Nakshtra Takকুণ্ডলীরাশিফলপঞ্জিকামিলানজ্ঞানগ্রহ-ফলজ্যোতিষীStore
🪔 ব্রত-উৎসব

🌅 ছট পূজা (সূর্য ষষ্ঠী) 2026

✍️ জ্যোতিষাচার্য আদিত্য ধর দ্বিবেদী · 🔎 শেষ পর্যালোচনা: · 🧮 গণনা-পদ্ধতি

কার্তিক শুক্ল ষষ্ঠী — চার দিনের মহাপর্ব: নহায়-খায়, খরণা, অস্তগামী সূর্যকে সন্ধ্যা-অর্ঘ্য এবং উদয়গামী সূর্যকে ঊষা-অর্ঘ্য; ৩৬ ঘণ্টা নির্জলা।

ছট পূজা (সূর্য ষষ্ঠী) 2026-এর তিথি
রবিবার, 15 নভেম্বর 2026
কার্তিক · শুক্ল পক্ষ · ষষ্ঠী (বিক্রম সংবত 2083)
🌇 সূর্যাস্ত5:28 PM
🌅 সূর্যোদয়6:44 AM
📿 তিথি-কালষষ্ঠী 14 নভেম্বর, 11:24 পিএম → 16 নভেম্বর, 2:01 এএম
🕉 ব্রহ্ম মুহুরত05:08 AM – 05:56 AM
🐄 গোধূলি বেলা5:06 PM – 5:49 PM
⛔ রাহুকাল (এড়িয়ে চলুন)04:07 PM – 05:28 PM
  • নাহাই-খাই (চতুর্থী) শুক্রবার, 13 নভেম্বর 2026
  • খারা/লোহান্ডা (পংচমী) শনিবার, 14 নভেম্বর 2026
  • সন্ধ্যা আর্গ্য-ষষ্ঠী (ডুবন্ত সূর্য-এর দিকে) রবিবার, 15 নভেম্বর 2026
  • উষা আর্গ্য এবং পারণ-সপ্তমী (সূর্য-কে উত্থিত করা) - সোমবার, 16 নভেম্বর 2026
আগামী বছর — 2027: গুরুবার, 4 নভেম্বর 2027
সময় দিল্লি (আই. এস. টি) কে, সুইস এপিহেমেরিস-গণনা, উদীয়মান-তারিখের নিয়ম। চন্দ্রোদয়/সূর্যোদয় প্রতিটি শহরে পরিবর্তিত হয় -

ছঠ পুজো কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতে — দীপাবলির ছয় দিন পরে — উদযাপিত সূর্য-উপাসনার সবচেয়ে কঠোর এবং পবিত্র ব্রত। এটি চার দিন ধরে চলে: চতুর্থীতে নহায়-খায়, পঞ্চমীতে খরণা, ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় অস্তগামী সূর্যের অর্ঘ্য এবং সপ্তমীর ভোরে উদয়গামী সূর্যের অর্ঘ্য — মাঝখানে প্রায় ৩৬ ঘণ্টার নির্জলা ব্রত।

বিহার, ঝাড়খণ্ড, পূর্ব উত্তর প্রদেশ এবং নেপালের তরাই অঞ্চলের এই লোক-মহাপর্ব এখন সারা দেশে ও বিদেশে উদযাপিত হয়। ব্রতী (পরবৈতিন) সাধারণত ঘরের মা হন; পুরো পরিবার-পাড়া ঘাটে একসঙ্গে থাকে। নিচে এই বছরের চারটি তিথি, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের (অর্ঘ্য) সময়, বিধি, সূপ-দৌরার সামগ্রী, ঠেকুয়া-খরণার রান্না, কথা এবং অঞ্চলের রীতি দেওয়া হয়েছে।

গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন

ছঠে সূর্য দেব এবং ছঠী মাইয়া (ষষ্ঠী দেবী — ব্রহ্মার মানস-কন্যা, সন্তানের রক্ষক)-র পুজো হয়। বিশ্বাস করা হয় যে ছঠের ব্রত সন্তান-সুখ, পরিবারের সুস্বাস্থ্য এবং সৌভাগ্যের জন্য সর্বাধিক ফলদায়ী — এবং এটি সেই গুটি কয়েক উৎসবের মধ্যে একটি যেখানে অস্তগামী সূর্যকেও অর্ঘ্য দেওয়া হয়, অর্থাৎ পতনের কালেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

এতে কোনো পণ্ডিত, মূর্তি, মন্দির নেই — কেবল জল, সূর্য, বাঁশের সূপ-দৌরা, মাটির উনুন, গম-গুড়-ঘিয়ের ঠেকুয়া এবং লোকগীতি। শুচিতার নিয়ম কড়া: চার দিন রসুন-পেঁয়াজ বর্জিত, নতুন উনুন, মাটিতে শোয়া, হাতে তৈরি প্রসাদ।

ওপরের তিথিগুলি ইঞ্জিন-গণনা অনুসারে — ষষ্ঠী (সন্ধ্যা অর্ঘ্য) পঞ্জিকা থেকে এবং বাকি তিন দিন তার সাপেক্ষে; সপ্তমীর ঊষা-অর্ঘ্য সেই শহরের সূর্যোদয় অনুযায়ী হয়, তাই আপনার শহরের সূর্যোদয় পঞ্জিকার পাতার সঙ্গে অবশ্যই মিলিয়ে নেবেন (দিল্লি থেকে পাটনায় সূর্যোদয় প্রায় ৩৫-৪০ মিনিট আগে হয়)।

পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)

চার দিনের এই বিধি বিহার-পূর্বাঞ্চলের আদর্শ রীতি; অত্যন্ত কঠোর, তাই পরিবারের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

  1. দিন ১ — নহায়-খায় (চতুর্থী): ব্রতী সকালে নদী/পুকুরে বা বাড়িতে স্নান, ঘর ধোয়া ও লেপা; দুপুরে নতুন/মাটির উনুনে একবেলা সাত্ত্বিক আহার — কদু (লাউ)-র তরকারি, ছোলার ডাল, অর্বা চাল, সৈন্ধব লবণ, ঘি — প্রথমে সূর্যকে নিবেদন, তারপর ব্রতী, তারপর পরিবার। এই দিন থেকেই রসুন-পেঁয়াজ-মাংস বন্ধ।
  2. দিন ২ — খরণা/লোহান্ডা (পঞ্চমী): ব্রতী সারা দিন নির্জলা; সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর মাটির উনুনে আমের কাঠ দিয়ে গুড়-চালের পায়েস (রসিয়াভ), ঘি লাগানো রুটি এবং কলা দিয়ে ছঠী মাইয়াকে ভোগ; ব্রতী নির্জনে প্রসাদ গ্রহণ করেন (কোলাহল হলে সেখানেই থেমে যান), তারপর সবাইকে প্রসাদ বিতরণ। এরপর থেকে ৩৬ ঘণ্টার নির্জলা ব্রত শুরু।
  3. দিন ৩ — সন্ধ্যা অর্ঘ্য (ষষ্ঠী): দিনে ঠেকুয়া, কসার (চালের নাড়ু), ফল, নারকেল, আখ, হলুদ-আদার গাঁঠ, শিঙাড়া, কলার কাঁদি, পাতিলেবু (ডাব), সুতনি, মুলো ইত্যাদি বাঁশের সূপ এবং দৌরায় (ঝুড়ি) সাজান; দৌরা ঘরের পুরুষ মাথায় করে ঘাটে নিয়ে যান।
  4. ঘাটে মাটির সূর্য-বেদী/কোসি (হাতিওয়ালা মাটির প্রদীপ-স্তম্ভ, মানত পূর্ণ হলে) সাজান; সূর্যাস্তের (ওপরের সময়) আগে ব্রতী জলে কোমর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সূপ ওঠান; পরিবারের লোকজন দুধ-জল দিয়ে অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য দিন — «ওঁ ঘ্রিণি সূৰ্য্যায় নমঃ» বা ছঠের গান; সূপের পাঁচ/সাতটি প্রদক্ষিণ।
  5. রাতে ঘাট বা বাড়িতে জাগরণ, কোসি ভরনা (মানতকারীদের জন্য — আখের মণ্ডপে মাটির ১২/২৪টি প্রদীপ), ছঠের লোকগীতি — «কেলওয়া কে পাত পর উগেলন সুরজ মল ঝুকে-ঝুকে», «কাঁচ হি বাঁশ কে বহঙ্গিয়া সিরাম সে...»।
  6. দিন ৪ — ঊষা অর্ঘ্য ও পারণ (সপ্তমী): ভোরে (ব্রহ্ম মুহূর্তে) সেই সূপ-দৌরা নিয়ে ঘাটে; সূর্যোদয়ে (ওপরের সময়) উদয়গামী সূর্যকে অর্ঘ্য; ব্রতী জল থেকে উঠে বড়দের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন, প্রসাদ (ঠেকুয়া) বিতরণ করেন।
  7. পারণ: ঘাট থেকে ফিরে ব্রতী ছঠী মাইয়াকে প্রণাম করে আদা-গুড়/ঠেকুয়া-জল দিয়ে ৩৬ ঘণ্টার ব্রত ভাঙেন; তারপর হালকা খাবার। সূপের প্রসাদ পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ বাধ্যতামূলক — ছঠের প্রসাদ চেয়ে খাওয়াও শুভ বলে মনে করা হয়।
  8. ব্রতের সঙ্কল্প সাধারণত মানত বা পারিবারিক পরম্পরা থেকে নেওয়া হয় এবং তারপর প্রতি বছর পালন করা হয়; কোনো বছর বাদ পড়লে অন্য কোনো পরবৈতিন দিয়ে সূপ দেওয়ালিয়ে পুজো সম্পূর্ণ করা হয়।

📿 ছট পূজা (সূর্য ষষ্ঠী) কীভাবে করবেন — বিস্তারিত বিধি, সামগ্রীর চেকলিস্ট ও নিয়ম →

পূজা-সামগ্রীর তালিকা

ছঠের সামগ্রীর তালিকা দীর্ঘ — নহায়-খায়ের আগেই তালিকা দেখে সমস্ত কিছু জোগাড় করে নিন; প্রতিটি জিনিস যেন পরিষ্কার ও নতুন হয়।

  • বাঁশের সূপ (২-৩টি), বাঁশের দৌরা/ঝুড়ি (১-২টি), পিতলের সূপ (যদি থাকে)
  • ঠেকুয়ার জন্য গমের আটা, গুড়, ঘি, মৌরি, নারকেল কোরা; কসারের জন্য চালের গুঁড়ো-গুড়
  • খরণা: অর্বা চাল, গুড়, দুধ, গমের আটা (রুটি), আমের কাঠ, মাটির উনুন
  • নহায়-খায়: কদু/লাউ, ছোলার ডাল, অর্বা চাল, সৈন্ধব লবণ, ঘি
  • ফল: কলা (সম্পূর্ণ কাঁদি), নারকেল (জলসহ), আপেল, কমলালেবু, নাশপাতি, শিঙাড়া, সুতনি, পাতিলেবু-ডাব, আখ (পাতাযুক্ত ৫-৭টি)
  • হলুদ ও আদার গাঁঠ (চারা সহ), মুলো, সজনে (কোথাও কোথাও), পান-সুপারি
  • মাটির প্রদীপ, ঘি/সর্ষের তেল, ধূপ, ধূপকাঠি, কর্পূর
  • সিঁদুর (ব্রতী নাক থেকে সিঁথি পর্যন্ত লম্বা সিঁদুর পরেন), রোলী, অক্ষত, ফুল, ফুলের মালা
  • পিতল/তামার ঘটি (অর্ঘ্যের জন্য), দুধ, গঙ্গাজল
  • নতুন বস্ত্র — ব্রতীর জন্য সেলাই ছাড়া শাড়ি (হলুদ/লাল), পুরুষদের জন্য ধুতি
  • কোসি (মানত থাকলে): মাটির হাতি-প্রদীপ, ১২/২৪টি প্রদীপ, আখের মণ্ডপ
  • গম/চাল ধুয়ে-শুকিয়ে ভাঙানো আটা (বাজারের কেনা গুঁড়ো নয় — পবিত্রতা), মাদুর/কম্বল (মাটিতে শোওয়ার জন্য)

🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন

📅 আপনার শহরের পঞ্জিকা

সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।

পঞ্জিকা দেখুন →

ব্রত-কথা

রাজা প্রিয়ব্রত ও রানি মালিনী নিঃসন্তান ছিলেন। মহর্ষি কশ্যপের যজ্ঞে রানির পুত্র জন্মায়, তবে সে মৃত জন্মায়। শোকে রাজা প্রাণ ত্যাগের উদ্দেশ্যে চললে আকাশ থেকে এক দেবী প্রকাশ পেলেন — «আমি ষষ্ঠী দেবী, ব্রহ্মার মানস-কন্যা, সন্তানের রক্ষক; আমার পূজা করো।» রাজা-রানি কার্তিক শুক্ল ষষ্ঠীতে তাঁর পূজা করলেন এবং পুত্র জীবিত হয়ে উঠল — সেই থেকেই ছঠি মেইয়ার পূজা।

📖 ছট পূজা (সূর্য ষষ্ঠী)-র সম্পূর্ণ ব্রত-কথা পড়ুন →

ছঠ কা রশোই — নাহায়-খায়, খরনার রসিয়াও, ঠেকুয়া

ছঠের প্রতিটি প্রসাদ হাত দিয়ে, মাটি/নতুন উনুনে, শুদ্ধতার সঙ্গে তৈরি হয় — গম ধুয়ে-শুকিয়ে ঘরে ভাঙানো হয়, গুড়ই মিষ্টির উৎস। ঠেকুয়া এই উৎসবের পরিচয় — গম আটা, গলানো গুড়, ঘি, মৌরি-নয়া নারকেল মেখে ছাঁচে টিপে ঘিয়ে ভাজা।

  • নহায়-খায়: কদু-ভাত — লাউয়ের তরকারি (সৈন্ধব লবণ, ঘি), ছোলার ডাল, অরওয়া চাল; ব্রতী একবার, পরিবার পরে
  • খরনা: রসিয়াও (গুড়-চাল-দুধের পায়েস), ঘি মাখানো রুটি, কলা — সূর্যাস্তের পর, আমের কাঠের আগুনে; ব্রতী একান্ত in
  • ঠেকুয়া (২০ জনের জন্য): ১ কেজি গমের আটা, ৫০০-৬০০ গ্রাম গুড় (জলে গোলায়), ১০০ গ্রাম ঘি (ময়ান), ১ চামচ মৌরি, নারকেল কোরা — শক্ত করে মেখে, ছাঁচে টিপে, মৃদু আঁচে ঘিয়ে সোনালী করে ভাজা
  • কসার/লাড্ডু: ভাজা চালের আটায় গুড়-ঘি-মৌরি মিশিয়ে লাড্ডু; কিছু বাড়িতে পিরুকিয়া (গুজিয়া)
  • পারণ: আদা-গুড় বা ঠেকুয়া-জল দিয়ে ব্রত ভাঙুন, তারপর হালকা — খিচুড়ি/ডাল-ভাত; সঙ্গে সঙ্গে ভারী খাবার নয়

বিভিন্ন এলাকার রীতি

ছঠের শেকড় বিহার-পূর্বাঞ্চল-তরাইয়ে; যেখানে যেখানে বিহারিরা গেছেন, ছঠ সঙ্গে গেছে।

