পরিবারের রীতিই সর্বোপরি। ঘুড়ি আর অগ্নিকুণ্ডে নিরাপত্তা সর্বোপরি।
🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার