🌅 চৈতী ছট (চৈত্র শুক্ল ষষ্ঠী — সূর্য ষষ্ঠী) 2027
চৈত্র নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে — বছরের প্রথম ছট; নহায়-খায়, খরনা, সন্ধ্যা-অর্ঘ্য, ঊষা-অর্ঘ্য — কার্তিক ছটেরই বিধি, গরমের শুরুতে; বিহার-ঝাড়খণ্ড-পূর্বাঞ্চল-নেপালের ব্রতী মায়েরা; উপরে চার দিন ও সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়।
- নাহাই-খাই (চতুর্থী) শনিবার, 10 এপ্রিল 2027
- খারা (পংচমী)-রাত গুড়-খীর, তারপর 36 ঘন্টা নির্জলীভূত - রবিবার, 11 এপ্রিল 2027
- সন্ধ্যা আর্গ্য (ষষ্ঠী)-প্রধান দিন সোমবার, 12 এপ্রিল 2027
- উষা আরঘ্য (সপ্তমী)-পারণ মংগলবার, 13 এপ্রিল 2027
চৈতী ছট হয় চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতে — চৈত্র নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে, রাম নবমীর তিন দিন আগে (মার্চ-এপ্রিল)। এটি বছরের প্রথম ছট (দ্বিতীয়টি কার্তিক শুক্ল ষষ্ঠীর বিখ্যাত ছট, দীপাবলির ছয় দিন পরে); বিধি হুবহু এক — চার দিন: নহায়-খায় (চতুর্থী), খরনা (পঞ্চমী — সন্ধ্যায় গুড়ের পায়েসের পর 36 ঘণ্টা নির্জলা), সন্ধ্যা-অর্ঘ্য (ষষ্ঠী — অস্তগামী সূর্যকে), ঊষা-অর্ঘ্য (সপ্তমী — উদীয়মান সূর্যকে, পারণ)। কার্তিকের ছটের চেয়ে ভিড় কম, কিন্তু সমান কঠোর — আর গরমের শুরুতে নির্জলা থাকা কঠিন।
ছঠী মাইয়া (ষষ্ঠী দেবী — সূর্যের বোন/ব্রহ্মার মানসকন্যা, সন্তান-রক্ষিকা) ও সূর্যদেবের এই ব্রত মায়েরা সন্তানের দীর্ঘায়ু-স্বাস্থ্য ও মানত পূরণের জন্য রাখেন; ঠেকুয়া-কসার, আখ, নারকেল, ডাভ-নিম্বু (বড় লেবু), বাঁশের কুলো-ডালা (সুপ-দউরা), ঘাটে কোমর-জলে দাঁড়িয়ে অর্ঘ্য। চৈতী ছট মূলত বিহার-ঝাড়খণ্ড-পূর্ব উত্তর প্রদেশ ও নেপাল-তরাইয়ে; যাঁদের মানত চৈত্রে পূর্ণ হয়েছে বা যাঁরা দুটি ছটই রাখেন। উপরে এই বছরের চার দিনের তিথি ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত (দিল্লি — আপনার শহরের সময় পঞ্জিকা থেকে); নিচে বিধি, সামগ্রী, কাহিনি, প্রসাদ ও রীতি — সংক্ষেপে, পূর্ণ বিবরণ কার্তিক-ছটের পাতায়।
গুরুত্ব — এটি ব্রত কেন
সূর্য-ষষ্ঠী: সূর্য (আরোগ্য-তেজ-আয়ুর দেবতা) ও ষষ্ঠী দেবীর (কাত্যায়নী/ছঠী মাইয়া — নবজাতকের ষষ্ঠী-পূজার দেবী) একসঙ্গে উপাসনা — তাই সন্তানের জন্য; ঋগ্বৈদিক সূর্য-উপাসনার লোক-রূপ, পুরোহিত-মূর্তি ছাড়াই — প্রকৃতির (জল-সূর্য-শস্য-আখ) পূজা; চৈত্রের শুক্ল ষষ্ঠী = স্কন্দ-ষষ্ঠী (কার্তিকেয় — দক্ষিণে) ও যমুনা-ছট (মথুরা-বৃন্দাবনে যমুনা-জয়ন্তী)-ও এই তিথিতেই।
কাহিনি: রাজা প্রিয়ব্রত-মালিনীর মৃত পুত্রকে ষষ্ঠী দেবী বাঁচিয়ে তোলেন; দ্রৌপদী পাণ্ডবদের রাজ্য ফিরে পাওয়ার জন্য ছট করেন (ধৌম্য ঋষির পরামর্শে); কর্ণ (সূর্য-পুত্র) রোজ কোমর-জলে দাঁড়িয়ে সূর্যকে অর্ঘ্য দিতেন; সীতা মুঙ্গেরে ছট করেন (রামের বনবাসের পর) — এটিই বিহারের ছট-পরম্পরার ভিত্তি; চৈতী ছট রামনবমীর আগে — রাম-জন্মের প্রস্তুতিতে সূর্যবংশের সূর্যের পূজা (লোক-ভাব)।
কঠোরতা: খরনার রাত থেকে ঊষা-অর্ঘ্য পর্যন্ত ~36 ঘণ্টা নির্জলা; শুদ্ধতা — নতুন উনুন (মাটির), আমকাঠ, পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া, পিতল-মাটির বাসন, ব্রতীরা মাটিতে শোন; ব্রত যাতে না ভাঙে তাই আগে পরিবারের সম্মতি; অর্ঘ্য কেবল সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়েই (সময় উপরে)।
পূজা-বিধি (ধাপে ধাপে)
এটি চৈতী ছটের চার দিনের ঘরোয়া বিধি — কার্তিক-ছটের মতোই; গরমে জল নিয়ে সাবধানতা সহ।
- নহায়-খায় (চতুর্থী): ব্রতী সকালে নদী/পুকুরে বা বাড়িতে স্নান করেন, ঘর-রান্নাঘর শুদ্ধ করা হয়, নতুন মাটির উনুন বা শুদ্ধ উনুন; এক বেলা সাত্ত্বিক আহার — আতপ চালের ভাত, ছোলার ডাল, সৈন্ধব লবণ-ঘিয়ে রাঁধা লাউয়ের তরকারি (পেঁয়াজ-রসুন নয়); পরিবারও তাই খায়; ব্রতী মাটিতে শোন।
- খরনা/লোহন্ডা (পঞ্চমী): সারাদিন নির্জলা উপবাস; সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের পর (সময় উপরে) মাটির উনুনে আমকাঠের আগুনে গুড়-চাল-দুধের রসিয়াও-পায়েস ও রুটি (ঘি মাখানো) — প্রথমে কলাপাতায় ছঠী মাইয়া ও সূর্যকে ভোগ, তারপর ব্রতী নিরিবিলিতে শান্তভাবে প্রসাদ গ্রহণ করেন (কোনো শব্দ যেন না হয় — শব্দ কানে এলে ব্রতী সেখানেই খাওয়া থামিয়ে দেন, এমনই রীতি), তারপর পরিবার-প্রতিবেশীকে; এরপর 36 ঘণ্টা নির্জলা।
- ষষ্ঠী — দিনের বেলা: প্রসাদ তৈরি — ঠেকুয়া (গমের আটা-গুড়/চিনি-ঘি, ছাঁচে ফেলে, আমকাঠের আগুনে), কসার (চালের গুঁড়ো-গুড়ের লাড্ডু), চালের লাড্ডু; কুলো-ডালা (বাঁশের ঝুড়ি) সাজানো — আখ (5/7টি, পাতা সহ), নারকেল (ছোবড়া সহ), ডাব (কচি নারকেল), লেবু (বড় — ডাভ-নিম্বু), কলা (কাঁদি), আপেল-কমলা-পেয়ারা-আতা, পানিফল, হলুদ-আদার গাছ, মুলো, সুথনি, আখ-কলা-লেবুর সঙ্গে প্রদীপ, পান-সুপারি, কুমকুম-সিঁদুর, আতপ চাল, ধূপ; নতুন হলুদ-লাল বস্ত্র।
- সন্ধ্যা-অর্ঘ্য (ষষ্ঠী — সূর্যাস্ত, সময় উপরে): পরিবার কুলো-ডালা মাথায় নিয়ে গান গাইতে গাইতে ঘাটে (নদী/পুকুর/বাড়ির কৃত্রিম কুণ্ড); ব্রতী কোমর-জলে পশ্চিমমুখী; অস্তগামী সূর্যকে দুধ-জলে অর্ঘ্য (কুলো হাতে নিয়ে, পরিবারের লোকেরা পালা করে), «ওঁ ঘৃণি সূর্যায় নমঃ»/ছটের গান («কেলবা কে পাত পর…», «কাঁচ হি বাঁস কে বহঁগিয়া»); প্রদীপ জ্বেলে ঘাটে রাত; ব্রতী নির্জলা, কেউ কেউ সারা রাত ঘাটে (কোসী-ভরাই — মানতকারীদের: আখের মণ্ডপে মাটির হাতি-কলস-12/24টি প্রদীপ)।
- ঊষা-অর্ঘ্য (সপ্তমী — সূর্যোদয়, সময় উপরে): ভোরে আবার ঘাটে, পূর্বমুখী, উদীয়মান সূর্যকে অর্ঘ্য; প্রসাদ বিতরণ (ঠেকুয়া-ফল — যে চায় তাকেই, «ছটের প্রসাদ» চেয়ে নেওয়া শুভ); বাড়ি ফিরে ছঠী মাইয়ার পূজা, ব্রতীর পারণ — আদা-গুড়-জল/ঠেকুয়া দিয়ে, তারপর আহার (সাদামাটা — লাউ-ভাত বা পায়েস); পরিবারকে প্রসাদ, পাড়া-গ্রামে বিতরণ।
- গরমে সাবধানতা: চৈত্রে তাপমাত্রা 35°+ — 36 ঘণ্টা নির্জলায় মাথা ঘোরা/লু লাগার ঝুঁকি — ব্রতী ছায়ায় থাকুন, অত্যন্ত দুর্বল লাগলে জল খান (দেবী ক্ষমা করেন — প্রাণ আগে); ঘাটে জলের গভীরতা ও পিছল দেখে নিন; বয়স্ক ব্রতীর সঙ্গে পরিবারের লোক থাকুন।
- মানত: সন্তান/রোগমুক্তি/বিবাহের মানত পূর্ণ হলে চৈতী বা কার্তিক ছট; কোসী-ভরাই (আখের মণ্ডপ, মাটির হাতি, 12/24টি প্রদীপ — সন্ধ্যা-অর্ঘ্যের পর বাড়িতে ও ঊষা-অর্ঘ্যে ঘাটে); দণ্ডবৎ-যাত্রা (বাড়ি থেকে ঘাট পর্যন্ত মাটিতে শুয়ে শুয়ে প্রণাম করে যাওয়া — মানতের রীতি, স্বাস্থ্য বুঝে)।
- বাড়িতেই ঘাট: নদী না থাকলে উঠোন/ছাদে কৃত্রিম কুণ্ড (প্লাস্টিকের টব/গর্ত), পশ্চিম-পূর্ব খোলা থাকে যেন; সূর্য দেখা যায় এমন জায়গা — মেঘ থাকলে সময় মেনে অর্ঘ্য; প্রবাসী পরিবার (দিল্লি-মুম্বাই-বেঙ্গালুরু) — ছট-ঘাট/যমুনা/সমুদ্রতট/সোসাইটির কুণ্ড।
পূজা-সামগ্রীর তালিকা
কুলো-ডালা, আখ, ঠেকুয়া-কসার, ডাভ-নিম্বু, মাটির উনুন — চৈতী ছটের তালিকা (কার্তিকের মতোই)।
- বাঁশের কুলো (2-4টি), দউরা/ডালা (ঝুড়ি), মাটির উনুন, আমকাঠ, পিতল/মাটির বাসন, কলাপাতা
- আখ (5-7টি, পাতা সহ), নারকেল (ছোবড়া সহ), ডাব (কচি নারকেল), বড় লেবু (ডাভ-নিম্বু), কলা (কাঁদি), আপেল-কমলা-পেয়ারা-আতা-আনারস, পানিফল, মুলো, সুথনি, হলুদ-আদা (গাছ সহ), রাঙা আলু, পান-সুপারি
- ঠেকুয়া: গমের আটা, গুড়/চিনি, ঘি, মৌরি, নারকেল, ছাঁচ; কসার/লাড্ডু: চালের গুঁড়ো, গুড়; খরনা: আতপ চাল, গুড়, দুধ, গমের আটা (রুটি), ঘি
- নহায়-খায়: আতপ চাল, ছোলার ডাল, কুমড়ো/লাউ, সৈন্ধব লবণ, ঘি
- পূজা: সিঁদুর (লম্বা — নাক পর্যন্ত, ব্রতীর), কুমকুম, হলুদ, আতপ চাল, ধূপ-দীপ (মাটির প্রদীপ, ঘি/সরষের তেল), কর্পূর, ধূপকাঠি, চন্দন, ফুল (গাঁদা-পদ্ম), মৌলি, হলুদ-লাল নতুন বস্ত্র (শাড়ি/ধুতি)
- অর্ঘ্য: পিতল/তামার ঘটি (দুধ-জল), কুলোয় প্রসাদ-ফল-প্রদীপ; কোসী (মানত): মাটির হাতি, কলস, 12/24টি প্রদীপ, আখের মণ্ডপ
- ছটের গান/কাহিনি; গরম: ছাতা-ছায়া, ORS (পারণের পর), পরিবারের জন্য জল
🛍 পূজা-সামগ্রী ও যন্ত্র দেখুন 🙏 পূজা বুক করুন
সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, রাহুকাল ও চৌঘড়িযা — আপনার শহরের সঠিক সময় অনুযায়ী, বিনামূল্যে।
পঞ্জিকা দেখুন →ব্রত-কথা
রাজা প্রিয়ব্রত ও রানি মালিনী নিঃসন্তান ছিলেন; কশ্যপ ঋষির যজ্ঞে পুত্র হল, কিন্তু মৃত অবস্থায় জন্মাল; শোকে রাজা প্রাণ দিতে চললেন, তখন আকাশ থেকে দেবী ষষ্ঠী আবির্ভূত হলেন — «আমি ব্রহ্মার মানসকন্যা ষষ্ঠী, সন্তানের রক্ষাকর্ত্রী; যে আমার পূজা করবে সে সন্তান-সুখ পাবে» — দেবী শিশুটিকে বাঁচিয়ে তুললেন; রাজা চৈত্র/কার্তিক শুক্ল ষষ্ঠীতে ছট-ব্রত শুরু করলেন — ছঠী মাইয়ার পূজার মূল এটিই।
📖 সন্ধ্যা সাতের পুরো উপবাসের গল্পটি পড়ুন।
ঠেকুয়া, কসার, রসিয়াও-পায়েস, লাউ-ভাত, ফল-আখ — ছটের প্রসাদ
ছটের প্রসাদ তৈরি হয় সম্পূর্ণ শুদ্ধতায় — মাটির উনুনে/আমকাঠের আগুনে, পিতল-মাটির বাসনে, স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্রে; নহায়-খায়ে লাউ-ভাত, খরনায় গুড়ের পায়েস-রুটি, অর্ঘ্যে ঠেকুয়া-কসার-ফল-আখ; গরমে ফল (তরমুজ-খরমুজ-আনারস-আখ) বেশি; পারণ আদা-গুড় দিয়ে।
- নহায়-খায়: আতপ চালের ভাত, ছোলার ডাল, সৈন্ধব লবণ-ঘিয়ে কুমড়ো/লাউয়ের তরকারি, কচি আম-টিকোরা (চৈত্র)
- খরনা: রসিয়াও (গুড়-চাল-দুধের পায়েস — মাটির উনুনে), ঘি-রুটি, কলা; প্রথমে ব্রতী নিরিবিলিতে, তারপর সবাই
- ঠেকুয়া (খজুরিয়া): গমের আটা + গুড়ের জল/চিনি + ঘি + মৌরি-নারকেল — ছাঁচে চেপে ঘিয়ে ভাজা; কসার: চালের গুঁড়ো + গুড়ের লাড্ডু; চালের লাড্ডু
- কুলোর ফল: কলা, আপেল, কমলা, পেয়ারা, আতা, আনারস, তরমুজ-খরমুজ (চৈত্র), নারকেল, ডাব, ডাভ-নিম্বু, আখ, পানিফল, মুলো, সুথনি, রাঙা আলু, আদা-হলুদ
- পারণ (ঊষা-অর্ঘ্যের পর): আদা-গুড়-জল, ঠেকুয়া, ফল; তারপর লাউ-ভাত/পায়েস — সাদামাটা; গরমে লেবু-জল-ORS
- নেপাল-তরাই: সেই একই ঠেকুয়া-ভুসবা (চাল-গুড়), সেল-রুটি (কিছু পরিবারে); ঝাড়খণ্ড: ঠেকুয়া-কসার, অরসা
বিভিন্ন এলাকার রীতি
পাটনার ঘাট, মুঙ্গেরের সীতা-চরণ, দেও-এর সূর্য-মন্দির, জনকপুরের ছট, দিল্লির যমুনা — চৈত্রে আয়োজন ছোট, কিন্তু ভক্তি সেই একই।
দাদি-দাদির কাছ থেকে শোনা রীতিনীতি, গল্প, গান বা খাবার-2-4 লাইন; আমরা আপনার এলাকার নাম একই পৃষ্ঠায় পড়তে এবং যোগ করতে চলেছি (ফোনটি দেখা যাবে না-কেবল জিজ্ঞাসা করার জন্য)।
✅ মিল গিলি-রিডিং 1-2 দিনে একই পৃষ্ঠায় যোগ করবে। ধন্যবাদ!কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ পাঠানো হচ্ছেকী করবেন, কী করবেন না
✅ কী করবেন
- চার দিন ক্রম মেনে — নহায়-খায়, খরনা (সন্ধ্যায় পায়েসের পর নির্জলা), সন্ধ্যা-অর্ঘ্য (সূর্যাস্ত — সময় উপরে), ঊষা-অর্ঘ্য (সূর্যোদয়)
- প্রসাদ মাটির উনুনে/আমকাঠে, পিতল-মাটির বাসনে, শুদ্ধ বস্ত্রে; বাড়িতে পেঁয়াজ-রসুন নয়
- গরমে ব্রতী ছায়ায় বিশ্রাম নিন, দুর্বল লাগলে জল খান (প্রাণ আগে); ঘাটে নিরাপত্তা ও জলের গভীরতা দেখে নিন
- প্রসাদ সবাইকে — যে চায় তাকে ঠেকুয়া; ঘাট পরিষ্কার রাখুন, আবর্জনা ফেলবেন না
- মানত পূর্ণ হলে কোসী-ভরাই; প্রথমবার যিনি রাখছেন তাঁর সঙ্গে অভিজ্ঞ ব্রতী থাকুন
❌ কী করবেন না
- সূর্যাস্ত/সূর্যোদয়ের সময় ছাড়া অর্ঘ্য নয়; মেঘ থাকলেও সময়মতো সূর্যের দিকে মুখ করেই অর্ঘ্য দিন
- খরনার পর জল-অন্ন নয় (কঠোর নিয়ম), কিন্তু লু-মাথাঘোরা-গর্ভাবস্থায় ব্রত ভাঙা পাপ নয় — দেবী তো মা
- এঁটো হাতে প্রসাদ/কুলো ছোঁয়া, ঘাটে চামড়ার জিনিস (বেল্ট-পার্স), প্লাস্টিক-থার্মোকল, নদীতে তেল-প্লাস্টিক — চলবে না
- ঘাটে হইচই-নেশা-বাজি; খরনার প্রসাদ খাওয়ার সময় ব্রতীকে ডাকা — চলবে না
- প্রস্তুতি ছাড়া 36 ঘণ্টা নির্জলা নয় — হৃদরোগী-ডায়াবেটিস রোগীরা ডাক্তারের পরামর্শ নিন; কার্তিকের মতোই কঠোর
☀️ ছট — সূর্য উপাসনা
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
চৈতী ছট 2027-এ কবে — চার দিন?
উপরে এই বছরের চার দিন দেওয়া আছে — নহায়-খায় (চৈত্র শুক্ল চতুর্থী), খরনা (পঞ্চমী), সন্ধ্যা-অর্ঘ্য (ষষ্ঠী — মুখ্য), ঊষা-অর্ঘ্য (সপ্তমী); চৈত্র নবরাত্রির চতুর্থ থেকে সপ্তম দিন, রাম নবমীর আগে; সূর্যাস্ত-সূর্যোদয় দিল্লির — নিজের শহরের পঞ্জিকা দেখুন।
চৈতী ছট আর কার্তিক ছটের পার্থক্য কী?
বিধি-প্রসাদ-কঠোরতা এক — দুটিই শুক্ল ষষ্ঠীর সূর্য-ছঠী মাইয়ার পূজা, চার দিনের; কার্তিকেরটি (দীপাবলির 6 দিন পরে, অক্টোবর-নভেম্বর) মুখ্য ও বিশাল (বিহার-ঝাড়খণ্ডে ছুটি, লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘাটে), চৈতী (মার্চ-এপ্রিল) বছরের প্রথম — মানতকারী/দুটিই পালনকারীরা রাখেন; চৈত্রে গরম — নির্জলা আরও কঠিন।
প্রথমবার কি চৈতী ছট দিয়ে শুরু করা যায়?
হ্যাঁ — যে কোনো ছট থেকে শুরু করা যায় (সাধারণত মানত পূর্ণ হলে বা বাড়ির পরম্পরা অনুযায়ী); একবার শুরু করলে প্রতি বছর (অন্তত কার্তিকে) রাখার রীতি, মাঝপথে ছাড়বেন না — রাখতে না পারলে পরিবারের অন্য কোনো ব্রতী বা ব্রাহ্মণ/প্রতিবেশীকে দিয়ে করান; প্রথমবার অভিজ্ঞ ব্রতীর সাহায্য নিন।
গরমে 36 ঘণ্টা নির্জলা কীভাবে থাকবেন?
খরনার পায়েস পেট ভরে খান, রাতে বিশ্রাম; অর্ঘ্যের দিন ছায়া-হাওয়াযুক্ত জায়গায় থাকুন, কথা কম বলুন, ঘাটে জলে দাঁড়িয়ে থাকলে শরীর ঠান্ডা থাকে; মাথা ঘোরা-বমি-অজ্ঞান হওয়ার লক্ষণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে জল-ORS — ব্রত খণ্ডিত ধরা হয় না (আপদ্-ধর্ম); গর্ভবতী/হৃদরোগী/ডায়াবেটিস রোগী রাখবেন না — পরিবারের অন্য কোনো মহিলা রাখুন; ঊষা-অর্ঘ্যের পর ধীরে পারণ (আগে আদা-গুড়-জল)।
ছঠী মাইয়া কে?
ষষ্ঠী দেবী — ব্রহ্মার মানসকন্যা, সূর্যের বোন (লোকবিশ্বাস), নবজাতকের ষষ্ঠী-পূজার দেবী (জন্মের ষষ্ঠ দিনে পূজা) — সন্তান-রক্ষিকা; কাত্যায়নীর (নবরাত্রির ষষ্ঠ দেবী) সঙ্গেও যুক্ত করা হয়; কোনো মূর্তি নেই — সূর্য-জল-শস্যে পূজা; দক্ষিণে স্কন্দ-মাতা/ষষ্ঠী, বাংলায় «ষষ্ঠী ঠাকরুন»।
নদী না থাকলে বাড়িতে ছট কীভাবে?
ছাদ/উঠোনে কৃত্রিম কুণ্ড (টব/গর্ত, যাতে কোমর বা হাঁটু-সমান জল), পূর্ব-পশ্চিম খোলা; কুলো-ডালা সেখানেই, সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়ে অর্ঘ্য; সোসাইটি-কুণ্ড/ছট-সমিতির ঘাটেও করা যায়; ভক্তি ও সময়ই মুখ্য — স্থান গৌণ।
আপনার WhatsApp নম্বর লিখুন — প্রতিটি বড় ব্রত-উৎসবের এক দিন আগে তিথি, মুহূর্ত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা মেসেজে পাবেন। বিনামূল্যে, যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারেন।
✅ নথিভুক্ত হয়েছে — পরের ব্রতের একদিন আগে বার্তা আসবে।কিছু ভুল হয়েছে — আবার চেষ্টা করুন⏳ নথিভুক্ত হচ্ছে…📲 সই-বান্ধবী ও পরিবারকে WhatsApp-এ পাঠান
আরও পড়ুন: কার্তিক ষষ্ঠ পূজা (সম্পূর্ণ বিবরণ) · চৈত্র নবরাত্রি (এই দিনগুলিতে) · রাম নবমী (3 দিন পরে) · রথ সপ্তমী (সূর্য-সপ্তমী)
⚠️ এই বিবরণ বিহার-ঝাড়খণ্ড-পূর্বাঞ্চল-নেপালের ঐতিহ্যবাহী ছট-রীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি; আপনার কুল-পরিবার ও ঘাটের রীতিই সর্বোপরি। চৈত্রের গরমে নির্জলা ব্রত স্বাস্থ্য বুঝে — গর্ভবতী, হৃদরোগী, ডায়াবেটিস রোগীরা রাখবেন না; সূর্যাস্ত-সূর্যোদয় নিজের শহরের পঞ্জিকা থেকে দেখুন।
🌐 Read this page in English · ← সমস্ত ব্রত-উৎসব · সম্পূর্ণ উৎসব-ক্যালেন্ডার