বিহার (মগধ-ভোজপুর-মিথিলা-অঙ্গ): পাটনার গঙ্গা-ঘাট, গয়া, ঔরঙ্গাবাদের দেব সূর্য-মন্দির (চৈতি ও কার্তিকী ছঠ — লক্ষাধিক ব্রতী), উলার ও বড়গাঁওয়ের সূর্য-মন্দির; মিথিলায় সুপে মখানা ও «কোসি ভরনা»-র নিজস্ব রীতি; পুরো প্রদেশ চার দিন গানে ডুবে থাকে।
পূর্ব উত্তর প্রদেশ (পূর্বাঞ্চল-অবধ): বারাণসীর ঘাট (অসি-দশাশ্বমেধ), গোরখপুর, বলিয়া, আজমগড়, গাজিপুর, দেওরিয়া — পুকুর-নদী-খাল সর্বত্র ঘাট; লখনউয়ের গোমতি-ঘাটে বড় আয়োজন; ঠেকুয়া ও আখের বাঁহগি।
ঝাড়খণ্ড: রাঁচি, ধানবাদ, জামশেদপুরের পুকুর-ঘাট; আদিবাসী অঞ্চলেও ছঠ; সুপে ফল-সবজি স্থানীয় (কন্দমূল) বেশি।
নেপাল (তরাই-মিথিলা): জনকপুর, বীরগঞ্জ, কাঠমান্ডুর রানি পোখরি — নেপালে ছঠ সরকারি ছুটি; বিধি একই, গান মৈথিলী-ভোজপুরি।
দিল্লি-মুম্বই-কলকাতা-গুজরাট (প্রবাসী): যমুনা-ঘাট, জুহু চৌপাটি, হুগলি-ঘাট এবং কৃত্রিম পুকুর/সুইমিং পুলে যৌথ ছঠ; কলোনিতে অস্থায়ী ঘাট; ব্রতী ওই চার দিনের নিয়ম পালন করেন।
পশ্চিমবঙ্গ-আসাম-ওড়িশা: হিন্দিভাষী পরিবারগুলির ছঠের সঙ্গে বাংলায় কিছু জায়গায় «সূর্য ষষ্ঠী» স্থানীয় রূপে; ওড়িশায় এই ষষ্ঠীকে «প্রথমাষ্টমী»-র কাছাকাছি সূর্য-পুজো (ভিন্ন ঐতিহ্য)।
মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড়: বঘেলখণ্ড-বিন্ধ্য (রওয়া-সতনা-সিধি) ও সরগুজায় ছঠ প্রবল — বিহার-পূর্বাঞ্চলের সীমানাগেঁষা এলাকা; পুকুর-ঘাটে একই বিধি।
🙏 আপনার বাড়ির রীতিনীতি এর থেকে আলাদা? এখানে লিখুন

দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।

প্রতিটি পোস্ট করা রীতিনীতি আগে পড়া হয়-অশ্লীল/বিজ্ঞাপন/ভুল যোগ করা হয় না।

কী করবেন, কী করবেন না

✅ কী করবেন

  • অর্ঘ্য ঠিক সূর্যাস্ত/সূর্যোদয়ের সময়ে — ওপরে দিল্লির সময়, আপনার শহরের পঞ্জিকা মিলিয়ে নিন
  • চার দিন কঠোর শুদ্ধতা — নতুন উনুন, হাতের প্রসাদ, রসুন-পেঁয়াজ-মাংস বন্ধ, মাটিতে শোওয়া
  • সুপে আখ, কলার কাঁদি, হলুদ-আদার গাঁঠ, নারকেল, ঠেকুয়া বাধ্যতামূলক
  • ব্রতীকে জলে পা জমা করে, সাহারার সঙ্গে দাঁড় করান — ঘাট পিচ্ছিল হয়
  • প্রসাদ খোলামেলা হাতে বিতরণ করুন; চেয়ে খাওয়াও শুভ

❌ কী করবেন না

  • প্রসাদকে এঁটো/অশুদ্ধ হাত না লাগুক; সুপ মাটিতে সোজা রাখবেন না (চটাই/কাপড়)
  • ব্রতীর সামনে উচ্চ স্বর, খরনার প্রসাদের সময়ে গোলমাল — প্রসাদ আটকে যায়
  • ঘাটে গভীর জলে যাবেন না; শিশুদের একা ছাড়বেন না; ঘাটে বাজি নয়
  • বাজারের ভাঙানো আটা, প্যাকেট-মিষ্টি — ছঠের ঐতিহ্য-বিরোধী
  • রোগী/গর্ভবতী ব্রতী ৩৬ ঘণ্টা নির্জলার জেদ করবেন না — পরিবারের অন্য নারী বা পুরুষ ব্রত করতে পারেন (পুরুষরাও ছঠ করেন)

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ছঠ পূজা 2026 সালে কবে?

ওপরে চার দিনের তালিকা রয়েছে — নাহায়-খায় (চতুর্থী), খরনা (পঞ্চমী), সন্ধ্যা অর্ঘ্য (ষষ্ঠী) এবং ঊষা অর্ঘ্য-পারণ (সপ্তমী); ষষ্ঠী পঞ্জিকা-গণনায়, বাকি তিনটি তার সাপেক্ষে।

ছঠের অর্ঘ্যের সময় কী?

সন্ধ্যা অর্ঘ্য ষষ্ঠীর সূর্যাস্তে এবং ঊষা অর্ঘ্য সপ্তমীর সূর্যোদয়ে — ওপরে দিল্লির সময় দেওয়া আছে। পাটনায় সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দিল্লি থেকে প্রায় ৩৫-৪০ মিনিট আগে, লখনউয়ে ১৫-২০ মিনিট আগে, মুম্বইয়ে ২৫-৩০ মিনিট পরে — আপনার শহরের সময় পঞ্জিকার পাতায় দেখুন।

ছঠি মেইয়া কে?

ষষ্ঠী দেবী — ব্রহ্মার মানস-কন্যা ও সূর্য দেবের বোন বলে মানা হয়; শিশুদের রক্ষক দেবী। ছঠে সূর্য ও ছঠি মেইয়া উভয়েরই পূজা হয়।

পুরুষরা কি ছঠ ব্রত রাখতে পারেন?

হ্যাঁ — ছঠে নারী-পুরুষ উভয়ই ব্রতী হন; বিহারে বহু পুরুষ পরবৈতী। মানত ও শুদ্ধতার নিয়ম সবার জন্য এক।

অস্তগামী সূর্যকে অর্ঘ্য কেন?

ছঠ সেই কয়েকটি উৎসবের একটি যেখানে অস্তগামী সূর্যেরও পূজা হয় — শেখায় পতনের কালেও কৃতজ্ঞ থাকো; সন্ধ্যার অর্ঘ্য সূর্যের পত্নী প্রত্যূষা এবং সকালের অর্ঘ্য ঊষাকে সমর্পিত বলে মানা হয়।

ঠেকুয়া কীভাবে তৈরি হয়?

গমের আটা, গলানো গুড়, ঘির ময়ান, মৌরি-নারকেল শক্ত করে মেখে কাঠের ছাঁচে টিপে এবং মৃদু আঁচে ঘিয়ে সোনালী করে ভাজুন — ওপরে ভোগ-খণ্ডে পরিমাণ দেওয়া আছে। বাজারের আটা নয়, ঘরে ধুয়ে-শুকিয়ে ভাঙানো আটা।

🔔 মনে করিয়ে দিন — প্রতি ব্রতের একদিন আগে

আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।

বার্তা Nakshtra Tak-এর তরফ থেকে আসবে; নম্বর অন্য কাউকে দেওয়া হয় না।

📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান

🌎 বিদেশে ছট পূজা (সূর্য ষষ্ঠী) 2026: আমেরিকা · কানাডা · যুক্তরাজ্য · অস্ট্রেলিয়া · সংযুক্ত আরব আমিরাত · কাতার · সৌদি আরব · কুয়েত · ওমান · বাহরাইন · সিঙ্গাপুর · মালয়েশিয়া · নিউজিল্যান্ড · দক্ষিণ আফ্রিকা · মরিশাস · ফিজি · নেদারল্যান্ডস · জার্মানি · আয়ারল্যান্ড

আরও পড়ুন: দীপাবলি (6 দিন আগে) · ভাই দুই · আপনার শহরের সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত · সূর্য-মন্ত্র এবং আরতি

⚠️ এই বিবরণ ঐতিহ্যবাহী বিধি ও লোকবিশ্বাসের ওপর আধারিত; আপনার কুল-পরিবারের রীতি সর্বেসর্বা। অর্ঘ্যের সময় শহরের সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের ওপর নির্ভর করে — আপনার শহরের পঞ্জিকা দেখুন। ঘাটে সুরক্ষা সর্বাগ্রে।

🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার